ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মনের বাঘে খাচ্ছে মুশফিকদের

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কাল দিনের বেশির ভাগ সময়ই ফিল্ডিং করেছেন সার্কেলের বাইরে। সাধারণত ক্রিকেটে, বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচে দলীয় অধিনায়ক বৃত্তের মধ্যেই ফিল্ডিং করে থাকেন। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নটা উঠেছে। মুশফিকের উত্তরটা শুনে চমকে উঠতে হয়—‘আমি আসলে ফিল্ডিংয়ে খুব একটা ভালো নই। কোচরা চেয়েছেন আমি যেন বাইরে বাইরে ফিল্ডিং করি। আমি সামনে থাকলে আমার কাছ থেকে নাকি বেশি রান হয়ে যায় বা আমার হাতে ক্যাচট্যাচ এলে নাকি ধরার সম্ভাবনা থাকে না।’

যে খেলোয়াড়টি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, তাঁর ফিল্ডিং এতটাই খারাপ যে অধিনায়ক হলেও তাঁকে বৃত্তের বাইরে ঠেলে দিতে হবে!

একজন অধিনায়ক কি শুধু ফিল্ডিং করতেই বৃত্তের মধ্যে থাকেন। যেকোনো ম্যাচেই একটা খসড়া পরিকল্পনা সব খেলোয়াড়ের মাথাতেই থাকে। কিন্তু সেই পরিকল্পনাগুলো যে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার নিশ্চয়তা কোথায়? অনেক সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলাতে হয়। নতুন পরিকল্পনাগুলো তো আসতে হবে অধিনায়কের মাথা থেকেই। তিনি মার খাওয়া বোলারদের সঙ্গে কথা বলবেন, তাঁর দুর্বলতাগুলো বলে দেবেন। ব্যাটসম্যানের শক্তির জায়গা কিংবা দুর্বল জায়গা তুলে ধরবেন। ক্রিকেটের অধিনায়ক তো এ কারণেই অন্য খেলাগুলোর চেয়ে আলাদা। ফুটবল বা অন্য খেলাতে যেকোনো সিনিয়র খেলোয়াড়ই অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড হাতে পরতে পারেন, কিন্তু ক্রিকেটে অধিনায়ক হতে হয় ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্ককেই। মুশফিককে তো দেখা যাচ্ছে এই মৌলিক ব্যাপারগুলোই এড়িয়ে যেতে।

ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিনের খেলার দিকে দৃষ্টি ফেরানো যাক। মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে তিনি প্রথম কথা বলেন ইনিংসের ৫০তম ওভারে এসে। অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে বল করতে এসে তাঁর প্রথম বলটাই ছিল নো-বল। সেই ওভারেই ডিন এলগারকে বাউন্সার দিয়েছেন তিনি, পুল খেলতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি ব্যাটসম্যান। উইকেটকিপার লিটনের উচ্চতা আর কয়েক ইঞ্চি বেশি হলে ক্যাচটা নিতেও পারতেন। ফিজের পরের ওভারে আবারও বাউন্সার, আবারও পুল, তবে এবার বল পড়েছে ওয়াইড মিড-অনে। এরপর শুভাশিস রায়ের ওভারে আবারও পুল শট খেলেছেন এলগার, ফাইন লেগে এবার ক্যাচটা নিয়েছেন সেই মোস্তাফিজ। মাঠে একটু পরিকল্পনা, বোলারদের সঙ্গে কথাবার্তার ফল কিন্তু মেলে। কিন্তু মুশফিক সেটি করেছেন অনেক পরে।

বিদেশের কারও দিকে দেখতে হবে না। ৫০ ওভারের ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজাই সব সময় বোলারদের সঙ্গে কথা বলেন। হয়তো নিজে বোলার বলেই পরিকল্পনাটা বাতলে দিতে পারেন। বিদেশের মাটিতে এমন দুর্ভোগের দিনে এটুকু শিখে নেওয়াটা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। টেস্টে আমাদের মাশরাফি তো মুশফিকই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মনের বাঘে খাচ্ছে মুশফিকদের

আপডেট সময় ০১:১৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অক্টোবর ২০১৭

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কাল দিনের বেশির ভাগ সময়ই ফিল্ডিং করেছেন সার্কেলের বাইরে। সাধারণত ক্রিকেটে, বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচে দলীয় অধিনায়ক বৃত্তের মধ্যেই ফিল্ডিং করে থাকেন। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নটা উঠেছে। মুশফিকের উত্তরটা শুনে চমকে উঠতে হয়—‘আমি আসলে ফিল্ডিংয়ে খুব একটা ভালো নই। কোচরা চেয়েছেন আমি যেন বাইরে বাইরে ফিল্ডিং করি। আমি সামনে থাকলে আমার কাছ থেকে নাকি বেশি রান হয়ে যায় বা আমার হাতে ক্যাচট্যাচ এলে নাকি ধরার সম্ভাবনা থাকে না।’

যে খেলোয়াড়টি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, তাঁর ফিল্ডিং এতটাই খারাপ যে অধিনায়ক হলেও তাঁকে বৃত্তের বাইরে ঠেলে দিতে হবে!

একজন অধিনায়ক কি শুধু ফিল্ডিং করতেই বৃত্তের মধ্যে থাকেন। যেকোনো ম্যাচেই একটা খসড়া পরিকল্পনা সব খেলোয়াড়ের মাথাতেই থাকে। কিন্তু সেই পরিকল্পনাগুলো যে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার নিশ্চয়তা কোথায়? অনেক সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলাতে হয়। নতুন পরিকল্পনাগুলো তো আসতে হবে অধিনায়কের মাথা থেকেই। তিনি মার খাওয়া বোলারদের সঙ্গে কথা বলবেন, তাঁর দুর্বলতাগুলো বলে দেবেন। ব্যাটসম্যানের শক্তির জায়গা কিংবা দুর্বল জায়গা তুলে ধরবেন। ক্রিকেটের অধিনায়ক তো এ কারণেই অন্য খেলাগুলোর চেয়ে আলাদা। ফুটবল বা অন্য খেলাতে যেকোনো সিনিয়র খেলোয়াড়ই অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড হাতে পরতে পারেন, কিন্তু ক্রিকেটে অধিনায়ক হতে হয় ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্ককেই। মুশফিককে তো দেখা যাচ্ছে এই মৌলিক ব্যাপারগুলোই এড়িয়ে যেতে।

ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিনের খেলার দিকে দৃষ্টি ফেরানো যাক। মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে তিনি প্রথম কথা বলেন ইনিংসের ৫০তম ওভারে এসে। অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে বল করতে এসে তাঁর প্রথম বলটাই ছিল নো-বল। সেই ওভারেই ডিন এলগারকে বাউন্সার দিয়েছেন তিনি, পুল খেলতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি ব্যাটসম্যান। উইকেটকিপার লিটনের উচ্চতা আর কয়েক ইঞ্চি বেশি হলে ক্যাচটা নিতেও পারতেন। ফিজের পরের ওভারে আবারও বাউন্সার, আবারও পুল, তবে এবার বল পড়েছে ওয়াইড মিড-অনে। এরপর শুভাশিস রায়ের ওভারে আবারও পুল শট খেলেছেন এলগার, ফাইন লেগে এবার ক্যাচটা নিয়েছেন সেই মোস্তাফিজ। মাঠে একটু পরিকল্পনা, বোলারদের সঙ্গে কথাবার্তার ফল কিন্তু মেলে। কিন্তু মুশফিক সেটি করেছেন অনেক পরে।

বিদেশের কারও দিকে দেখতে হবে না। ৫০ ওভারের ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজাই সব সময় বোলারদের সঙ্গে কথা বলেন। হয়তো নিজে বোলার বলেই পরিকল্পনাটা বাতলে দিতে পারেন। বিদেশের মাটিতে এমন দুর্ভোগের দিনে এটুকু শিখে নেওয়াটা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। টেস্টে আমাদের মাশরাফি তো মুশফিকই।