ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

চীন ঠেকাতে ৩৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আনছে ইইউ

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

চীনকে ঠেকাতে বিশাল বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

বলা হয়েছে, চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের’ (বিআরআই) বিকল্প হবে ৩৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (৩০০ বিলিয়ন ইউরো) এই বিনিয়োগ।

ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, ‘গ্লোবাল গেটওয়ে স্কিম’ নামে ইইউয়ের এই বিনিয়োগ প্রকৃত পক্ষেই চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের’ বিকল্প হবে।

তিনি এই মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই বিশাল অংকের বিনিয়োগ ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী অবকাঠামো, ডিজিটাল ও জলবায়ু প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। ইইউ সদস্যরা এ প্রকল্পের অর্থ যোগান দেবে। ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট ‘গ্লোবাল গেটওয়ে স্কিম’ নামক এ পরিকল্পনাটি একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্বব্যাপী চীনা বিনিয়োগের ব্যাপারে ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন প্রায়ই প্রতিকূল শর্তে এবং অস্বচ্ছ উপায়ে বিনিয়োগ করে থাকে, যা দরিদ্র দেশগুলোকে— বিশেষ করে আফ্রিকার কিছু দেশকে ঋণের ফাঁদে ফেলে চীনের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।

ইইউয়ের দাবি, চীনের বিকল্প হিসেবে গ্লোবাল গেটওয়ে স্কিমের বিনিয়োগে স্থানীয়দের সুবিধার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া বেসরকারি খাতকেও এসব বিনিয়োগে যুক্ত করা হবে। এসব কারণে ইউরোপীয়ান কমিশনের বিনিয়োগ কম ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

গ্লোবাল গেটওয়ে স্কিম ঘোষণা করে এক সংবাদ সম্মেলনে উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, দেশগুলোর চীনের অফারের চেয়ে আরও ভালো এবং ভিন্ন অফার প্রয়োজন, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের প্রকৃত বিকল্প। ’

তবে, চীনের কৌশলগত বিনিয়োগ বেল্ট অ্যান্ড রোড এরই মধ্যে আফ্রিকা, ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলসহ ইউরোপের মানচিত্র পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। চীনের কসকো কোম্পানি পিরায়ুসের গ্রিক কন্টেনার পোর্টের দুই-তৃতীয়াংশে আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং চীনের রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন ক্রোয়েশিয়ার মূল অর্থাৎ কার্যকারিতার দিক থেকে বৃহৎ সেতুটি নির্মাণ করেছে।

উল্লেখ্য, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৩ সালে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ চালু করেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে থাকে চীন। বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে সহায়তা করতে চুক্তিবদ্ধ হয়।

এর আগে বিশ্বের স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে উন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ বিশাল আকারের এক অবকাঠামোগত সহায়তার পরিকল্পনা করে। এর মাধ্যমে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে (বিআরআই) টেক্কা দিতে চায় জি-৭। এবার ইইউ চীনকে ঠেকাতে বড় বিনিয়োগের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

চীন ঠেকাতে ৩৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আনছে ইইউ

আপডেট সময় ০১:১০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

চীনকে ঠেকাতে বিশাল বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

বলা হয়েছে, চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের’ (বিআরআই) বিকল্প হবে ৩৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (৩০০ বিলিয়ন ইউরো) এই বিনিয়োগ।

ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, ‘গ্লোবাল গেটওয়ে স্কিম’ নামে ইইউয়ের এই বিনিয়োগ প্রকৃত পক্ষেই চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের’ বিকল্প হবে।

তিনি এই মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই বিশাল অংকের বিনিয়োগ ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী অবকাঠামো, ডিজিটাল ও জলবায়ু প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। ইইউ সদস্যরা এ প্রকল্পের অর্থ যোগান দেবে। ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট ‘গ্লোবাল গেটওয়ে স্কিম’ নামক এ পরিকল্পনাটি একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্বব্যাপী চীনা বিনিয়োগের ব্যাপারে ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন প্রায়ই প্রতিকূল শর্তে এবং অস্বচ্ছ উপায়ে বিনিয়োগ করে থাকে, যা দরিদ্র দেশগুলোকে— বিশেষ করে আফ্রিকার কিছু দেশকে ঋণের ফাঁদে ফেলে চীনের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।

ইইউয়ের দাবি, চীনের বিকল্প হিসেবে গ্লোবাল গেটওয়ে স্কিমের বিনিয়োগে স্থানীয়দের সুবিধার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া বেসরকারি খাতকেও এসব বিনিয়োগে যুক্ত করা হবে। এসব কারণে ইউরোপীয়ান কমিশনের বিনিয়োগ কম ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

গ্লোবাল গেটওয়ে স্কিম ঘোষণা করে এক সংবাদ সম্মেলনে উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, দেশগুলোর চীনের অফারের চেয়ে আরও ভালো এবং ভিন্ন অফার প্রয়োজন, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের প্রকৃত বিকল্প। ’

তবে, চীনের কৌশলগত বিনিয়োগ বেল্ট অ্যান্ড রোড এরই মধ্যে আফ্রিকা, ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলসহ ইউরোপের মানচিত্র পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। চীনের কসকো কোম্পানি পিরায়ুসের গ্রিক কন্টেনার পোর্টের দুই-তৃতীয়াংশে আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং চীনের রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন ক্রোয়েশিয়ার মূল অর্থাৎ কার্যকারিতার দিক থেকে বৃহৎ সেতুটি নির্মাণ করেছে।

উল্লেখ্য, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৩ সালে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ চালু করেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে থাকে চীন। বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে সহায়তা করতে চুক্তিবদ্ধ হয়।

এর আগে বিশ্বের স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে উন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ বিশাল আকারের এক অবকাঠামোগত সহায়তার পরিকল্পনা করে। এর মাধ্যমে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে (বিআরআই) টেক্কা দিতে চায় জি-৭। এবার ইইউ চীনকে ঠেকাতে বড় বিনিয়োগের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করল।