ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

সচিবালয়ে ছাত্র ও আনসার সদস্যদের সংঘর্ষের সার্বিক পরিস্থিতি

### সচিবালয়ে ছাত্র ও আনসার সদস্যদের সংঘর্ষের সংযুক্ত প্রতিবেদন

রবিবার রাতে ঢাকা সচিবালয় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত আনসার সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং রাজধানীতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

#### ঘটনার পটভূমি

এই সংঘর্ষ দিনব্যাপী উত্তেজনার চূড়ান্ত রূপ। আনসার সদস্যরা তাদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও করে রাখেন, যার ফলে ভেতরে বা বাইরে কেউ যেতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার এবং চাকরিতে স্থায়ীত্ব ও সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগে তারা এই আন্দোলনে নামেন। সরকারের আশ্বাস সত্ত্বেও দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নেয়।

দিনের পরিক্রমায়, কিছুসংখ্যক ছাত্র আন্দোলনের নেতা, যেমন সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলম, সচিবালয়ের ভেতরে আটক রয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধারের জন্য সচিবালয়ের দিকে রওনা হন।

#### সংঘর্ষের সূচনা

রাত ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে জানান যে, তারা সচিবালয়ে আটক রয়েছেন। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীরা মিছিল করে সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যান।

সচিবালয় এলাকায় পৌঁছানোর পর শিক্ষার্থী ও আনসার সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আনসার সদস্যরা শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে, যা সংঘর্ষকে আরও সহিংস করে তোলে।

#### আহত ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

এই সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হন, যার মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং প্রথম আলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসিফ হাওলাদারও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত পৌনে ১১টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সচিবালয়ের এলাকাটি ছাত্রদের দখলে থাকে।

#### পরবর্তী পদক্ষেপ

আন্দোলনরত আনসার সদস্যদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যেটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। তবুও, সরকারের আশ্বাসে সাড়া না দিয়ে আনসার সদস্যরা সচিবালয়ের আশপাশ ঘেরাও করে রাখেন এবং ভেতরে আটক কর্মকর্তাদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

#### সার্বিক পরিস্থিতি

সচিবালয় ঘেরাও এবং আনসার সদস্যদের আন্দোলনের ফলে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে প্রেসক্লাব, পল্টন, হাইকোর্ট, জিপিও এবং গুলিস্তানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসগামী মানুষজনকে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

এই ঘটনাবলি শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে এবং পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত রয়েছে। আনসার সদস্যদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে নজরদারিতে ৬০০ কোটির স্যাটেলাইট প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার

সচিবালয়ে ছাত্র ও আনসার সদস্যদের সংঘর্ষের সার্বিক পরিস্থিতি

আপডেট সময় ০৩:২৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪

### সচিবালয়ে ছাত্র ও আনসার সদস্যদের সংঘর্ষের সংযুক্ত প্রতিবেদন

রবিবার রাতে ঢাকা সচিবালয় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত আনসার সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং রাজধানীতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

#### ঘটনার পটভূমি

এই সংঘর্ষ দিনব্যাপী উত্তেজনার চূড়ান্ত রূপ। আনসার সদস্যরা তাদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও করে রাখেন, যার ফলে ভেতরে বা বাইরে কেউ যেতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার এবং চাকরিতে স্থায়ীত্ব ও সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগে তারা এই আন্দোলনে নামেন। সরকারের আশ্বাস সত্ত্বেও দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নেয়।

দিনের পরিক্রমায়, কিছুসংখ্যক ছাত্র আন্দোলনের নেতা, যেমন সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলম, সচিবালয়ের ভেতরে আটক রয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধারের জন্য সচিবালয়ের দিকে রওনা হন।

#### সংঘর্ষের সূচনা

রাত ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে জানান যে, তারা সচিবালয়ে আটক রয়েছেন। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীরা মিছিল করে সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যান।

সচিবালয় এলাকায় পৌঁছানোর পর শিক্ষার্থী ও আনসার সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আনসার সদস্যরা শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে, যা সংঘর্ষকে আরও সহিংস করে তোলে।

#### আহত ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

এই সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হন, যার মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং প্রথম আলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসিফ হাওলাদারও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত পৌনে ১১টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সচিবালয়ের এলাকাটি ছাত্রদের দখলে থাকে।

#### পরবর্তী পদক্ষেপ

আন্দোলনরত আনসার সদস্যদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যেটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। তবুও, সরকারের আশ্বাসে সাড়া না দিয়ে আনসার সদস্যরা সচিবালয়ের আশপাশ ঘেরাও করে রাখেন এবং ভেতরে আটক কর্মকর্তাদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

#### সার্বিক পরিস্থিতি

সচিবালয় ঘেরাও এবং আনসার সদস্যদের আন্দোলনের ফলে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে প্রেসক্লাব, পল্টন, হাইকোর্ট, জিপিও এবং গুলিস্তানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসগামী মানুষজনকে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

এই ঘটনাবলি শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে এবং পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত রয়েছে। আনসার সদস্যদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।