ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা শিবিরে বাড়ছে এইডস রোগী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ডায়রিয়া এবং কলেরার পাশাপাশি এইচআইভি এইডস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছে কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ।

পরিপূর্ণভাবে খাবার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা এবং এইডস নিয়ে অসচেতনতার কারণে এসব রোগ মহামারী রূপ নেয়ার কারণ বলে মনে করছেন সিভিল সার্জন। এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৬ জন এইডস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজারের বেশি ডায়রিয়া এবং কলেরা রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৫ শে আগস্ট থেকে বাংলাদেশমুখী যে রোহিঙ্গা ঢল শুরু হয়েছিলো, এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অবস্থান এখন কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায়। মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকার এসব রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি এইডস রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় শঙ্কিত কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ।

গত কয়েক দিনে এখানে মোট ১৬ জন এইডস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে একজন। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম বলেন, একাধিক ব্যক্তি একসাথে বাস করার কারণে এই রোগ গুলো ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এইডস ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের অবস্থান অনেক ওপরে। দেশটিতে দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইডস রোগী রয়েছে। এইডস আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করা না গেলে বাংলাদেশে এই রোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, সেক্স, রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া, মুখের লালা কারণে একে অপরের মধ্যে এইডস রোগটি ছড়িয়ে পড়বে। সেজন্য আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। যারা আক্রান্ত তাদেরকে চিন্তিত করে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে।

এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে পরিপূর্ণভাবে পানীয় জল এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় বাড়ছে ডায়রিয়া ও কলেরা রোগীর সংখ্যা। কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম, রোহিঙ্গাদের মলগুলো বৃষ্টির পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় তারা ডায়রিয়া,কলেরাসহ নানা রকম পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাত হাজার টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। যদি কেউ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে চিন্তার কোন কারণ নেই। কারণ আমাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ক্যাম্প রয়েছে। কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডায়রিয়া, কলেরা এবং এইডস রোগীর বাইরে গত ৪০ দিনে এখানে ২৪ হাজার রোগীর জ্বর ও নিউমোনিয়া, ৬ হাজার চর্মরোগী, ১৪ জন ম্যালেরিয়া রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা শিবিরে বাড়ছে এইডস রোগী

আপডেট সময় ০৫:১৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ডায়রিয়া এবং কলেরার পাশাপাশি এইচআইভি এইডস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছে কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ।

পরিপূর্ণভাবে খাবার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা এবং এইডস নিয়ে অসচেতনতার কারণে এসব রোগ মহামারী রূপ নেয়ার কারণ বলে মনে করছেন সিভিল সার্জন। এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৬ জন এইডস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজারের বেশি ডায়রিয়া এবং কলেরা রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৫ শে আগস্ট থেকে বাংলাদেশমুখী যে রোহিঙ্গা ঢল শুরু হয়েছিলো, এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অবস্থান এখন কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায়। মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকার এসব রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি এইডস রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় শঙ্কিত কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ।

গত কয়েক দিনে এখানে মোট ১৬ জন এইডস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে একজন। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম বলেন, একাধিক ব্যক্তি একসাথে বাস করার কারণে এই রোগ গুলো ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এইডস ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের অবস্থান অনেক ওপরে। দেশটিতে দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইডস রোগী রয়েছে। এইডস আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করা না গেলে বাংলাদেশে এই রোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, সেক্স, রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া, মুখের লালা কারণে একে অপরের মধ্যে এইডস রোগটি ছড়িয়ে পড়বে। সেজন্য আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। যারা আক্রান্ত তাদেরকে চিন্তিত করে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে।

এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে পরিপূর্ণভাবে পানীয় জল এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় বাড়ছে ডায়রিয়া ও কলেরা রোগীর সংখ্যা। কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম, রোহিঙ্গাদের মলগুলো বৃষ্টির পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় তারা ডায়রিয়া,কলেরাসহ নানা রকম পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাত হাজার টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। যদি কেউ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে চিন্তার কোন কারণ নেই। কারণ আমাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ক্যাম্প রয়েছে। কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডায়রিয়া, কলেরা এবং এইডস রোগীর বাইরে গত ৪০ দিনে এখানে ২৪ হাজার রোগীর জ্বর ও নিউমোনিয়া, ৬ হাজার চর্মরোগী, ১৪ জন ম্যালেরিয়া রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।