ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়: আখতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয় সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং নিজের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আখতার বলেন, বিএনপির সরকারের কাছে, সরকার দলের কাছে আমরা বিনীত কণ্ঠে আহ্বান জানাব— কোনোভাবেই যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের গতি মন্থর না হয়ে যায়। ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়।

ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য যে ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান আখতার।

তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেন এই বিচার বাধাগ্রস্ত না হয় এবং বিচারের যতগুলো রায় হয়েছে, সেগুলো যেন কার্যকর করা হয়, সে ব্যাপারে সরকারকে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে, এমন কোনো সন্দেহ করছেন কি না জানতে চাইলে আখতার বলেন, ‘‘আপনারা দেখেছেন যে এবারের যে নির্বাচন, সে নির্বাচন কিন্তু একই সঙ্গে দুইটা নির্বাচন ছিল। একটা ছিল সংসদ সদস্যদের নির্বাচন, আরেকটা ছিল গণভোটের নির্বাচন। এবারের নির্বাচনের ধারাবাহিকতা যদি খেয়াল করেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়া—যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধানে ছিল না, কিন্তু জাতির প্রয়োজনে সংবিধানের ভিতর থেকে এবং সংবিধানের বাইরে থেকেও আসলে ‘এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল ইস্যু’ এবং ‘কোয়াসি কনস্টিটিউশনাল’, সংবিধানের ভিতরে আছে-নাই, এরকম একটা পরিস্থিতিতে দেশ তো চলতে হবে, সে রকম জায়গা থেকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলো। সেটা নিয়ে, সেই শপথ গ্রহণ নিয়ে বিএনপির কোনো আপত্তি ছিল না।’’

তিনি বলেন, যে গণভোটের জন্য যে আদেশ কার্যকর করার কথা বলা হলো, যে আদেশ জারি করা হলো, সে আদেশের মধ্যেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা এবং জাতীয় সংসদের সদস্য যারা আছেন তাদের কথা; কিন্তু ওই একই গণভোটের আদেশের মধ্যে বলা আছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে আদেশ, সে আদেশের মধ্য দিয়েই কিন্তু এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের একটা অংশ অর্থাৎ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিলেন, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিলেন না।

আখতার বলেন, ‘এই বিষয়টা কিন্তু আমাদের সামনে স্পষ্টত তুলে ধরে যে- বিএনপির কাছে যে বিষয়টা তাদের ক্ষমতা গ্রহণের জন্য তাদের কাছে পছন্দসই, তারা শুধু ততটুকু মানবেন। আর যেটা তাদের ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে পারে, সেই অংশগুলোকে তারা বাদ দিয়ে দিবেন।

এ ধরনের একটা মনোভাব তারা প্রথম দিনেই তারা প্রকাশ করেছেন। এজন্য সংস্কারের বিষয় নিয়ে বিএনপির সরকার নিয়ে একটা শঙ্কার জায়গা তৈরি হয়েছে।

শুরুতেও সংস্কারের বিপক্ষে বিএনপির অবস্থান ছিল; সংস্কার কমিশনেও তারা সংস্কারের বিপক্ষে ছিল মন্তব্য করে আখতার বলেন, ‘তারা যখন হ্যাঁ এবং না ভোটের ক্যাম্পেইন চলে, ছাত্রদল অফিসিয়ালি তাদের অফিসিয়াল পেইজে না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে।

তাদের বুদ্ধিজীবীরা না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে এবং শেষে গিয়ে জনচাপে পড়ে তারেক রহমান রংপুরে গিয়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ‘ওভারটেক’ বিএনপি করতে পারবে না মন্তব্য করে আখতার বলেন, ‘আমরা জানি, তারা জল ঘোলা করবে, জল ঘোলা করে জনচাপে বাধ্য হয়েই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে তারা বাধ্য হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই কারণে আমরা মনে করি যে সংস্কারের বিষয়ে যে দোদুল্যমানতা বিএনপির সরকারের পক্ষে আছে, সেই দোদুল্যমানতার ছোঁয়া যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে না আসে। সেই বিষয়টা তাদের জানানোর জন্য, সেই খোঁজখবরগুলো নেওয়ার জন্যই আমি ট্রাইব্যুনালে এসেছিলাম।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়: আখতার

আপডেট সময় ০৪:২৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয় সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং নিজের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আখতার বলেন, বিএনপির সরকারের কাছে, সরকার দলের কাছে আমরা বিনীত কণ্ঠে আহ্বান জানাব— কোনোভাবেই যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের গতি মন্থর না হয়ে যায়। ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়।

ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য যে ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান আখতার।

তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেন এই বিচার বাধাগ্রস্ত না হয় এবং বিচারের যতগুলো রায় হয়েছে, সেগুলো যেন কার্যকর করা হয়, সে ব্যাপারে সরকারকে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে, এমন কোনো সন্দেহ করছেন কি না জানতে চাইলে আখতার বলেন, ‘‘আপনারা দেখেছেন যে এবারের যে নির্বাচন, সে নির্বাচন কিন্তু একই সঙ্গে দুইটা নির্বাচন ছিল। একটা ছিল সংসদ সদস্যদের নির্বাচন, আরেকটা ছিল গণভোটের নির্বাচন। এবারের নির্বাচনের ধারাবাহিকতা যদি খেয়াল করেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়া—যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধানে ছিল না, কিন্তু জাতির প্রয়োজনে সংবিধানের ভিতর থেকে এবং সংবিধানের বাইরে থেকেও আসলে ‘এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল ইস্যু’ এবং ‘কোয়াসি কনস্টিটিউশনাল’, সংবিধানের ভিতরে আছে-নাই, এরকম একটা পরিস্থিতিতে দেশ তো চলতে হবে, সে রকম জায়গা থেকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলো। সেটা নিয়ে, সেই শপথ গ্রহণ নিয়ে বিএনপির কোনো আপত্তি ছিল না।’’

তিনি বলেন, যে গণভোটের জন্য যে আদেশ কার্যকর করার কথা বলা হলো, যে আদেশ জারি করা হলো, সে আদেশের মধ্যেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা এবং জাতীয় সংসদের সদস্য যারা আছেন তাদের কথা; কিন্তু ওই একই গণভোটের আদেশের মধ্যে বলা আছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে আদেশ, সে আদেশের মধ্য দিয়েই কিন্তু এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের একটা অংশ অর্থাৎ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিলেন, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিলেন না।

আখতার বলেন, ‘এই বিষয়টা কিন্তু আমাদের সামনে স্পষ্টত তুলে ধরে যে- বিএনপির কাছে যে বিষয়টা তাদের ক্ষমতা গ্রহণের জন্য তাদের কাছে পছন্দসই, তারা শুধু ততটুকু মানবেন। আর যেটা তাদের ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে পারে, সেই অংশগুলোকে তারা বাদ দিয়ে দিবেন।

এ ধরনের একটা মনোভাব তারা প্রথম দিনেই তারা প্রকাশ করেছেন। এজন্য সংস্কারের বিষয় নিয়ে বিএনপির সরকার নিয়ে একটা শঙ্কার জায়গা তৈরি হয়েছে।

শুরুতেও সংস্কারের বিপক্ষে বিএনপির অবস্থান ছিল; সংস্কার কমিশনেও তারা সংস্কারের বিপক্ষে ছিল মন্তব্য করে আখতার বলেন, ‘তারা যখন হ্যাঁ এবং না ভোটের ক্যাম্পেইন চলে, ছাত্রদল অফিসিয়ালি তাদের অফিসিয়াল পেইজে না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে।

তাদের বুদ্ধিজীবীরা না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে এবং শেষে গিয়ে জনচাপে পড়ে তারেক রহমান রংপুরে গিয়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ‘ওভারটেক’ বিএনপি করতে পারবে না মন্তব্য করে আখতার বলেন, ‘আমরা জানি, তারা জল ঘোলা করবে, জল ঘোলা করে জনচাপে বাধ্য হয়েই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে তারা বাধ্য হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই কারণে আমরা মনে করি যে সংস্কারের বিষয়ে যে দোদুল্যমানতা বিএনপির সরকারের পক্ষে আছে, সেই দোদুল্যমানতার ছোঁয়া যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে না আসে। সেই বিষয়টা তাদের জানানোর জন্য, সেই খোঁজখবরগুলো নেওয়ার জন্যই আমি ট্রাইব্যুনালে এসেছিলাম।’