ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: হাসনাত আবদুল্লাহ চাঁদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হরমুজে প্রতিটি হামলার জন্য একটি করে ইরানি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্প ২১ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ বছর দেশে জনগণের নির্বাচিত সরকার ছিল না: খায়রুল কবির খোকন পোশাক শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

মাংস দেওয়ার নামে ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও সমবায় সমিতির পরিচালকরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঈদকে সামনে রেখে মাংস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সারা বছর কিস্তিতে টাকা জমা নিয়ে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে একটি সমবায় সমিতির পরিচালকরা। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া শহর-এর মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকায়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নির্ধারিত দিনে মাংস নিতে এসে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগীরা। এতে প্রায় ১২০০ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালগ্রাম নতুনপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিম, আকরাম ও শাহিন নামের তিন ব্যক্তি ‘ফোর স্টার বিজনেস সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তারা ঈদ উপলক্ষে সারা বছর সাপ্তাহিক কিস্তিতে টাকা জমা নিয়ে শেষে মাংস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

সমিতির সদস্যদের দাবি, প্রতি কার্ডের মূল্য ছিল ৫ হাজার টাকা। অনেক পরিবার একাধিক কার্ড নেওয়ায় মোট প্রায় ৭৭ লাখ টাকা জমা পড়ে। তবে নির্ধারিত ১৫ মার্চ মাংস বিতরণ না করে তা পিছিয়ে ১৭ মার্চ করা হলেও সেদিনও কোনো কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যায়নি।

চাপড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা পারুল বলেন, অনেক কষ্ট করে প্রতি সপ্তাহে অল্প অল্প করে টাকা জমা দিয়েছিলেন, যাতে ঈদে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে কাটাতে পারেন। কিন্তু এখন সবই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অন্য ভুক্তভোগী আখলি বেগম জানান, ১০ থেকে ১২ কেজি মাংস পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু এখন শুনছেন তারা পালিয়ে গেছে, ফলে ঈদে মাংস খাওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর সমিতির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন

মাংস দেওয়ার নামে ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও সমবায় সমিতির পরিচালকরা

আপডেট সময় ০৩:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঈদকে সামনে রেখে মাংস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সারা বছর কিস্তিতে টাকা জমা নিয়ে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে একটি সমবায় সমিতির পরিচালকরা। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া শহর-এর মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকায়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নির্ধারিত দিনে মাংস নিতে এসে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগীরা। এতে প্রায় ১২০০ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালগ্রাম নতুনপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিম, আকরাম ও শাহিন নামের তিন ব্যক্তি ‘ফোর স্টার বিজনেস সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তারা ঈদ উপলক্ষে সারা বছর সাপ্তাহিক কিস্তিতে টাকা জমা নিয়ে শেষে মাংস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

সমিতির সদস্যদের দাবি, প্রতি কার্ডের মূল্য ছিল ৫ হাজার টাকা। অনেক পরিবার একাধিক কার্ড নেওয়ায় মোট প্রায় ৭৭ লাখ টাকা জমা পড়ে। তবে নির্ধারিত ১৫ মার্চ মাংস বিতরণ না করে তা পিছিয়ে ১৭ মার্চ করা হলেও সেদিনও কোনো কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যায়নি।

চাপড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা পারুল বলেন, অনেক কষ্ট করে প্রতি সপ্তাহে অল্প অল্প করে টাকা জমা দিয়েছিলেন, যাতে ঈদে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে কাটাতে পারেন। কিন্তু এখন সবই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অন্য ভুক্তভোগী আখলি বেগম জানান, ১০ থেকে ১২ কেজি মাংস পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু এখন শুনছেন তারা পালিয়ে গেছে, ফলে ঈদে মাংস খাওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর সমিতির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।