ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জরুরি সহায়তার ঘোষণা এডিবির রাজধানীতে জ্বালানি অস্থিরতা, পাম্প বন্ধ, খোলা স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে নগরবাসী শহীদদের সন্তান ও আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার নির্দেশ পূর্ণাঙ্গ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ইরান টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার স্ত্রীকে গুলি করে স্বামীর আত্মহত্যা জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করে: রাষ্ট্রপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা মানবপাচার মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ৫ দিনের রিমান্ডে বিএনপি জনরায়কে আওয়ামী লীগের মতো ভয় পায়: গোলাম পরওয়ার

মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ইমামসহ নিহত ২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে বড় গোষ্ঠী ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে গত ১৭ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তেও সংঘর্ষে জড়িয়েছিল এ দুপক্ষ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বড় গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকেন তিনি।

পরে কারাগার থেকে বের হয়ে জিয়াউর রহমান শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরপর গত ১৭ মার্চ সকালে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এরই শোধ নিতে কয়েকদিন প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ফের বড় গোষ্ঠীর লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায় বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হন গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)। পরে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, কাছাকাছি সময়ে সংঘর্ষে আক্তার মিয়া নামেও একজন নিহত হন। এছাড়াও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী বলেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে দুজন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে সকালে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুজন মারা গেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ভিন্ন স্বাদের গরুর মাংস

মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ইমামসহ নিহত ২

আপডেট সময় ০৪:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে বড় গোষ্ঠী ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে গত ১৭ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তেও সংঘর্ষে জড়িয়েছিল এ দুপক্ষ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বড় গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকেন তিনি।

পরে কারাগার থেকে বের হয়ে জিয়াউর রহমান শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরপর গত ১৭ মার্চ সকালে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এরই শোধ নিতে কয়েকদিন প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ফের বড় গোষ্ঠীর লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায় বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হন গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)। পরে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, কাছাকাছি সময়ে সংঘর্ষে আক্তার মিয়া নামেও একজন নিহত হন। এছাড়াও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী বলেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে দুজন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে সকালে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুজন মারা গেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।