ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দিকে ঠেলছে: জাতিসংঘে চীনের দূত বৃহস্পতিবার ফটিকছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা ‘গণকবর ও নদীতে ভাসানো শহীদেরা শনাক্ত হলে সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াতে পারে’:চিফ প্রসিকিউটর উত্তরায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল ফারাক্কার চেয়ে বড় মরণফাঁদ হচ্ছে নেতৃত্ব সংস্কারের গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থতা মার্কিন হামলায় ইরানের ৭ সেনা নিহত তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক, গ্রেফতার ২ পাচার ও চোরাচালান রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী ফ্রান্স: রাষ্ট্রদূত

বাবাকে বেধড়ক পিটিয়ে টাকা ছিনতাই: উদ্ধার ৩১ লাখ, গ্রেপ্তার আরেক ছেলে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

যে বাবা-মা তিন সন্তানকে মানুষ করেছেন, তারাই বাবাকে মেরে রক্তাক্ত করে ছিনতাই করে নেন ৩১ লাখ টাকা। গত ২৮ জুন রাজধানীর মানিকদিতে শেষ সম্বল (জমি) বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন জয়নাল আবেদিন ও তার স্ত্রী। আর ছিনতাইকারী ছিলেন তারই তিন ছেলে।

এরপর ১৪ আগস্ট টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে পালিয়ে থাকা বৃদ্ধার অন্য দু্ই ছেলে হান্নান ও মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর গ্রেপ্তার করা হলো বড় ছেলে মোহাম্মদ হানিফকে। এসময় ছিনতাই হওয়া টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৮ জুন রাজধানীর মানিকদিতে শেষ সম্বল (জমি) বিক্রির ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন জয়নাল আবেদিন ও তার স্ত্রী। এর পর ১৪ আগস্ট টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে পালিয়ে থাকা বৃদ্ধার দু্ই ছেলে হান্নান ও মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর গ্রেপ্তার করা হলো বড় ছেলে হানিফকেও।

এ ঘটনায় ছেলেরা অনুতপ্ত হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও হামলা করতে পারেন বলে আশঙ্কা ভুক্তভোগী মা-বাবার। তারা বলছেন, ‘এ ঘটনায় এলাকায় মানসম্মান সব শেষ হয়ে গেছে। মারাত্মকভাবে আমাদেরকে আঘাত করেছে। বের হয়ে তারা আমাদেরকে কী করবে, সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা পুরো টাকাটাই উদ্ধার করে ওই বৃদ্ধ মা-বাবাকে ফিরিয়ে দিয়েছি। এ ঘটনার জন্য তাদের ৩ সন্তানই দায়ী। মা-বাবার টাকা ছিনতাই করা এ ছেলেগুলো একদিনেই নষ্ট হয়নি। তারা অনেক দিন ধরেই এ পথে এসেছেন। মা-বাবার উচিত ছিল, ছেলেদের খোঁজখবর রাখা। তারা হয়ত সঠিকভাবে ছেলেদেরকে তত্ত্বাবধান করতে পারেননি।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মা-বাবা আশঙ্কা করছেন, ছেলেরা জেল থেকে বের হয়ে আবারও হামলা করতে পারে। কিন্তু এ ধরনের যদি কোনো কিছু ঘটে, তাহলে তাদেরকে আবারও গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

এদিকে ছেলেদের মারধরের শিকার ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন এখন ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। জানা গেছে, ছেলেদের অত্যাচার সইতে না পেরে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার পশ্চিম মানিকদীর একটি ভবনে মেয়ের পরিবারের সাথে ভাড়া থাকেন জয়নাল-হনুফা দম্পতি। নিজের সম্পত্তির অধিকাংশই দিয়েছেন তিন ছেলের নামে। নিজের স্ত্রী আর মেয়ের কথা ভেবে মানিকদী এলাকার আড়াই কাঠা জমি ছেলেদের দেননি। তাই তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত তিন ছেলে। পরে ওই জমি বিক্রি করে টাকা জমিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন জয়নাল। জমি বিক্রি করে রেজিস্ট্রি অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় ছিনতাইকারীর বেশে জয়নালের উপর হামলা চালায় তিন ছেলে। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে জখম করেন বাবাকে।

জয়নাল আবেদীন বলেন, জমি বিক্রি করে ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বাসায় ঢোকার সময়ই হামলা করা হয়। আমার তিন ছেলে আর তাদের এক সহকর্মীকে নিয়ে চারজন মিলে মেরে আমার পা আর মাথা জখম করে দেয়। প্রায় এক বিঘার মতো জমি ছিল। সন্তানদের লালন পালন করতে করতে পরে যা ছিল তার প্রায় সবই ছেলেদের দিয়েছি। এমন সন্তান থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দিকে ঠেলছে: জাতিসংঘে চীনের দূত

বাবাকে বেধড়ক পিটিয়ে টাকা ছিনতাই: উদ্ধার ৩১ লাখ, গ্রেপ্তার আরেক ছেলে

আপডেট সময় ১১:০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

যে বাবা-মা তিন সন্তানকে মানুষ করেছেন, তারাই বাবাকে মেরে রক্তাক্ত করে ছিনতাই করে নেন ৩১ লাখ টাকা। গত ২৮ জুন রাজধানীর মানিকদিতে শেষ সম্বল (জমি) বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন জয়নাল আবেদিন ও তার স্ত্রী। আর ছিনতাইকারী ছিলেন তারই তিন ছেলে।

এরপর ১৪ আগস্ট টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে পালিয়ে থাকা বৃদ্ধার অন্য দু্ই ছেলে হান্নান ও মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর গ্রেপ্তার করা হলো বড় ছেলে মোহাম্মদ হানিফকে। এসময় ছিনতাই হওয়া টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৮ জুন রাজধানীর মানিকদিতে শেষ সম্বল (জমি) বিক্রির ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন জয়নাল আবেদিন ও তার স্ত্রী। এর পর ১৪ আগস্ট টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে পালিয়ে থাকা বৃদ্ধার দু্ই ছেলে হান্নান ও মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর গ্রেপ্তার করা হলো বড় ছেলে হানিফকেও।

এ ঘটনায় ছেলেরা অনুতপ্ত হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও হামলা করতে পারেন বলে আশঙ্কা ভুক্তভোগী মা-বাবার। তারা বলছেন, ‘এ ঘটনায় এলাকায় মানসম্মান সব শেষ হয়ে গেছে। মারাত্মকভাবে আমাদেরকে আঘাত করেছে। বের হয়ে তারা আমাদেরকে কী করবে, সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা পুরো টাকাটাই উদ্ধার করে ওই বৃদ্ধ মা-বাবাকে ফিরিয়ে দিয়েছি। এ ঘটনার জন্য তাদের ৩ সন্তানই দায়ী। মা-বাবার টাকা ছিনতাই করা এ ছেলেগুলো একদিনেই নষ্ট হয়নি। তারা অনেক দিন ধরেই এ পথে এসেছেন। মা-বাবার উচিত ছিল, ছেলেদের খোঁজখবর রাখা। তারা হয়ত সঠিকভাবে ছেলেদেরকে তত্ত্বাবধান করতে পারেননি।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মা-বাবা আশঙ্কা করছেন, ছেলেরা জেল থেকে বের হয়ে আবারও হামলা করতে পারে। কিন্তু এ ধরনের যদি কোনো কিছু ঘটে, তাহলে তাদেরকে আবারও গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

এদিকে ছেলেদের মারধরের শিকার ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন এখন ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। জানা গেছে, ছেলেদের অত্যাচার সইতে না পেরে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার পশ্চিম মানিকদীর একটি ভবনে মেয়ের পরিবারের সাথে ভাড়া থাকেন জয়নাল-হনুফা দম্পতি। নিজের সম্পত্তির অধিকাংশই দিয়েছেন তিন ছেলের নামে। নিজের স্ত্রী আর মেয়ের কথা ভেবে মানিকদী এলাকার আড়াই কাঠা জমি ছেলেদের দেননি। তাই তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত তিন ছেলে। পরে ওই জমি বিক্রি করে টাকা জমিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন জয়নাল। জমি বিক্রি করে রেজিস্ট্রি অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় ছিনতাইকারীর বেশে জয়নালের উপর হামলা চালায় তিন ছেলে। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে জখম করেন বাবাকে।

জয়নাল আবেদীন বলেন, জমি বিক্রি করে ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বাসায় ঢোকার সময়ই হামলা করা হয়। আমার তিন ছেলে আর তাদের এক সহকর্মীকে নিয়ে চারজন মিলে মেরে আমার পা আর মাথা জখম করে দেয়। প্রায় এক বিঘার মতো জমি ছিল। সন্তানদের লালন পালন করতে করতে পরে যা ছিল তার প্রায় সবই ছেলেদের দিয়েছি। এমন সন্তান থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।