ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

লঞ্চচাপায় ছেলে নিহত, বাবা নিখোঁজ, ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে পুরো গ্রামে, অনিশ্চিত জীবনের মুখে পরিবার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মা ও নাবালক তিন বোন বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন। বাবার সঙ্গে রাজধানী থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সোহেল ফকির ও তার স্ত্রী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে পৌঁছাতেন। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরকাটা গ্রামের ফকির বাড়িতে থাকতো ঈদের আনন্দ। বুধবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাটের দুর্ঘটনা শুধু ফকির বাড়িতে নয়, পুরো গ্রামেই ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে। উপার্জনক্ষম দুইজনকে হারিয়ে সোহেলের পরিবার অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সোহেলের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছায়। বাবা মিরাজ ফকির এখনও বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ। রাজধানীর মির্ডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার। মা ও বোনসহ স্বজদের আহাজারিতে ওই বাড়িতে আসা অনেক গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে সোহেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার খবর জানার পর বুধবার রাত থেকেই মৃধা বাড়িতে গ্রামাবাসীর ভিড় ছিল। মরদেহ পৌঁছার পর মা ও বোনসহ স্বজনদের আর্ত চিৎকারে উপস্থিত সকলে আবেগ আপ্লুত হন। জোহরের নামাজের পর গ্রামের নুর মোহম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে সোহেলকে দাফন করা হয়।

তার চাচা ফারুক ফকির জানান, ভাই মিরাজ ফকির (সোহেলের বাবা) ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ঢাকায় যান। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ৫ বছর আগে একমাত্র ছেলে সোহেলকেও নিয়ে যান। সে বাবার পেশায় যুক্ত হয়। বছর দুয়েক আগে সোহেল বিয়ে করে। স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার বোনাস পেলে ঈদ উদযাপনের জন্য তারা বাড়িতে রওনা হয়েছিলেন।

ফারুক ফকির জানান, সোহেলর মা নাবালক তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মিরাজ ও ভাতিজা সোহেল ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে মা ও তিন বোনের দেখার কেউ রইলো না। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক ফকির।

প্রসঙ্গত, মিরাজ, সোহেল ও তার স্ত্রী মেহেন্দিগঞ্জ যাওযার জন্য বুধবার বিকাল ৫টার দিকে একটি ট্রলারে রাজধানীর সদরঘাটে পৌঁছান। ট্রলার থেকে তারা ‘আসা-যাওয়া’ নামক লঞ্চে উঠছিলেন। এ সময়ে জাকির সম্রাট-৩ নামের আরেকটি লঞ্চ চাপা দিলে সোহেল নিহত হন। তার বাবা মিরাজ বুড়িগঙ্গায় পড়ে নিঁখোজ এবং সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

লঞ্চচাপায় ছেলে নিহত, বাবা নিখোঁজ, ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে পুরো গ্রামে, অনিশ্চিত জীবনের মুখে পরিবার

আপডেট সময় ০৫:১৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মা ও নাবালক তিন বোন বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন। বাবার সঙ্গে রাজধানী থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সোহেল ফকির ও তার স্ত্রী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে পৌঁছাতেন। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরকাটা গ্রামের ফকির বাড়িতে থাকতো ঈদের আনন্দ। বুধবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাটের দুর্ঘটনা শুধু ফকির বাড়িতে নয়, পুরো গ্রামেই ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে। উপার্জনক্ষম দুইজনকে হারিয়ে সোহেলের পরিবার অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সোহেলের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছায়। বাবা মিরাজ ফকির এখনও বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ। রাজধানীর মির্ডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার। মা ও বোনসহ স্বজদের আহাজারিতে ওই বাড়িতে আসা অনেক গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে সোহেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার খবর জানার পর বুধবার রাত থেকেই মৃধা বাড়িতে গ্রামাবাসীর ভিড় ছিল। মরদেহ পৌঁছার পর মা ও বোনসহ স্বজনদের আর্ত চিৎকারে উপস্থিত সকলে আবেগ আপ্লুত হন। জোহরের নামাজের পর গ্রামের নুর মোহম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে সোহেলকে দাফন করা হয়।

তার চাচা ফারুক ফকির জানান, ভাই মিরাজ ফকির (সোহেলের বাবা) ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ঢাকায় যান। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ৫ বছর আগে একমাত্র ছেলে সোহেলকেও নিয়ে যান। সে বাবার পেশায় যুক্ত হয়। বছর দুয়েক আগে সোহেল বিয়ে করে। স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার বোনাস পেলে ঈদ উদযাপনের জন্য তারা বাড়িতে রওনা হয়েছিলেন।

ফারুক ফকির জানান, সোহেলর মা নাবালক তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মিরাজ ও ভাতিজা সোহেল ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে মা ও তিন বোনের দেখার কেউ রইলো না। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক ফকির।

প্রসঙ্গত, মিরাজ, সোহেল ও তার স্ত্রী মেহেন্দিগঞ্জ যাওযার জন্য বুধবার বিকাল ৫টার দিকে একটি ট্রলারে রাজধানীর সদরঘাটে পৌঁছান। ট্রলার থেকে তারা ‘আসা-যাওয়া’ নামক লঞ্চে উঠছিলেন। এ সময়ে জাকির সম্রাট-৩ নামের আরেকটি লঞ্চ চাপা দিলে সোহেল নিহত হন। তার বাবা মিরাজ বুড়িগঙ্গায় পড়ে নিঁখোজ এবং সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হন।