আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
মোবাইলে কল করে যাত্রী বহনের কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আলীম মোল্লা ওরফে আলী (৪৮) নামে এক অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
আলীম মোল্লা পরিবার-পরিজন নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমদী এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের ছোট ভাই ফরমান মোল্লা বলেন, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ভাইয়ের মুঠোফোনে কল করে। মুঠোফোনে ওই ব্যক্তি যাত্রী বহনের কথা বলে আলী ভাইকে বাসা থেকে ডেকে নেয়।
তিনি আরও বলেন, এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক প্রতিবেশী, আলী ভাইকে যাত্রীসহ কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় দেখতে পান। তখন ওই প্রতিবেশী আলী ভাইয়ের অটোরিকশাযোগে আমাদের এলাকায় আসতে চান। এ সময় অটোরিকশার পেছনে বসা যাত্রীরা বলেন, আমরা এই সিএনজি রিজার্ভ ভাড়া নিয়েছি। তাই এ সিএনজিতে উনি আর কোনো যাত্রী উঠাতে পারবেন না। এ কথা শুনে ওই প্রতিবেশী সেখান থেকে চলে যান।
পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক অটোরিকশাচালক আলী ভাইয়ের বড় ছেলে সাজ্জাদ মোল্লার মোবাইলে ফোনে কল করে জানান, আলী ভাই কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসন প্রজেক্টের চন্ডিতলা এলাকায় অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। লোকজন তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে ভাইকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। তার গলা, ঘাড় ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। দুর্বৃত্তরা ভাইকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
নিহতের ছেলে সাজ্জাদ মোল্লা বলেন, বাবা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সঙ্গে নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। সেই টাকা দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে। তবে বাবার অটোরিকশা ও মুঠোফোন দুর্বৃত্তরা নিয়ে যায়নি।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়। আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেফতার করতে হবে। বাবা হত্যার বিচার চাই।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, অটোরিকশা চালককে হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























