ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল রাশিয়ান নৌযান অতীতের ইতিহাস দিয়ে বর্তমান জামায়াতকে বিশ্লেষণ করবেন না: শাহজাহান চৌধুরী হরমুজ খুলে দেওয়ার দাবি কাতারের, ‘ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট’ নিয়ে সতর্কতা মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে নিজের অবদান বলতে গিয়ে অন্যের অবদানকে হাতুড়িপেটা করেছেন :শফিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করা অন্যায় : ফজলুর রহমান ভারতীয় ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুতই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের অনেকেই আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকে: সংসদে ফজলুর রহমান কোদাল দিয়ে কুপিয়েই দাদি-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা করে আকাশ থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

বাইবেল অনুসারে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অধিকার আছে ইসরাইলের: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করে বলেছেন, বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশের ওপর ইসরাইলের অধিকার রয়েছে।

তার এই অদ্ভুত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আরব ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রক্ষণশীল উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি এই মন্তব্য করেন।

কার্লসন উল্লেখ করেছিলেন যে বাইবেল অনুযায়ী আব্রাহামের বংশধরদের যে ভূমির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তাতে বর্তমানের প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অন্তর্ভুক্ত।

এর জবাবে হাকাবি বলেন, তারা (ইসরাইল) যদি এর পুরোটা নিয়ে নেয় তবে সেটি ভালোই হবে। তবে তিনি পরে যোগ করেন, ইসরাইল তার সীমানা বাড়াতে চাইছে না, বরং তারা বর্তমান ভূমিতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।

হাকাবির এই বক্তব্যের পরপরই সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান এবং ওআইসি ও আরব লীগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে ‘চরমপন্থী বক্তব্য’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে তাদের অবস্থানের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

অন্যদিকে, মিশর এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বা অন্য কোনো আরব ভূমির ওপর ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। আরব লীগ সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্য কেবল মানুষের ধর্মীয় ও জাতীয় আবেগকেই উসকে দেবে।

হাকাবি একজন ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান এবং তিনি দীর্ঘকাল ধরেই ফিলিস্তিন-ইসরাইল সমস্যার ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ বা টু-স্টেট সলিউশনের বিরোধিতা করে আসছেন। সাক্ষাৎকারে কার্লসন যখন বাইবেলের ‘বুক অব জেনেসিস’-এর বরাত দিয়ে নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত (যার মধ্যে জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, সৌদি আরব ও ইরাকের বড় অংশ পড়ে) ভূমির কথা বলেন, তখন হাকাবি সহমত পোষণ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরাইলের কোনো স্থায়ী সীমানা নেই এবং যুদ্ধের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে এই সীমানা পরিবর্তিত হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা দশকের পর দশক ধরে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জানিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ সমর্থন করে।

বর্তমানে গাজা ও লেবাননের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্য ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন যে তিনি পশ্চিম তীর দখল বা অ্যানেক্সেশন সমর্থন করবেন না, তবুও হাকাবির এই ‘বড় ইসরাইল’ বা বাইবেলীয় ভূখণ্ডের দাবি কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসরাইল বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল রাশিয়ান নৌযান

বাইবেল অনুসারে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অধিকার আছে ইসরাইলের: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আপডেট সময় ১১:৪০:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করে বলেছেন, বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশের ওপর ইসরাইলের অধিকার রয়েছে।

তার এই অদ্ভুত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আরব ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রক্ষণশীল উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি এই মন্তব্য করেন।

কার্লসন উল্লেখ করেছিলেন যে বাইবেল অনুযায়ী আব্রাহামের বংশধরদের যে ভূমির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তাতে বর্তমানের প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অন্তর্ভুক্ত।

এর জবাবে হাকাবি বলেন, তারা (ইসরাইল) যদি এর পুরোটা নিয়ে নেয় তবে সেটি ভালোই হবে। তবে তিনি পরে যোগ করেন, ইসরাইল তার সীমানা বাড়াতে চাইছে না, বরং তারা বর্তমান ভূমিতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।

হাকাবির এই বক্তব্যের পরপরই সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান এবং ওআইসি ও আরব লীগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে ‘চরমপন্থী বক্তব্য’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে তাদের অবস্থানের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

অন্যদিকে, মিশর এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বা অন্য কোনো আরব ভূমির ওপর ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। আরব লীগ সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্য কেবল মানুষের ধর্মীয় ও জাতীয় আবেগকেই উসকে দেবে।

হাকাবি একজন ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান এবং তিনি দীর্ঘকাল ধরেই ফিলিস্তিন-ইসরাইল সমস্যার ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ বা টু-স্টেট সলিউশনের বিরোধিতা করে আসছেন। সাক্ষাৎকারে কার্লসন যখন বাইবেলের ‘বুক অব জেনেসিস’-এর বরাত দিয়ে নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত (যার মধ্যে জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, সৌদি আরব ও ইরাকের বড় অংশ পড়ে) ভূমির কথা বলেন, তখন হাকাবি সহমত পোষণ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরাইলের কোনো স্থায়ী সীমানা নেই এবং যুদ্ধের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে এই সীমানা পরিবর্তিত হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা দশকের পর দশক ধরে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জানিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ সমর্থন করে।

বর্তমানে গাজা ও লেবাননের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্য ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন যে তিনি পশ্চিম তীর দখল বা অ্যানেক্সেশন সমর্থন করবেন না, তবুও হাকাবির এই ‘বড় ইসরাইল’ বা বাইবেলীয় ভূখণ্ডের দাবি কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসরাইল বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।