ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

প্রিয় ক্যাম্পাসে সমাহিত হলেন হাসান আজিজুল হক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হাসান আজিজুল হকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে মঙ্গলবার বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে রাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রখ্যাত এ কথাসাহিত্যিকের জানাজায় অংশ নেন রাবির উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে হাসান আজিজুল হকের মরদেহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাবির শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হয়। এর আগে মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর প্রিয় দর্শন বিভাগে, যেখানে দীর্ঘদিন তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে হাসান আজিজুল হকের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার নিজ বাসভবন উজানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র হাসান আজিজুল হক। মঙ্গলবার সকালে গোসলের কাজ সম্পন্নের পর কাফনে জড়ানো কফিন রাখা হয় তার বাসার সামনে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ছাড়াও কবি-সাহিত্যিকেরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তারা হাসান আজিজুল হকের জীবনের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

১৯৭৩ সালে দর্শন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে রাবিতে যোগ দেন হাসান আজিজুল হক। দীর্ঘ শিক্ষকতা শেষে ২০০৪ সালে তিনি অধ্যাপনা থেকে অবসর নেন। বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল এই নক্ষত্র দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত আপনজন।

এর আগে গত ২১ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসান আজিজুল হককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ২২ দিন চিকিৎসা শেষে তিনি আবারও ফিরে যান রাজশাহীতে। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার নিজ বাসভবনে বসবাস করছিলেন।

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের বর্ধমান জেলার জব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে দর্শনে এম. এ. ডিগ্রি লাভ এবং ১৯৭৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

কথাসাহিত্যে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা। এর মধ্যে রয়েছে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭০), অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), কাজী মাহবুব উল্লাহ ও বেগম জেবুন্নিসা পুরস্কার। এছাড়া ১৯৯৯ সালে ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন হাসান আজিজুল হক। ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। ২০১২ সালে তিনি ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি পান। ২০১৯ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক পান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সর্বোচ্চ অর্জন প্রত্যাশা আসিফ নজরুলের

প্রিয় ক্যাম্পাসে সমাহিত হলেন হাসান আজিজুল হক

আপডেট সময় ০৫:২৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হাসান আজিজুল হকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে মঙ্গলবার বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে রাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রখ্যাত এ কথাসাহিত্যিকের জানাজায় অংশ নেন রাবির উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে হাসান আজিজুল হকের মরদেহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাবির শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হয়। এর আগে মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর প্রিয় দর্শন বিভাগে, যেখানে দীর্ঘদিন তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে হাসান আজিজুল হকের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার নিজ বাসভবন উজানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র হাসান আজিজুল হক। মঙ্গলবার সকালে গোসলের কাজ সম্পন্নের পর কাফনে জড়ানো কফিন রাখা হয় তার বাসার সামনে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ছাড়াও কবি-সাহিত্যিকেরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তারা হাসান আজিজুল হকের জীবনের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

১৯৭৩ সালে দর্শন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে রাবিতে যোগ দেন হাসান আজিজুল হক। দীর্ঘ শিক্ষকতা শেষে ২০০৪ সালে তিনি অধ্যাপনা থেকে অবসর নেন। বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল এই নক্ষত্র দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত আপনজন।

এর আগে গত ২১ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসান আজিজুল হককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ২২ দিন চিকিৎসা শেষে তিনি আবারও ফিরে যান রাজশাহীতে। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার নিজ বাসভবনে বসবাস করছিলেন।

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের বর্ধমান জেলার জব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে দর্শনে এম. এ. ডিগ্রি লাভ এবং ১৯৭৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

কথাসাহিত্যে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা। এর মধ্যে রয়েছে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭০), অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), কাজী মাহবুব উল্লাহ ও বেগম জেবুন্নিসা পুরস্কার। এছাড়া ১৯৯৯ সালে ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন হাসান আজিজুল হক। ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। ২০১২ সালে তিনি ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি পান। ২০১৯ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক পান।