আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :
তিন মাসেরও বেশি সময়ের বিরতি কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে টাইগারদের নতুন পথচলা। জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স মনে করছেন, মিরপুরের এই সিরিজটিই মূলত বাংলাদেশের ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যাত্রার প্রথম ধাপ।
আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ। সরাসরি সেই টুর্নামেন্টে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে র্যাঙ্কিংয়ে অন্তত শীর্ষ আটে থাকতে হবে বাংলাদেশকে, যেখানে দলটির বর্তমান অবস্থান দশ নম্বরে।
মিরপুরে সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচ সিমন্স জানান, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটিকে তারা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘দলের মূল লক্ষ্য শুধু আট নম্বরে উঠে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা নয়, বরং র্যাঙ্কিংয়ের আরও ওপরে ওঠা। কোয়ালিফিকেশনের সময় আমরা যদি ছয় বা সাত নম্বরে থাকতে পারি, তবে সেটি হবে দারুণ অগ্রগতি। তবে তার জন্য আমাদের আরও উন্নত ক্রিকেট খেলতে হবে।’
এই সিরিজে ব্যাটিং অর্ডারে বড় একটি পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন সিমন্স। উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন দাসকে ওপেনিং থেকে সরিয়ে মিডল অর্ডারে খেলানোর পরিকল্পনা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এর ব্যাখ্যায় কোচ বলেন, ‘একজন ওপেনারের জন্য ৫০ ওভার কিপিং করা খুব কঠিন। এ ছাড়া সে স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে আমাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তাই সে মিডল অর্ডারে থাকলে আমাদের অনেক সাহায্য হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মিডল অর্ডার আমাদের অন্যতম দুর্বল জায়গা ছিল। আশা করি, তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে আমরা সেখানে কাঙ্ক্ষিত ফল পাব।’
সর্বশেষ ২০১৫ সালে ঢাকায় হওয়া ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে ‘বাংলাওয়াশ’ করেছিল বাংলাদেশ। এবারও ভালো ফলের আশা থাকলেও প্রতিপক্ষের শক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন সিমন্স। র্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বরে থাকা পাকিস্তান দলে এবার অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নতুন মুখ রয়েছেন, যাদের এখনও ওয়ানডে অভিষেক হয়নি।
তবে এই নতুনদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে সিমন্স বলেন, ‘পাকিস্তান সব সময়ই প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করে। তাই নতুন হলেও তারা বিপজ্জনক হতে পারে। তাছাড়া তারা অবশ্যই আগের ফলের (২০১৫ সালের) পুনরাবৃত্তি হতে দিতে চাইবে না এবং সিরিজে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।’
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার হতাশা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ দল। সিমন্স অকপটেই স্বীকার করেন, ‘এটা খেলোয়াড়দের জন্য খুব কষ্টদায়ক ছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা সত্যিই ভীষণ কষ্ট পেয়েছে।’ তবে কোচের মতে, বিপিএলের পর বিসিএলের টুর্নামেন্টটি খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে সতেজ হতে সাহায্য করেছে। এখন সেই হতাশা ভুলে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মনোযোগ ফিরিয়ে এই সিরিজের দিকেই তাকিয়ে আছে দল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















