ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

মেহেদি পরায় ছাত্রীকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে প্রধান শিক্ষক বললেন ‘মন চাইছে তাই মেরেছি’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হাতে মেহেদি পরার অপরাধে এক স্কুলছাত্রীকে তার বড় বোনের সামনে পিটিয়ে অজ্ঞান করলেন প্রধান শিক্ষক। এ বড় বোনের চিৎকারে অন্য শিক্ষক এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করে। এমন মারপিটের কারণ জানতে চাইলে প্রধানশিক্ষক জবাব দেন কোনো কারণ নাই মন চাইছে তাই মেরেছি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পৌর শহরের আবেদ আলী গার্লস স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী তাইমুন নুসরাত হাসি (১৪) বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মশিউর রহমান।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বলেন, ‘জীববিজ্ঞান ক্লাস চলাকালে আমার পেটে ব্যথা অনুভব করি। এরপর স্কুলের ডায়রিতে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে প্রধান শিক্ষককে জানাই। এরপর স্কুলের সংশ্লিষ্টরা আমার অভিভাবককে স্কুলে আসতে বলে। তখন আমার বড় বোন সিফাত স্কুলে আসে। এরপর আমাকে প্রধান শিক্ষক তার রুমে ডেকে নেন এবং ছুটির কারণ জানতে চান। এ সময় আমার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে মেহেদি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে যান প্রধান শিক্ষক। এরপর লাঠি হাতে আমার হাতে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এ সময় আমার বোন পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন। আমি অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি। এরপর কী হয়েছে বলতে পারিনি।’

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বড় বোন সিফাত বলেন, ‘স্কুল থেকে ফোন করে আমার বোন অসুস্থ হওয়ার খবর দেয়। স্কুলে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক আমার বোনকে ডেকে নেয়। পরবর্তীতে হাতের আঙুলে মেহেদি দেখে প্রধান শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে বলতে শুরু করে, ‘মেহেদি পরতে পারো আবার পেটে ব্যথা কী? ’ এই বলে লাঠি হাতে নিয়ে পেটাতে থাকে আমার বোনকে। এরপর অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। তখন প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করলাম আপনি, এভাবে মারলেন কেন? তিনি বলেন, মন চাইছে তাই মারছি।’

শিক্ষকের এমন আচরণ ক্ষুব্ধ তাইমুন নুসরাতের বাবা মো. কাজল মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে কোনো অন্যায় করলে তিনি শাসন করতে পারেন। কিন্তু মেয়ে অসুস্থ অবস্থায় মেহেদি পরার জন্য মারতে পারেন না। আমি এর বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবেদ আলী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দুষ্টুমি করলে আমরা শিক্ষক হিসেবে একটু শাসন করে থাকি। তবে বেশি মারধর করা হয়নি।

শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে একজন অভিভাবক আমাকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

মেহেদি পরায় ছাত্রীকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে প্রধান শিক্ষক বললেন ‘মন চাইছে তাই মেরেছি’

আপডেট সময় ০৮:৪৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হাতে মেহেদি পরার অপরাধে এক স্কুলছাত্রীকে তার বড় বোনের সামনে পিটিয়ে অজ্ঞান করলেন প্রধান শিক্ষক। এ বড় বোনের চিৎকারে অন্য শিক্ষক এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করে। এমন মারপিটের কারণ জানতে চাইলে প্রধানশিক্ষক জবাব দেন কোনো কারণ নাই মন চাইছে তাই মেরেছি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পৌর শহরের আবেদ আলী গার্লস স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী তাইমুন নুসরাত হাসি (১৪) বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মশিউর রহমান।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বলেন, ‘জীববিজ্ঞান ক্লাস চলাকালে আমার পেটে ব্যথা অনুভব করি। এরপর স্কুলের ডায়রিতে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে প্রধান শিক্ষককে জানাই। এরপর স্কুলের সংশ্লিষ্টরা আমার অভিভাবককে স্কুলে আসতে বলে। তখন আমার বড় বোন সিফাত স্কুলে আসে। এরপর আমাকে প্রধান শিক্ষক তার রুমে ডেকে নেন এবং ছুটির কারণ জানতে চান। এ সময় আমার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে মেহেদি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে যান প্রধান শিক্ষক। এরপর লাঠি হাতে আমার হাতে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এ সময় আমার বোন পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন। আমি অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি। এরপর কী হয়েছে বলতে পারিনি।’

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বড় বোন সিফাত বলেন, ‘স্কুল থেকে ফোন করে আমার বোন অসুস্থ হওয়ার খবর দেয়। স্কুলে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক আমার বোনকে ডেকে নেয়। পরবর্তীতে হাতের আঙুলে মেহেদি দেখে প্রধান শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে বলতে শুরু করে, ‘মেহেদি পরতে পারো আবার পেটে ব্যথা কী? ’ এই বলে লাঠি হাতে নিয়ে পেটাতে থাকে আমার বোনকে। এরপর অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। তখন প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করলাম আপনি, এভাবে মারলেন কেন? তিনি বলেন, মন চাইছে তাই মারছি।’

শিক্ষকের এমন আচরণ ক্ষুব্ধ তাইমুন নুসরাতের বাবা মো. কাজল মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে কোনো অন্যায় করলে তিনি শাসন করতে পারেন। কিন্তু মেয়ে অসুস্থ অবস্থায় মেহেদি পরার জন্য মারতে পারেন না। আমি এর বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবেদ আলী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দুষ্টুমি করলে আমরা শিক্ষক হিসেবে একটু শাসন করে থাকি। তবে বেশি মারধর করা হয়নি।

শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে একজন অভিভাবক আমাকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’