ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

নাগেশ্বরীতে বিএনপি নেতার ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার ২

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাগেশ্বরীতে অপহরণের তিনদিন পর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল সভাপতি ব্যবসায়ীর ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পৌর এলাকার সাতানী পাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো দুই জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরী পৌরসভার আশার মোড় কবিরের ভিটা গ্রামের মৃত ময়নুদ্দিনের ছেলে উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল সভাপতি ব্যবসায়ী শীতল মেডিসিন কর্ণারের সত্ত্বাধিকারী জহুরুল হক গত ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল তিনটায় তার কোমল পানীয় ব্যবসার সরবরাহকারী পার্শ্ববর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের নাগেশ্বরীস্থ ভাড়া বাসা সাতানী পাড়ায় দাওয়াত খেতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। ওই রাতে টহল পুলিশ পৌরসভার কালীরপাঠ জোড়া ব্রিজ নামক স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে। পরে জানা যায় সেটি জহুরুল ইসলামের। অনেক খোঁজাখুজির পর স্বামীকে না পেয়ে তার স্ত্রী লাইজু বেগম ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার জাহাঙ্গীর আলম (২৭) ও তার নানী শাশুড়ি কুড়িগ্রাম সদর থানা ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৈকুরী ভাটিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী ছাফিয়া বেগম (৬০)সহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম ও তার নানী শাশুড়ি ছাফিয়া বেগমকে আটক করে। ওইদিন দুপুরে পুলিশ জোড়া ব্রিজের আশে পাশে অভিযান চালিয়ে জহুরুল হকের হেলমেট ও রেইনকোর্ট উদ্ধার করে। এতে পুলিশের সন্দেহ হয় জহুরুল হককে মেরে ফেলে জোড়া ব্রিজের নিচে গীড়াই বিলে লাশ গুম করা হয়েছে। ওই রাতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি এনে সেখানে অনুসন্ধান চালিয়েও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ রবিবার রাত সাড়ে ১২ টায় জাহাঙ্গীরের ভাড়া বাসার ঘরের পিছনে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা বালুর বস্তার নিচে থেকে জহুরুল হকের নাক মুখ ও মাথা থেঁতলে দেয়া গলায় ফাঁস লাগানো ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। পরে জাহাঙ্গীরের স্বীকারোক্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো ২ জনকে আটক করা হয়। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।

একাধিক সুত্র জানা যায়, আসামী জাহাঙ্গীর আলম তার মালিক জহুরুল হককে বলেন তার নানী শাশুড়ি ছাফিয়া বেগম কয়েকদিন আগে মাটির নিচ একটি সোনার নৌকা পায়। সেটি বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে শুক্রবার তাকে দাওয়াত দিয়ে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে শিল দিয়ে তার নাক,মুখ, মাথা থেঁতলে দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে হত্যাকারীরা। পরে তারা তার লাশ ঘরের পিছনে বালুর বস্তার নিচে রেখে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখে। তাদের ধারনা ব্যবসায়ী জহুরুলের ডাচ বাংলা (রকেট), বিকাশ, ফ্লেক্সিলোড, ঔষধ ব্যবসায় ব্যবসায় টাকা ও নগদ মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে সোনার নৌকার নাটক সাজিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজালুল ইসলাম বলেন, আটককৃতদের কুড়িগ্রাম জেল হাজতে ও লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

নাগেশ্বরীতে বিএনপি নেতার ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার ২

আপডেট সময় ১২:২৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাগেশ্বরীতে অপহরণের তিনদিন পর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল সভাপতি ব্যবসায়ীর ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পৌর এলাকার সাতানী পাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো দুই জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরী পৌরসভার আশার মোড় কবিরের ভিটা গ্রামের মৃত ময়নুদ্দিনের ছেলে উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল সভাপতি ব্যবসায়ী শীতল মেডিসিন কর্ণারের সত্ত্বাধিকারী জহুরুল হক গত ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল তিনটায় তার কোমল পানীয় ব্যবসার সরবরাহকারী পার্শ্ববর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের নাগেশ্বরীস্থ ভাড়া বাসা সাতানী পাড়ায় দাওয়াত খেতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। ওই রাতে টহল পুলিশ পৌরসভার কালীরপাঠ জোড়া ব্রিজ নামক স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে। পরে জানা যায় সেটি জহুরুল ইসলামের। অনেক খোঁজাখুজির পর স্বামীকে না পেয়ে তার স্ত্রী লাইজু বেগম ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার জাহাঙ্গীর আলম (২৭) ও তার নানী শাশুড়ি কুড়িগ্রাম সদর থানা ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৈকুরী ভাটিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী ছাফিয়া বেগম (৬০)সহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম ও তার নানী শাশুড়ি ছাফিয়া বেগমকে আটক করে। ওইদিন দুপুরে পুলিশ জোড়া ব্রিজের আশে পাশে অভিযান চালিয়ে জহুরুল হকের হেলমেট ও রেইনকোর্ট উদ্ধার করে। এতে পুলিশের সন্দেহ হয় জহুরুল হককে মেরে ফেলে জোড়া ব্রিজের নিচে গীড়াই বিলে লাশ গুম করা হয়েছে। ওই রাতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি এনে সেখানে অনুসন্ধান চালিয়েও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ রবিবার রাত সাড়ে ১২ টায় জাহাঙ্গীরের ভাড়া বাসার ঘরের পিছনে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা বালুর বস্তার নিচে থেকে জহুরুল হকের নাক মুখ ও মাথা থেঁতলে দেয়া গলায় ফাঁস লাগানো ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। পরে জাহাঙ্গীরের স্বীকারোক্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো ২ জনকে আটক করা হয়। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।

একাধিক সুত্র জানা যায়, আসামী জাহাঙ্গীর আলম তার মালিক জহুরুল হককে বলেন তার নানী শাশুড়ি ছাফিয়া বেগম কয়েকদিন আগে মাটির নিচ একটি সোনার নৌকা পায়। সেটি বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে শুক্রবার তাকে দাওয়াত দিয়ে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে শিল দিয়ে তার নাক,মুখ, মাথা থেঁতলে দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে হত্যাকারীরা। পরে তারা তার লাশ ঘরের পিছনে বালুর বস্তার নিচে রেখে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখে। তাদের ধারনা ব্যবসায়ী জহুরুলের ডাচ বাংলা (রকেট), বিকাশ, ফ্লেক্সিলোড, ঔষধ ব্যবসায় ব্যবসায় টাকা ও নগদ মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে সোনার নৌকার নাটক সাজিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজালুল ইসলাম বলেন, আটককৃতদের কুড়িগ্রাম জেল হাজতে ও লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।