ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে, দগ্ধ ১৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় নবনির্মিত একটি এলপি গ্যাস পাম্পে (ফিলিং স্টেশন) বিস্ফোরণের ঘটনায় আগুনে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। যাদের মধ্যে গুরুতর আহত সাতজনকে চট্টগ্রামে ও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বুধবার আনুমানিক ৩টার দিকে ফায়ারসার্ভিস, রেডক্রিসেন্ট এবং স্থানীয়দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৫ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ ঘটনায় অন্তত ১০টি বাড়ি ও ২০-২৫টি পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত জিপ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে এন আলম নামের নতুন নির্মিত পাম্প (ফিলিং স্টেশন) থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংকে থাকা গ্যাস জ্বলে সম্পূর্ণ নিঃশেষ হলে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ, আহত ৬

স্থানীয় বাসিন্দা আমিন উদ্দিন বলেন, গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর পাম্পের ভেতরের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং তা পাশের স্থাপনাতেও ছড়িয়ে পড়ে। স্টেশনটির আশপাশের আদর্শগ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করেন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও ডিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ মধ্যরাতে সাংবাদিকদের জানান, ফিলিং স্টেশনটির অনুমোদন ছিল না, গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে। আগুনে ফিলিং স্টেশনটি ছাড়াও আশপাশের অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ও ২০-২৫টি গাড়ি পুড়েছে। ফিলিং স্টেশনটির মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুকতাগিন মাহমুদ সোহেল বলেন, আহতদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের ঢাকা ও চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে পাঠানো আহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, চকরিয়া উপজেলার সিকদারপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে সাকিব (২৪), রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. সিরাজ (২৪), কলাতলী এলাকার মৃত মো. জাকারিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫) এবং আদর্শ গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে মোতাহের (৪৫)।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সর্তকতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে, দগ্ধ ১৬

আপডেট সময় ১০:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় নবনির্মিত একটি এলপি গ্যাস পাম্পে (ফিলিং স্টেশন) বিস্ফোরণের ঘটনায় আগুনে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। যাদের মধ্যে গুরুতর আহত সাতজনকে চট্টগ্রামে ও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বুধবার আনুমানিক ৩টার দিকে ফায়ারসার্ভিস, রেডক্রিসেন্ট এবং স্থানীয়দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৫ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ ঘটনায় অন্তত ১০টি বাড়ি ও ২০-২৫টি পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত জিপ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে এন আলম নামের নতুন নির্মিত পাম্প (ফিলিং স্টেশন) থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংকে থাকা গ্যাস জ্বলে সম্পূর্ণ নিঃশেষ হলে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ, আহত ৬

স্থানীয় বাসিন্দা আমিন উদ্দিন বলেন, গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর পাম্পের ভেতরের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং তা পাশের স্থাপনাতেও ছড়িয়ে পড়ে। স্টেশনটির আশপাশের আদর্শগ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করেন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও ডিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ মধ্যরাতে সাংবাদিকদের জানান, ফিলিং স্টেশনটির অনুমোদন ছিল না, গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে। আগুনে ফিলিং স্টেশনটি ছাড়াও আশপাশের অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ও ২০-২৫টি গাড়ি পুড়েছে। ফিলিং স্টেশনটির মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুকতাগিন মাহমুদ সোহেল বলেন, আহতদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের ঢাকা ও চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে পাঠানো আহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, চকরিয়া উপজেলার সিকদারপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে সাকিব (২৪), রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. সিরাজ (২৪), কলাতলী এলাকার মৃত মো. জাকারিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫) এবং আদর্শ গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে মোতাহের (৪৫)।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সর্তকতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।