ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মৌলিক জ্ঞান না থাকলে কোচিংয়ে আসা উচিত নয়’:তামিম ইকবাল আপসকামিতা নয়, স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার ইতিহাস বিএনপির: জাহিদ হোসেন পটিয়া থানার ২শ গজ সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো দুর্নীতি গুম খুন হয়নি হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে

১৩ আগস্ট জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের রেকি করতে এসেছিল : মেয়র তাপস

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

বাবা শেখ ফজলুল হক মনির সাথে সাক্ষাতের ছলে ১৯৭৫ সালের ১৩ আগস্ট খুনি জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের রেকি করতে এসেছিল বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

আজ সন্ধ্যায় জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ কর্তৃক ‘জাতীয় শোক দিবস-২০২২’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মেয়র এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৩ আগস্ট খুনি জিয়াউর রহমান আমাদের বাসায় এসেছিল। সেদিন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি বাবার সাথে দেখা করে গেছেন। সেদিন জিয়াউর রহমানের আমাদের বাসায় আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনও তথ্য আছে কি-না তা জানার অনুমান করা। আমরা কোনও কিছু জানি নাকি? বাসার পরিস্থিতি কি, আশেপাশের অবস্থা কি? এসব রেকি করার জন্যই সেদিন খুনি জিয়া নিজেই স্বশরীরে আমাদের বাসায় এসেছিল।’

নেপথ্য থেকে শুধু হত্যাকাণ্ড ঘটানোয় নয়, খুনিদের রক্ষা করাও জিয়াউর রহমানের মূল ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের মূল কার্যক্রমই ছিল নেপথ্য থেকে এই হত্যাকাণ্ড সামাল দেওয়া। সেই খুনিদেরকে বাঁচানো। কেউ যেন সেই খুনিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে না পারে এবং তাদের যে মূল উদ্দেশ্য, তা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় সেটা নিশ্চিত করা। সেটাই সে সুচারুভাবে সম্পন্ন করে।’

১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড পরবর্তী কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা জিয়াউর রহমানের অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকাকে প্রমাণ করে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পরে যারা এই হত্যাকাণ্ডকে বাধা দিতে চেয়েছিল, প্রতিঘাত করতে চেয়েছিল, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়েছিল কর্নেল নুরুদ্দীন ও শাফায়াত জামিলকে আটক করে কর্নেল রশিদ সেদিন জিয়াউর রহমানের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। খুনের পরবর্তী ঘটনা আরও প্রমাণ করে যে, জিয়াউর রহমান তাদের আস্থার জায়গা ছিল। সাধারণ মানুষের কিংবা সেনাবাহিনীর মধ্যকার যে কোনও ধরনের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং প্রতিহত করার যে কোনও প্রচেষ্টা সেদিন জিয়াউর রহমান সামাল দিয়েছিল। সুতরাং এসব তথ্য-উপাত্ত প্রমাণ করে যে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে খুনি জিয়া ওৎপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।’

জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসেই খুনি কর্নেল রশিদকে ‘গো এহেড’ নির্দেশের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা, সরকারের বিরুদ্ধে ক্যু করা এবং রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মেয়র উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা আজও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই মুক্তিযুদ্ধরবিরোধী শক্তি- জামায়াত-বিএনপির সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে সবাইকে শপথ নিতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট কাল রাতে শাহাদাৎবরণকারী সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শহিদ উল্লাহ মিনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহম্মেদ মন্নাফী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী মো. শাহিদ, সাজেদা বেগম, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এফ এম শরিফুল ইসলাম, কার্য নির্বাহী সদস্য ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ মনসুরসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৩ আগস্ট জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের রেকি করতে এসেছিল : মেয়র তাপস

আপডেট সময় ১১:২৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

বাবা শেখ ফজলুল হক মনির সাথে সাক্ষাতের ছলে ১৯৭৫ সালের ১৩ আগস্ট খুনি জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের রেকি করতে এসেছিল বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

আজ সন্ধ্যায় জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ কর্তৃক ‘জাতীয় শোক দিবস-২০২২’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মেয়র এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৩ আগস্ট খুনি জিয়াউর রহমান আমাদের বাসায় এসেছিল। সেদিন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি বাবার সাথে দেখা করে গেছেন। সেদিন জিয়াউর রহমানের আমাদের বাসায় আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনও তথ্য আছে কি-না তা জানার অনুমান করা। আমরা কোনও কিছু জানি নাকি? বাসার পরিস্থিতি কি, আশেপাশের অবস্থা কি? এসব রেকি করার জন্যই সেদিন খুনি জিয়া নিজেই স্বশরীরে আমাদের বাসায় এসেছিল।’

নেপথ্য থেকে শুধু হত্যাকাণ্ড ঘটানোয় নয়, খুনিদের রক্ষা করাও জিয়াউর রহমানের মূল ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের মূল কার্যক্রমই ছিল নেপথ্য থেকে এই হত্যাকাণ্ড সামাল দেওয়া। সেই খুনিদেরকে বাঁচানো। কেউ যেন সেই খুনিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে না পারে এবং তাদের যে মূল উদ্দেশ্য, তা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় সেটা নিশ্চিত করা। সেটাই সে সুচারুভাবে সম্পন্ন করে।’

১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড পরবর্তী কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা জিয়াউর রহমানের অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকাকে প্রমাণ করে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পরে যারা এই হত্যাকাণ্ডকে বাধা দিতে চেয়েছিল, প্রতিঘাত করতে চেয়েছিল, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়েছিল কর্নেল নুরুদ্দীন ও শাফায়াত জামিলকে আটক করে কর্নেল রশিদ সেদিন জিয়াউর রহমানের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। খুনের পরবর্তী ঘটনা আরও প্রমাণ করে যে, জিয়াউর রহমান তাদের আস্থার জায়গা ছিল। সাধারণ মানুষের কিংবা সেনাবাহিনীর মধ্যকার যে কোনও ধরনের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং প্রতিহত করার যে কোনও প্রচেষ্টা সেদিন জিয়াউর রহমান সামাল দিয়েছিল। সুতরাং এসব তথ্য-উপাত্ত প্রমাণ করে যে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে খুনি জিয়া ওৎপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।’

জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসেই খুনি কর্নেল রশিদকে ‘গো এহেড’ নির্দেশের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা, সরকারের বিরুদ্ধে ক্যু করা এবং রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মেয়র উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা আজও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই মুক্তিযুদ্ধরবিরোধী শক্তি- জামায়াত-বিএনপির সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে সবাইকে শপথ নিতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট কাল রাতে শাহাদাৎবরণকারী সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শহিদ উল্লাহ মিনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহম্মেদ মন্নাফী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী মো. শাহিদ, সাজেদা বেগম, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এফ এম শরিফুল ইসলাম, কার্য নির্বাহী সদস্য ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ মনসুরসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।