ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপে ব্যর্থতা : পাকিস্তান দলের প্রত্যেককে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, হটলাইন চালু করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র কারচুপির অভিযোগ,ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির আরও ৪ প্রার্থী বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দায়িত্ব নিল আমিরাত মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ ফাইটার জেট, দাবি ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না ইরান : লারিজানি

মেহেদি পরায় ছাত্রীকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে প্রধান শিক্ষক বললেন ‘মন চাইছে তাই মেরেছি’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হাতে মেহেদি পরার অপরাধে এক স্কুলছাত্রীকে তার বড় বোনের সামনে পিটিয়ে অজ্ঞান করলেন প্রধান শিক্ষক। এ বড় বোনের চিৎকারে অন্য শিক্ষক এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করে। এমন মারপিটের কারণ জানতে চাইলে প্রধানশিক্ষক জবাব দেন কোনো কারণ নাই মন চাইছে তাই মেরেছি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পৌর শহরের আবেদ আলী গার্লস স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী তাইমুন নুসরাত হাসি (১৪) বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মশিউর রহমান।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বলেন, ‘জীববিজ্ঞান ক্লাস চলাকালে আমার পেটে ব্যথা অনুভব করি। এরপর স্কুলের ডায়রিতে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে প্রধান শিক্ষককে জানাই। এরপর স্কুলের সংশ্লিষ্টরা আমার অভিভাবককে স্কুলে আসতে বলে। তখন আমার বড় বোন সিফাত স্কুলে আসে। এরপর আমাকে প্রধান শিক্ষক তার রুমে ডেকে নেন এবং ছুটির কারণ জানতে চান। এ সময় আমার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে মেহেদি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে যান প্রধান শিক্ষক। এরপর লাঠি হাতে আমার হাতে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এ সময় আমার বোন পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন। আমি অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি। এরপর কী হয়েছে বলতে পারিনি।’

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বড় বোন সিফাত বলেন, ‘স্কুল থেকে ফোন করে আমার বোন অসুস্থ হওয়ার খবর দেয়। স্কুলে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক আমার বোনকে ডেকে নেয়। পরবর্তীতে হাতের আঙুলে মেহেদি দেখে প্রধান শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে বলতে শুরু করে, ‘মেহেদি পরতে পারো আবার পেটে ব্যথা কী? ’ এই বলে লাঠি হাতে নিয়ে পেটাতে থাকে আমার বোনকে। এরপর অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। তখন প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করলাম আপনি, এভাবে মারলেন কেন? তিনি বলেন, মন চাইছে তাই মারছি।’

শিক্ষকের এমন আচরণ ক্ষুব্ধ তাইমুন নুসরাতের বাবা মো. কাজল মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে কোনো অন্যায় করলে তিনি শাসন করতে পারেন। কিন্তু মেয়ে অসুস্থ অবস্থায় মেহেদি পরার জন্য মারতে পারেন না। আমি এর বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবেদ আলী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দুষ্টুমি করলে আমরা শিক্ষক হিসেবে একটু শাসন করে থাকি। তবে বেশি মারধর করা হয়নি।

শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে একজন অভিভাবক আমাকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মেহেদি পরায় ছাত্রীকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে প্রধান শিক্ষক বললেন ‘মন চাইছে তাই মেরেছি’

আপডেট সময় ০৮:৪৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হাতে মেহেদি পরার অপরাধে এক স্কুলছাত্রীকে তার বড় বোনের সামনে পিটিয়ে অজ্ঞান করলেন প্রধান শিক্ষক। এ বড় বোনের চিৎকারে অন্য শিক্ষক এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করে। এমন মারপিটের কারণ জানতে চাইলে প্রধানশিক্ষক জবাব দেন কোনো কারণ নাই মন চাইছে তাই মেরেছি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পৌর শহরের আবেদ আলী গার্লস স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী তাইমুন নুসরাত হাসি (১৪) বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মশিউর রহমান।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বলেন, ‘জীববিজ্ঞান ক্লাস চলাকালে আমার পেটে ব্যথা অনুভব করি। এরপর স্কুলের ডায়রিতে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে প্রধান শিক্ষককে জানাই। এরপর স্কুলের সংশ্লিষ্টরা আমার অভিভাবককে স্কুলে আসতে বলে। তখন আমার বড় বোন সিফাত স্কুলে আসে। এরপর আমাকে প্রধান শিক্ষক তার রুমে ডেকে নেন এবং ছুটির কারণ জানতে চান। এ সময় আমার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে মেহেদি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে যান প্রধান শিক্ষক। এরপর লাঠি হাতে আমার হাতে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এ সময় আমার বোন পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন। আমি অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি। এরপর কী হয়েছে বলতে পারিনি।’

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বড় বোন সিফাত বলেন, ‘স্কুল থেকে ফোন করে আমার বোন অসুস্থ হওয়ার খবর দেয়। স্কুলে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক আমার বোনকে ডেকে নেয়। পরবর্তীতে হাতের আঙুলে মেহেদি দেখে প্রধান শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে বলতে শুরু করে, ‘মেহেদি পরতে পারো আবার পেটে ব্যথা কী? ’ এই বলে লাঠি হাতে নিয়ে পেটাতে থাকে আমার বোনকে। এরপর অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। তখন প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করলাম আপনি, এভাবে মারলেন কেন? তিনি বলেন, মন চাইছে তাই মারছি।’

শিক্ষকের এমন আচরণ ক্ষুব্ধ তাইমুন নুসরাতের বাবা মো. কাজল মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে কোনো অন্যায় করলে তিনি শাসন করতে পারেন। কিন্তু মেয়ে অসুস্থ অবস্থায় মেহেদি পরার জন্য মারতে পারেন না। আমি এর বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবেদ আলী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দুষ্টুমি করলে আমরা শিক্ষক হিসেবে একটু শাসন করে থাকি। তবে বেশি মারধর করা হয়নি।

শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে একজন অভিভাবক আমাকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’