ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

একসঙ্গে নিহত দুই ভাইয়ের সন্তানরা সবাই নির্বাক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুঃখ-কষ্ট পিছু ছাড়ছে না বৃদ্ধ শামসুদ্দীনের। অনেক কষ্ট করে ২ ছেলেকে বড় করেছেন তিনি। উপার্জনও করছেন তারা। এখন ইবাদত-বন্দেগি করে সময় কাটানোর কথা শামসুদ্দীনের। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস। একসঙ্গে না ফেরার দেশে চলে গেলেন দুই ছেলে।

রাহিম ও তাসফিয়া নামে এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে শেখ ফরিদের। অন্যদিকে নিশাদ নামে সাত বছরের এক ছেলে ও চার বছরের মারিয়া নামে একটি মেয়ে রয়েছে সুমনের। এসব শিশুসন্তানরা পিতৃহারা বেদনায় হতবাক। দাদা শামসুদ্দীন আর দাদি শুধু মূর্ছা যাচ্ছেন বারবার।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় মীরসরাই উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়িয়াইশ গ্রামে জানাজা শেষে তাদের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনাপাহাড় এলাকায় কাভার্ডভ্যানচাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৪ জন। এদের মধ্যে শামসুদ্দীনের ছেলে মো. সুমন ও শেখ ফরিদও রয়েছেন।

দুই ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ শামসুদ্দীন। তার আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। ২ ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা নূরজাহান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা বলেন, এভাবে বুক খালি করে দুই ছেলে চলে যাবে কখনো চিন্তাও করতে পারিনি। আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব। ছোট ছোট নাতি-নাতনিদের কী হবে?

নুরুল মোস্তফা নামের স্থানীয় একজন বলেন, সুমন-ফরিদ একসঙ্গে চলাচল করত। এলাকার কারো সঙ্গে কোনো দিন দুকথা হয়নি তাদের। ২ ভাইকে একসঙ্গে খৎনা করা হয়, বিয়েও হয় একসঙ্গে। একসঙ্গে তারা মারাও গেল। এভাবে চলে যাবে কখনো ভাবতে পারিনি।

বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাইয়ের সোনাপাহাড় ফিলিং স্টেশন থেকে বের হওয়ার পর একটি লরিকে চট্টগ্রামগামী জোনাকি পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। খবর পেয়ে সেখানে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। সঙ্গে এলাকার লোকজন ও স্থানীয় সিএনজিচালকরাও ছিলেন।

এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি কাভার্ডভ্যান দাঁড়িয়ে থাকা সবাইকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিনের কাছে আহতদের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই দুর্ঘটনায় আহত এএসআই মোস্তফার অবস্থা এখন অনেকটা আশঙ্কামুক্ত। আহতের আত্মীয়স্বজনরা নিজেদের নিকটবর্তী কুমিল্লা মেডিকেলে চিকিৎসা করানোর জন্য তাকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া অন্য আহতরাও এখন শঙ্কামুক্ত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন আখতারুজ্জামান

একসঙ্গে নিহত দুই ভাইয়ের সন্তানরা সবাই নির্বাক

আপডেট সময় ০৯:২১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুঃখ-কষ্ট পিছু ছাড়ছে না বৃদ্ধ শামসুদ্দীনের। অনেক কষ্ট করে ২ ছেলেকে বড় করেছেন তিনি। উপার্জনও করছেন তারা। এখন ইবাদত-বন্দেগি করে সময় কাটানোর কথা শামসুদ্দীনের। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস। একসঙ্গে না ফেরার দেশে চলে গেলেন দুই ছেলে।

রাহিম ও তাসফিয়া নামে এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে শেখ ফরিদের। অন্যদিকে নিশাদ নামে সাত বছরের এক ছেলে ও চার বছরের মারিয়া নামে একটি মেয়ে রয়েছে সুমনের। এসব শিশুসন্তানরা পিতৃহারা বেদনায় হতবাক। দাদা শামসুদ্দীন আর দাদি শুধু মূর্ছা যাচ্ছেন বারবার।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় মীরসরাই উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়িয়াইশ গ্রামে জানাজা শেষে তাদের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনাপাহাড় এলাকায় কাভার্ডভ্যানচাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৪ জন। এদের মধ্যে শামসুদ্দীনের ছেলে মো. সুমন ও শেখ ফরিদও রয়েছেন।

দুই ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ শামসুদ্দীন। তার আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। ২ ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা নূরজাহান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা বলেন, এভাবে বুক খালি করে দুই ছেলে চলে যাবে কখনো চিন্তাও করতে পারিনি। আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব। ছোট ছোট নাতি-নাতনিদের কী হবে?

নুরুল মোস্তফা নামের স্থানীয় একজন বলেন, সুমন-ফরিদ একসঙ্গে চলাচল করত। এলাকার কারো সঙ্গে কোনো দিন দুকথা হয়নি তাদের। ২ ভাইকে একসঙ্গে খৎনা করা হয়, বিয়েও হয় একসঙ্গে। একসঙ্গে তারা মারাও গেল। এভাবে চলে যাবে কখনো ভাবতে পারিনি।

বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাইয়ের সোনাপাহাড় ফিলিং স্টেশন থেকে বের হওয়ার পর একটি লরিকে চট্টগ্রামগামী জোনাকি পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। খবর পেয়ে সেখানে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। সঙ্গে এলাকার লোকজন ও স্থানীয় সিএনজিচালকরাও ছিলেন।

এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি কাভার্ডভ্যান দাঁড়িয়ে থাকা সবাইকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিনের কাছে আহতদের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই দুর্ঘটনায় আহত এএসআই মোস্তফার অবস্থা এখন অনেকটা আশঙ্কামুক্ত। আহতের আত্মীয়স্বজনরা নিজেদের নিকটবর্তী কুমিল্লা মেডিকেলে চিকিৎসা করানোর জন্য তাকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া অন্য আহতরাও এখন শঙ্কামুক্ত।