ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বাবার পর বজ্রপাতে মারা গেলেন মা, ৪ এতিম শিশুর দায়িত্ব নেবে কে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বাবা রফিকুল ইসলাম শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন ৯ মাস আগে। বাবার হারানোর বেদনা ও শোক কাটতে না কাটতেই বজ্রপাতে মারা গেলেন মা। বাবা-মাকে হারিয়ে এখন দিশেহারা ৪ শিশু। এই ৪ এতিম শিশুর দায়িত্ব নেবে কে?

গত ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে বজ্রপাতে মারা যান স্নেহময়ী মা নূরুন্নাহার বেগম। জেলার হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজীপুর স্বামী হারানোর শোকের বোঝা মাথায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী নুরুন্নাহারের (৪০) এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকাজুড়ে।

বজ্রপাতে শেষ আশ্রয়স্থল মায়ের স্নেহের আঁচল সরে যাওয়ায় শোকে-দুঃখে দিশেহারা হয়ে ওঠে ৭ বছরের শিশুপুত্র শোয়েব, ৯ বছরের শিশুকন্যা ফাতেমা, ১১ বছরের বৃষ্টি এবং ১৩ বছরের শিশুকন্যা সামিরা। এমন ঘোর দুর্দিনের শিকার এবং স্নেহ-ভালোবাসা হীন হয়ে তারা সারাদিন মায়ের কবরের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে স্নেহের আঁচলের ছায়া খোঁজে।

সাবিনা নামে তাদের এক বড় বোন থাকলেও দূর গ্রামে অসচ্ছল পরিবারে বিয়ে হয় তার। সেই অসচ্ছল পরিবারের গৃহবধূ বড় বোন সাবিনা এখন স্নেহের ছোট ৪ ভাই বোনকে নিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসছেন। ছোট ৪ ভাইবোনকে নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তায় দিশেহারা বড় বোন সাবিনা আক্তার।

স্থানীয় প্রশাসন, দাতা সংস্থা কিংবা হৃদয়বান কোনো ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে ওই এতিম চার শিশুও হয়তো অযত্ন অবহেলায় একে একে অকালে ঝরে পড়বে। এমন পরিস্থিতি সামলে নিতে সাবিনা আক্তার সবার কাছে মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মুহিত বলেন, বাবার পর বজ্রপাতে মা মারা যাওয়া ওই চার শিশু অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা তার দরিদ্র বড় বোনের বাড়িতে রয়েছে। তাদের বড় বোনও খুব অসহায়। ছোট ৪ ভাই ও বোনের দায়িত্ব নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি তাদের সামান্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কোনো দাতা সংস্থা কিংবা হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে ওই এতিম ৪ শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বাবার পর বজ্রপাতে মারা গেলেন মা, ৪ এতিম শিশুর দায়িত্ব নেবে কে

আপডেট সময় ০৯:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বাবা রফিকুল ইসলাম শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন ৯ মাস আগে। বাবার হারানোর বেদনা ও শোক কাটতে না কাটতেই বজ্রপাতে মারা গেলেন মা। বাবা-মাকে হারিয়ে এখন দিশেহারা ৪ শিশু। এই ৪ এতিম শিশুর দায়িত্ব নেবে কে?

গত ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে বজ্রপাতে মারা যান স্নেহময়ী মা নূরুন্নাহার বেগম। জেলার হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজীপুর স্বামী হারানোর শোকের বোঝা মাথায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী নুরুন্নাহারের (৪০) এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকাজুড়ে।

বজ্রপাতে শেষ আশ্রয়স্থল মায়ের স্নেহের আঁচল সরে যাওয়ায় শোকে-দুঃখে দিশেহারা হয়ে ওঠে ৭ বছরের শিশুপুত্র শোয়েব, ৯ বছরের শিশুকন্যা ফাতেমা, ১১ বছরের বৃষ্টি এবং ১৩ বছরের শিশুকন্যা সামিরা। এমন ঘোর দুর্দিনের শিকার এবং স্নেহ-ভালোবাসা হীন হয়ে তারা সারাদিন মায়ের কবরের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে স্নেহের আঁচলের ছায়া খোঁজে।

সাবিনা নামে তাদের এক বড় বোন থাকলেও দূর গ্রামে অসচ্ছল পরিবারে বিয়ে হয় তার। সেই অসচ্ছল পরিবারের গৃহবধূ বড় বোন সাবিনা এখন স্নেহের ছোট ৪ ভাই বোনকে নিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসছেন। ছোট ৪ ভাইবোনকে নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তায় দিশেহারা বড় বোন সাবিনা আক্তার।

স্থানীয় প্রশাসন, দাতা সংস্থা কিংবা হৃদয়বান কোনো ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে ওই এতিম চার শিশুও হয়তো অযত্ন অবহেলায় একে একে অকালে ঝরে পড়বে। এমন পরিস্থিতি সামলে নিতে সাবিনা আক্তার সবার কাছে মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মুহিত বলেন, বাবার পর বজ্রপাতে মা মারা যাওয়া ওই চার শিশু অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা তার দরিদ্র বড় বোনের বাড়িতে রয়েছে। তাদের বড় বোনও খুব অসহায়। ছোট ৪ ভাই ও বোনের দায়িত্ব নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি তাদের সামান্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কোনো দাতা সংস্থা কিংবা হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে ওই এতিম ৪ শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।