ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

প্রিয় ক্যাম্পাসে সমাহিত হলেন হাসান আজিজুল হক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হাসান আজিজুল হকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে মঙ্গলবার বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে রাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রখ্যাত এ কথাসাহিত্যিকের জানাজায় অংশ নেন রাবির উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে হাসান আজিজুল হকের মরদেহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাবির শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হয়। এর আগে মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর প্রিয় দর্শন বিভাগে, যেখানে দীর্ঘদিন তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে হাসান আজিজুল হকের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার নিজ বাসভবন উজানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র হাসান আজিজুল হক। মঙ্গলবার সকালে গোসলের কাজ সম্পন্নের পর কাফনে জড়ানো কফিন রাখা হয় তার বাসার সামনে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ছাড়াও কবি-সাহিত্যিকেরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তারা হাসান আজিজুল হকের জীবনের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

১৯৭৩ সালে দর্শন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে রাবিতে যোগ দেন হাসান আজিজুল হক। দীর্ঘ শিক্ষকতা শেষে ২০০৪ সালে তিনি অধ্যাপনা থেকে অবসর নেন। বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল এই নক্ষত্র দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত আপনজন।

এর আগে গত ২১ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসান আজিজুল হককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ২২ দিন চিকিৎসা শেষে তিনি আবারও ফিরে যান রাজশাহীতে। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার নিজ বাসভবনে বসবাস করছিলেন।

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের বর্ধমান জেলার জব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে দর্শনে এম. এ. ডিগ্রি লাভ এবং ১৯৭৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

কথাসাহিত্যে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা। এর মধ্যে রয়েছে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭০), অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), কাজী মাহবুব উল্লাহ ও বেগম জেবুন্নিসা পুরস্কার। এছাড়া ১৯৯৯ সালে ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন হাসান আজিজুল হক। ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। ২০১২ সালে তিনি ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি পান। ২০১৯ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক পান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

প্রিয় ক্যাম্পাসে সমাহিত হলেন হাসান আজিজুল হক

আপডেট সময় ০৫:২৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হাসান আজিজুল হকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে মঙ্গলবার বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে রাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রখ্যাত এ কথাসাহিত্যিকের জানাজায় অংশ নেন রাবির উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে হাসান আজিজুল হকের মরদেহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাবির শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হয়। এর আগে মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর প্রিয় দর্শন বিভাগে, যেখানে দীর্ঘদিন তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে হাসান আজিজুল হকের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার নিজ বাসভবন উজানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র হাসান আজিজুল হক। মঙ্গলবার সকালে গোসলের কাজ সম্পন্নের পর কাফনে জড়ানো কফিন রাখা হয় তার বাসার সামনে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ছাড়াও কবি-সাহিত্যিকেরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তারা হাসান আজিজুল হকের জীবনের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

১৯৭৩ সালে দর্শন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে রাবিতে যোগ দেন হাসান আজিজুল হক। দীর্ঘ শিক্ষকতা শেষে ২০০৪ সালে তিনি অধ্যাপনা থেকে অবসর নেন। বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল এই নক্ষত্র দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত আপনজন।

এর আগে গত ২১ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসান আজিজুল হককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ২২ দিন চিকিৎসা শেষে তিনি আবারও ফিরে যান রাজশাহীতে। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার নিজ বাসভবনে বসবাস করছিলেন।

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের বর্ধমান জেলার জব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে দর্শনে এম. এ. ডিগ্রি লাভ এবং ১৯৭৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

কথাসাহিত্যে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা। এর মধ্যে রয়েছে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭০), অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), কাজী মাহবুব উল্লাহ ও বেগম জেবুন্নিসা পুরস্কার। এছাড়া ১৯৯৯ সালে ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন হাসান আজিজুল হক। ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। ২০১২ সালে তিনি ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি পান। ২০১৯ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক পান।