ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঋতুপর্ণাকে নিয়ে চিন্তায় উত্তর কোরিয়ার কোচ

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

নারী এশিয়ান কাপে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপের অন্য দুই দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন নারী জাতীয় ফুটবল দল এবং সাবেক চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া নারী জাতীয় ফুটবল দল। ১২ দলের এই আসরে সবচেয়ে ভালো ফিফা র‌্যাংকিং (৭) উত্তর কোরিয়ার।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার কোচ বাংলাদেশ দলকে নিয়ে প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনজন খেলোয়াড়কে ঘিরে শঙ্কার কথাও জানান।

এবারই এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অভিষেক। প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে পিটার বাটলারের দল দারুণ লড়াই করেছে। সেই ম্যাচ দেখেই উত্তর কোরিয়ার কোচের উপলব্ধি, ‘আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।’ বাংলাদেশের শক্তির জায়গা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুত। বিশেষ করে রক্ষণ থেকে আক্রমণে তারা বেশ দক্ষ এবং তীক্ষ্ণ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশ খুব দ্রুতগতির দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়।’

বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড় উত্তর কোরিয়ার জন্য হুমকি হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে কোচ রি সন হো বলেন, ‘মূলত আমি আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী (ঋতুপর্ণা চাকমা) নিয়ে আমি সতর্ক, যিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারেন।’

এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষেও বাংলাদেশের ঋতুপর্ণা ও মনিকারা ডিফেন্স ভাঙার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমা ক্ষিপ্রগতিতে বল কেড়ে নিয়ে দূর থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন। সেটি গোল হলে টুর্নামেন্টের সেরা গোলের তালিকায় থাকত।

ঋতুপর্ণার জার্সি নম্বর উল্লেখ করলেও বাকি দুই খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর স্পষ্ট করেননি উত্তর কোরিয়ার কোচ। তবে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একটু আগেই বলেছি তাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের গতি অনেক বেশি। আক্রমণ এবং রক্ষণ উভয়ক্ষেত্রেই তাদের গতি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তাই আগামীকাল ম্যাচে এই খেলোয়াড়দের রুখতে আমাদের রক্ষণভাগকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।’

১২ দলের এই টুর্নামেন্টে তিনটি গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দুই দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। আগামীকাল চীন ও উত্তর কোরিয়া নিজেদের ম্যাচ জিতলে দুই দলেরই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে। তখন শেষ ম্যাচটি হবে গ্রুপসেরা নির্ধারণের লড়াই। গোল ব্যবধান বাড়ানোর কৌশল নিয়ে কোচ বলেন, ‘আমি পরিস্থিতি বুঝতে পারছি যে দু’টি ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচটি যদি ড্র হয় তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল সুবিধা পাবে। কিন্তু এটি আমাদের প্রধান কৌশল নয়। আমরা গ্রুপের তিনটি ম্যাচই জিততে চাই। তাই গোল ব্যবধান বাড়িয়ে সুবিধা পাওয়ার চেয়ে প্রতিটি ম্যাচে জোর দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।’

উত্তর কোরিয়া দল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যে কোনো দেশের জন্যই কঠিন। বাংলাদেশ কোচকেও সীমিত ভিডিও ফুটেজ নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। তবে এটিকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে মানতে নারাজ উত্তর কোরিয়ার কোচ। তার মতে, ‘দীর্ঘ ১০ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে আসার কারণে আমরা অনেকটা নতুন দলের মতোই। তাই আমরা নিজেদের খুব বেশি শক্তিশালী ভাবছি না। বাংলাদেশের মতো আমরাও প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। আমরা কোনো প্রতিপক্ষকেই খাটো করে দেখছি না। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশ সাধারণত উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে খেলে না। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ক্লাব ঢাকা আবাহনী উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ২৫ দলের মুখোমুখি হয়েছিল। ছয় বছর পর আবার দুই দেশের লড়াই। এ প্রসঙ্গে উত্তর কোরিয়ান কোচ বলেন, ‘পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান বেশ নিচে ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমি দেখতে পাচ্ছি যে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে। আপনি ২০১৯ সালের ম্যাচের কথা বললেন, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি গতকালের (চীনের বিপক্ষে) ম্যাচ দেখে যা বুঝেছি, বাংলাদেশ দল অনেক বড় এবং দ্রুত উন্নতি করেছে। এখন তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋতুপর্ণাকে নিয়ে চিন্তায় উত্তর কোরিয়ার কোচ

আপডেট সময় ১০:৩৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

নারী এশিয়ান কাপে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপের অন্য দুই দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন নারী জাতীয় ফুটবল দল এবং সাবেক চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া নারী জাতীয় ফুটবল দল। ১২ দলের এই আসরে সবচেয়ে ভালো ফিফা র‌্যাংকিং (৭) উত্তর কোরিয়ার।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার কোচ বাংলাদেশ দলকে নিয়ে প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনজন খেলোয়াড়কে ঘিরে শঙ্কার কথাও জানান।

এবারই এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অভিষেক। প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে পিটার বাটলারের দল দারুণ লড়াই করেছে। সেই ম্যাচ দেখেই উত্তর কোরিয়ার কোচের উপলব্ধি, ‘আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।’ বাংলাদেশের শক্তির জায়গা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুত। বিশেষ করে রক্ষণ থেকে আক্রমণে তারা বেশ দক্ষ এবং তীক্ষ্ণ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশ খুব দ্রুতগতির দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়।’

বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড় উত্তর কোরিয়ার জন্য হুমকি হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে কোচ রি সন হো বলেন, ‘মূলত আমি আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী (ঋতুপর্ণা চাকমা) নিয়ে আমি সতর্ক, যিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারেন।’

এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষেও বাংলাদেশের ঋতুপর্ণা ও মনিকারা ডিফেন্স ভাঙার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমা ক্ষিপ্রগতিতে বল কেড়ে নিয়ে দূর থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন। সেটি গোল হলে টুর্নামেন্টের সেরা গোলের তালিকায় থাকত।

ঋতুপর্ণার জার্সি নম্বর উল্লেখ করলেও বাকি দুই খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর স্পষ্ট করেননি উত্তর কোরিয়ার কোচ। তবে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একটু আগেই বলেছি তাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের গতি অনেক বেশি। আক্রমণ এবং রক্ষণ উভয়ক্ষেত্রেই তাদের গতি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তাই আগামীকাল ম্যাচে এই খেলোয়াড়দের রুখতে আমাদের রক্ষণভাগকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।’

১২ দলের এই টুর্নামেন্টে তিনটি গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দুই দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। আগামীকাল চীন ও উত্তর কোরিয়া নিজেদের ম্যাচ জিতলে দুই দলেরই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে। তখন শেষ ম্যাচটি হবে গ্রুপসেরা নির্ধারণের লড়াই। গোল ব্যবধান বাড়ানোর কৌশল নিয়ে কোচ বলেন, ‘আমি পরিস্থিতি বুঝতে পারছি যে দু’টি ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচটি যদি ড্র হয় তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল সুবিধা পাবে। কিন্তু এটি আমাদের প্রধান কৌশল নয়। আমরা গ্রুপের তিনটি ম্যাচই জিততে চাই। তাই গোল ব্যবধান বাড়িয়ে সুবিধা পাওয়ার চেয়ে প্রতিটি ম্যাচে জোর দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।’

উত্তর কোরিয়া দল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যে কোনো দেশের জন্যই কঠিন। বাংলাদেশ কোচকেও সীমিত ভিডিও ফুটেজ নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। তবে এটিকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে মানতে নারাজ উত্তর কোরিয়ার কোচ। তার মতে, ‘দীর্ঘ ১০ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে আসার কারণে আমরা অনেকটা নতুন দলের মতোই। তাই আমরা নিজেদের খুব বেশি শক্তিশালী ভাবছি না। বাংলাদেশের মতো আমরাও প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। আমরা কোনো প্রতিপক্ষকেই খাটো করে দেখছি না। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশ সাধারণত উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে খেলে না। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ক্লাব ঢাকা আবাহনী উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ২৫ দলের মুখোমুখি হয়েছিল। ছয় বছর পর আবার দুই দেশের লড়াই। এ প্রসঙ্গে উত্তর কোরিয়ান কোচ বলেন, ‘পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান বেশ নিচে ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমি দেখতে পাচ্ছি যে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে। আপনি ২০১৯ সালের ম্যাচের কথা বললেন, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি গতকালের (চীনের বিপক্ষে) ম্যাচ দেখে যা বুঝেছি, বাংলাদেশ দল অনেক বড় এবং দ্রুত উন্নতি করেছে। এখন তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।’