ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : মির্জা ফখরুল জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভা ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে, সব দোষ ইসরাইলের: কংগ্রেসম্যান ম্যাসি আমিরাতের ভিসা জটিলতার সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে : নুরুল হক নুর দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩ বাংলাদেশিসহ অপহরণ ৪, আতঙ্কে প্রবাসীরা শাপলা চত্বরে হত্যা মামলা:শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা যুক্তরাষ্ট্রে ফুড ফেস্টিভ্যালে বন্দুকহামলা, নিহত ২ বিরতির পর আজ শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী

যুদ্ধ শুরু করা সহজ, শেষ করা কঠিন: ট্রাম্পকে লন্ডনের মেয়র

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলায় যোগ না দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে স্টারমার একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শনিবার (৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে সাদিক খান জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতাই যুক্তরাজ্যের জন্য মঙ্গলজনক, বিশৃঙ্খলা বা রক্তপাত কোনো সমাধান নয়। তিনি এই সংঘাতকে একটি ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেন যে এতে জড়িয়ে পড়লে কেবল সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আর অপ্রয়োজনীয় প্রাণহানিই বাড়বে।

সাদিক খান আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই সামরিক অভিযানে অংশ নিলে ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানি তেলের দাম, খাদ্যমূল্য এবং বন্ধকির কিস্তির বোঝা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তার মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার যে অগ্রগতি হয়েছে, যুদ্ধের কারণে তা নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে। যদিও তিনি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর দমনপীড়নের নিন্দা জানিয়েছেন, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই সামরিক পদক্ষেপ সঠিক পথ নয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী স্টারমারও তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছিলেন, কোনো চাপ তাকে তার নীতি ও মূল্যবোধ থেকে সরাতে পারবে না এবং আলোচনার মাধ্যমেই ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব।

জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক মহলের সম্মতি ছাড়া এই হামলা শুরু করায় এর সমালোচনা করে সাদিক খান বলেন, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও শেষ করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাজ্যের উচিত কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে মনোযোগ দেওয়া।

এদিকে, সাদিক খানের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বরাবরের মতোই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প লন্ডনের মেয়রকে ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। তবে মেয়রের মুখপাত্র পাল্টা জবাবে বেশ রসিকতার সাথেই বলেন, সাদিক খান এখনো ট্রাম্পের মাথায় জেঁকে বসে আছেন এবং ট্রাম্প তাকে নিয়ে কিছুটা বেশিই আবিষ্ট।

২০১৭ সাল থেকেই ট্রাম্প ও সাদিক খানের মধ্যে এমন বাকযুদ্ধ চলে আসছে, যা এই যুদ্ধের আবহে নতুন মাত্রা পেল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : মির্জা ফখরুল

যুদ্ধ শুরু করা সহজ, শেষ করা কঠিন: ট্রাম্পকে লন্ডনের মেয়র

আপডেট সময় ১২:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলায় যোগ না দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে স্টারমার একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শনিবার (৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে সাদিক খান জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতাই যুক্তরাজ্যের জন্য মঙ্গলজনক, বিশৃঙ্খলা বা রক্তপাত কোনো সমাধান নয়। তিনি এই সংঘাতকে একটি ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেন যে এতে জড়িয়ে পড়লে কেবল সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আর অপ্রয়োজনীয় প্রাণহানিই বাড়বে।

সাদিক খান আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই সামরিক অভিযানে অংশ নিলে ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানি তেলের দাম, খাদ্যমূল্য এবং বন্ধকির কিস্তির বোঝা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তার মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার যে অগ্রগতি হয়েছে, যুদ্ধের কারণে তা নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে। যদিও তিনি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর দমনপীড়নের নিন্দা জানিয়েছেন, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই সামরিক পদক্ষেপ সঠিক পথ নয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী স্টারমারও তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছিলেন, কোনো চাপ তাকে তার নীতি ও মূল্যবোধ থেকে সরাতে পারবে না এবং আলোচনার মাধ্যমেই ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব।

জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক মহলের সম্মতি ছাড়া এই হামলা শুরু করায় এর সমালোচনা করে সাদিক খান বলেন, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও শেষ করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাজ্যের উচিত কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে মনোযোগ দেওয়া।

এদিকে, সাদিক খানের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বরাবরের মতোই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প লন্ডনের মেয়রকে ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। তবে মেয়রের মুখপাত্র পাল্টা জবাবে বেশ রসিকতার সাথেই বলেন, সাদিক খান এখনো ট্রাম্পের মাথায় জেঁকে বসে আছেন এবং ট্রাম্প তাকে নিয়ে কিছুটা বেশিই আবিষ্ট।

২০১৭ সাল থেকেই ট্রাম্প ও সাদিক খানের মধ্যে এমন বাকযুদ্ধ চলে আসছে, যা এই যুদ্ধের আবহে নতুন মাত্রা পেল।