ঢাকা ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

ইরানের শেষ দেখে ছাড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত থামবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত কড়া ভাষায় তিনি বলেন, মার্কিন সেনারা সেখানে কোনো অন্তহীন যুদ্ধে জড়ায়নি বরং একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

গণমাধ্যমের সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে পিট হেগসেথ দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া রণকৌশল প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত সফল। মার্কিন জনগণের উদ্দেশ্যে সরাসরি বক্তব্য রাখতে গিয়ে হেগসেথ বলেন, সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে একটি চোরাবালি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমেরিকা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, নৌবাহিনী এবং তাদের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো ধ্বংস করে দিচ্ছে যেন তেহরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়।

এদিন সকালে নিহত মার্কিন সেনাদের দেহাবশেষ গ্রহণের অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হেগসেথ। সেখানে শোকাতুর পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মিশন শেষ করার যে আর্জি জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই বীরদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার্থেই আমেরিকা পিছু হটবে না।

ইরানের বর্তমান অবস্থাকে গাজার হামাসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি জানান, সুড়ঙ্গ এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান বিনিয়োগ করলেও মার্কিন বাহিনীর ‘অপ্রতিরোধ্য’ আক্রমণের সামনে তারা দিশেহারা। ইতিমধ্যে ৭ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং প্রতিদিন এই আক্রমণের তীব্রতা বাড়ছে। হেগসেথের দাবি, যুদ্ধের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি বিধ্বস্ত এবং তাদের নৌবাহিনীর ১২০টি জাহাজ হয় ক্ষতিগ্রস্ত, নয়তো ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সমুদ্রে তাদের আধিপত্য এখন ইতিহাস।

সংবাদ সম্মেলনে পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে ইরানি সামরিক বাহিনীর সিনিয়র লিডার হওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, কারণ তাদের ধ্বংস হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানকে থামিয়ে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ইউরোপের ‘অকৃতজ্ঞ’ মিত্রদেরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানানো উচিত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শেষ দেখে ছাড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় ০৭:১০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত থামবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত কড়া ভাষায় তিনি বলেন, মার্কিন সেনারা সেখানে কোনো অন্তহীন যুদ্ধে জড়ায়নি বরং একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

গণমাধ্যমের সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে পিট হেগসেথ দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া রণকৌশল প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত সফল। মার্কিন জনগণের উদ্দেশ্যে সরাসরি বক্তব্য রাখতে গিয়ে হেগসেথ বলেন, সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে একটি চোরাবালি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমেরিকা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, নৌবাহিনী এবং তাদের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো ধ্বংস করে দিচ্ছে যেন তেহরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়।

এদিন সকালে নিহত মার্কিন সেনাদের দেহাবশেষ গ্রহণের অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হেগসেথ। সেখানে শোকাতুর পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মিশন শেষ করার যে আর্জি জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই বীরদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার্থেই আমেরিকা পিছু হটবে না।

ইরানের বর্তমান অবস্থাকে গাজার হামাসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি জানান, সুড়ঙ্গ এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান বিনিয়োগ করলেও মার্কিন বাহিনীর ‘অপ্রতিরোধ্য’ আক্রমণের সামনে তারা দিশেহারা। ইতিমধ্যে ৭ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং প্রতিদিন এই আক্রমণের তীব্রতা বাড়ছে। হেগসেথের দাবি, যুদ্ধের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি বিধ্বস্ত এবং তাদের নৌবাহিনীর ১২০টি জাহাজ হয় ক্ষতিগ্রস্ত, নয়তো ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সমুদ্রে তাদের আধিপত্য এখন ইতিহাস।

সংবাদ সম্মেলনে পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে ইরানি সামরিক বাহিনীর সিনিয়র লিডার হওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, কারণ তাদের ধ্বংস হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানকে থামিয়ে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ইউরোপের ‘অকৃতজ্ঞ’ মিত্রদেরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানানো উচিত।