ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে হোটেল থেকে অপহরণ চেষ্টা, আটক ১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন ফকিরাপুলে একটি আবাসিক হোটেলে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয়ে দুই জনকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে হোটেল এরোমাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ চক্রের একজনকে গ্রেফতার করলেও তিনজন পালিয়ে গেছে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগীরা হলেন- মোহাম্মদ শহিদ মিয়া (৫৫) ও আন্দুল মিয়া (৪২)। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দ্রপুর এলাকায়। গ্রেফতার রাসেল (৩৬) পুব বিবাড়ী সদরের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। পলাতক তিনজন একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুজন পাসপোর্ট করতে সুনামগঞ্জ থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আসেন। সেখান থেকে কাজ শেষে হোটেল এরোমাতে উঠেন। তারা রুমে অবস্থানকালে বাইরে থেকে চারজন ব্যক্তি দরজায় ধাক্কা দেয়। তাদের হাতে ওয়াকিটকিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন উপকরণ দেখা গেছে। তারা প্রথমে নিজেদেরকে একটি বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগী দুজনকে তুলে নিয়ে যেতে চায়। এ সময় হোটেল কতৃপক্ষ বাধা দেন এবং তাদের পরিচয় জানতে চান। এছাড়া থানা পুলিশের উপস্থিতি ছাড়া হোটেল থেকে কাউকে গ্রেফতার করে নেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়। তখন অপহরণ চক্রের সদস্যরা নিজেদের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয় দেন।

ভুক্তভোগীদের এক স্বজন জানান, অপহরণ চক্রের সদস্যদের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে হোটেলের এক কর্মী জাতীয় জরুরী সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল দেন। তখন মতিঝিল থানা পুলিশের একটি দল এরোমা হোটেলে আসে। বিষয়টি টের পেয়ে অপহরণ চক্রের তিনজন মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। তবে পালানোর সময় চক্রের আরেক সদস্য রাসেলকে আটক করা হয়। মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেট হলো- ঢাকা মেট্রো-ল, ৬৩১৮৯৭।

মতিঝিল থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, দুজনকে অপহরণের চেষ্টার তথ্য পেয়ে ঘনটাস্থলে গিয়ে রাসেল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তিনজন পালিয়ে গেছে। আটককৃত ব্যক্তি ভুক্তভোগীদের পূর্ব পরিচিত। এছাড়া যারা পালিয়েছে, তারা কোন গোয়েন্দা সংস্থার কিনা, সেটি জানতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীরা ৪-৫ বছর আগে তুরস্কে ছিলেন। তবে বর্তমানে দেশেই থাকছেন।

এ বিষয়ে জানতে হোটেল এরোমার ম্যানেজার শহিদুল ইসলামকে একাধিকবার কল করা হলেও ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস করা হলেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে হোটেল থেকে অপহরণ চেষ্টা, আটক ১

আপডেট সময় ০৯:৫১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন ফকিরাপুলে একটি আবাসিক হোটেলে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয়ে দুই জনকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে হোটেল এরোমাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ চক্রের একজনকে গ্রেফতার করলেও তিনজন পালিয়ে গেছে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগীরা হলেন- মোহাম্মদ শহিদ মিয়া (৫৫) ও আন্দুল মিয়া (৪২)। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দ্রপুর এলাকায়। গ্রেফতার রাসেল (৩৬) পুব বিবাড়ী সদরের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। পলাতক তিনজন একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুজন পাসপোর্ট করতে সুনামগঞ্জ থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আসেন। সেখান থেকে কাজ শেষে হোটেল এরোমাতে উঠেন। তারা রুমে অবস্থানকালে বাইরে থেকে চারজন ব্যক্তি দরজায় ধাক্কা দেয়। তাদের হাতে ওয়াকিটকিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন উপকরণ দেখা গেছে। তারা প্রথমে নিজেদেরকে একটি বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগী দুজনকে তুলে নিয়ে যেতে চায়। এ সময় হোটেল কতৃপক্ষ বাধা দেন এবং তাদের পরিচয় জানতে চান। এছাড়া থানা পুলিশের উপস্থিতি ছাড়া হোটেল থেকে কাউকে গ্রেফতার করে নেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়। তখন অপহরণ চক্রের সদস্যরা নিজেদের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয় দেন।

ভুক্তভোগীদের এক স্বজন জানান, অপহরণ চক্রের সদস্যদের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে হোটেলের এক কর্মী জাতীয় জরুরী সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল দেন। তখন মতিঝিল থানা পুলিশের একটি দল এরোমা হোটেলে আসে। বিষয়টি টের পেয়ে অপহরণ চক্রের তিনজন মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। তবে পালানোর সময় চক্রের আরেক সদস্য রাসেলকে আটক করা হয়। মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেট হলো- ঢাকা মেট্রো-ল, ৬৩১৮৯৭।

মতিঝিল থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, দুজনকে অপহরণের চেষ্টার তথ্য পেয়ে ঘনটাস্থলে গিয়ে রাসেল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তিনজন পালিয়ে গেছে। আটককৃত ব্যক্তি ভুক্তভোগীদের পূর্ব পরিচিত। এছাড়া যারা পালিয়েছে, তারা কোন গোয়েন্দা সংস্থার কিনা, সেটি জানতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীরা ৪-৫ বছর আগে তুরস্কে ছিলেন। তবে বর্তমানে দেশেই থাকছেন।

এ বিষয়ে জানতে হোটেল এরোমার ম্যানেজার শহিদুল ইসলামকে একাধিকবার কল করা হলেও ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস করা হলেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।