ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পাকিস্তানে ৮ সাংবাদিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

পাকিস্তানের আটজন সাংবাদিক ও বেশ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষে অনলাইনে কর্মকাণ্ড চালানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এ রায় দেওয়া হয়।

এই সাজা এসেছে ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত সহিংস বিক্ষোভের পর দায়ের করা মামলাগুলোর ভিত্তিতে। ওই দিন ইমরান খানকে গ্রেফতার করার পর তার সমর্থকেরা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে সরকার ও সামরিক বাহিনী ইমরান খানের দল এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করে। উসকানি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে শত শত ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সামরিক বিচারের আওতায় আনা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড পাকিস্তানি আইনে সন্ত্রাসবাদের আওতার মধ্যে পড়ে এবং তাদের অনলাইন কনটেন্ট সমাজে ভয় ও অস্থিরতা ছড়িয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বিচার চলাকালে আদালতে হাজির হননি।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে ইউটিউবার হওয়া আদিল রাজা ও সৈয়দ আকবর হুসেইন, সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান, সাবির শাকির ও শাহীন সেহবাই, মন্তব্যকার হায়দার রাজা মেহদি এবং বিশ্লেষক মঈদ পীরজাদা।

নিউইয়র্কে বসবাসরত ওয়াজাহাত সাঈদ খান এক বিবৃতিতে বলেন, আমাকে কখনো সমন পাঠানো হয়নি, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়নি, এমনকি আদালত থেকেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।

তিনি বলেন, এই রায় ন্যায়বিচার নয়। এটি রাজনৈতিক নাটক—যেখানে যথাযথ প্রক্রিয়া, এখতিয়ার ও বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব রয়েছে।

সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) ২০২৩ সালে বলেছিল, এসব তদন্ত সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শামিল। সিপিজের এশিয়া কর্মসূচির সমন্বয়কারী বেহ লিহ ই বলেন, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এসব তদন্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে চলমান ভয়ভীতি ও সেন্সরশিপ বন্ধ করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানে ৮ সাংবাদিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০১:২০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

পাকিস্তানের আটজন সাংবাদিক ও বেশ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষে অনলাইনে কর্মকাণ্ড চালানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এ রায় দেওয়া হয়।

এই সাজা এসেছে ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত সহিংস বিক্ষোভের পর দায়ের করা মামলাগুলোর ভিত্তিতে। ওই দিন ইমরান খানকে গ্রেফতার করার পর তার সমর্থকেরা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে সরকার ও সামরিক বাহিনী ইমরান খানের দল এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করে। উসকানি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে শত শত ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সামরিক বিচারের আওতায় আনা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড পাকিস্তানি আইনে সন্ত্রাসবাদের আওতার মধ্যে পড়ে এবং তাদের অনলাইন কনটেন্ট সমাজে ভয় ও অস্থিরতা ছড়িয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বিচার চলাকালে আদালতে হাজির হননি।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে ইউটিউবার হওয়া আদিল রাজা ও সৈয়দ আকবর হুসেইন, সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান, সাবির শাকির ও শাহীন সেহবাই, মন্তব্যকার হায়দার রাজা মেহদি এবং বিশ্লেষক মঈদ পীরজাদা।

নিউইয়র্কে বসবাসরত ওয়াজাহাত সাঈদ খান এক বিবৃতিতে বলেন, আমাকে কখনো সমন পাঠানো হয়নি, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়নি, এমনকি আদালত থেকেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।

তিনি বলেন, এই রায় ন্যায়বিচার নয়। এটি রাজনৈতিক নাটক—যেখানে যথাযথ প্রক্রিয়া, এখতিয়ার ও বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব রয়েছে।

সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) ২০২৩ সালে বলেছিল, এসব তদন্ত সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শামিল। সিপিজের এশিয়া কর্মসূচির সমন্বয়কারী বেহ লিহ ই বলেন, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এসব তদন্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে চলমান ভয়ভীতি ও সেন্সরশিপ বন্ধ করতে হবে।