ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইরানে বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বাংলাদেশের যে ‘গোলরক্ষক’ গোলও করতেন

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকই বলা হয় আবদুল মোতালেবকে। গতকাল রোববার ভোরে তিনি চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। শহীদুর রহমান শান্টুর সহযোদ্ধা আর মোহাম্মদ মহসিন, সাঈদ হাসান কানন, আতিকুর রহমানদের পূর্বসূরি এই গোলরক্ষক ফুটবল মাঠে ছিলেন দুর্দান্ত এক চরিত্রই। রেনে হিগুইতা, হোসে লুই চিলাভার্টদের মতোই মোতালেব কেবল গোলই ঠেকাতেন না, প্রতিপক্ষের জালে বলও ঠেলতে পারতেন।

আবাহনীর মোতালেব নামেই তাঁর খ্যাতি। তবে একটা দুর্ভাগ্যের শিকার তিনি হয়েছেন। সব যোগ্যতা থাকার পরেও ক্যারিয়ারের সেরা সময়টাতে জাতীয় দলের এক নম্বর গোলরক্ষক হয়ে খেলতে পারেননি। অথচ ১৯৭৩ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের স্কোয়াডে নিয়মিতই ছিলেন তিনি। এক নম্বর হতে না পারার কারণ, দেশের ফুটবলের অবিসংবাদিত সেরা গোলরক্ষক শহীদুর রহমান শান্টু যে তখন দুর্দান্ত ফর্মে। জাতীয় ফুটবল দলের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে শান্টুকে স্থানচ্যুত করা যে একপ্রকার অন্যায়ই তখন। ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলের এক নম্বর গোলরক্ষক হলেন বটে, কিন্তু তত দিনে সেরা সময়টা পেরিয়ে এসেছেন। উত্থান হচ্ছে নতুন প্রজন্মের। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খুব বাজে একটা গোল খাওয়ায় স্থান হারান তরুণ মহসিনের কাছে। জাতীয় দলেই এরপর আর খেলা হয়নি মোতালেবের।

গোলরক্ষক হয়েও মোতালেব বল নিয়ে সামনে উঠে পড়তেন। দলের হয়ে নিয়মিত পেনাল্টি ও ফ্রি কিক নিতেন। ১৯৮২ সালে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনীর হয়ে বিজেএমসির বিপক্ষে টাইব্রেকার থেকে একটি গোল করেছিলেন তিনি। ‘স্ট্রাইকার’ হিসেবে বিদেশের মাটিতেই সবচেয়ে দারুণ উদাহরণ গড়েছিলেন মোতালেব। ১৯৮৫ সালে কলম্বোতে এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপের ভ্যালেন্সিয়া ক্লাবের বিপক্ষে আবাহনীর হয়ে একটি গোল আছে তাঁর। সে ম্যাচে প্রথমার্ধে গোলরক্ষক হিসেবেই খেলেছেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনী-অধিনায়ক ইমতিয়াজ সুলতান জনি আহত হয় মাঠ ত্যাগ করলে বদলি গোলকিপার কার্জন চৌধুরীকে গোলে দাঁড় করিয়ে মোতালেবই তাঁর জায়গায় খেলেছিলেন। সে ম্যাচে গোল করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন। আবাহনী জিতেছিল ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে।

সে ম্যাচে নাকি আবাহনীর মূল স্ট্রাইকার শেখ মোহাম্মদ আসলাম রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘মোতালেব ভাই, আপনি আর গোল কইরেন না। নইলে আমি তো সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারব না।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঠিক আগে দিয়ে মালয়েশিয়ায় মারদেকা কাপ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কুয়ালালামপুর রওনা হওয়ার আগে গণভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল গোটা দল। বঙ্গবন্ধু সেদিন মোতালেবকে বলেছিলেন, ‘বাবা, দেশের পতাকার সম্মান তোমার হাতে।’

বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা মোতালেব রেখেছিলেন। সে টুর্নামেন্টে সিঙ্গাপুরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। নওশেরুজ্জামানের গোলে জিতলেও মোতালেব সিঙ্গাপুরের একটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে জয়ের রাস্তা পরিষ্কার করেছিলেন। বিদেশের মাটিতে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম জয়।

খেলা ছাড়ার পর কোচ হয়েছিলেন। গোলরক্ষক কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আবাহনী ও জাতীয় দলে। ব্রাজিলে একটি কোচিং কোর্সও করেছিলেন। ৬৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই চলে যেতে হলো দেশের ফুটবলের এই বর্ণাঢ্য চরিত্রকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির

বাংলাদেশের যে ‘গোলরক্ষক’ গোলও করতেন

আপডেট সময় ১২:১৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকই বলা হয় আবদুল মোতালেবকে। গতকাল রোববার ভোরে তিনি চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। শহীদুর রহমান শান্টুর সহযোদ্ধা আর মোহাম্মদ মহসিন, সাঈদ হাসান কানন, আতিকুর রহমানদের পূর্বসূরি এই গোলরক্ষক ফুটবল মাঠে ছিলেন দুর্দান্ত এক চরিত্রই। রেনে হিগুইতা, হোসে লুই চিলাভার্টদের মতোই মোতালেব কেবল গোলই ঠেকাতেন না, প্রতিপক্ষের জালে বলও ঠেলতে পারতেন।

আবাহনীর মোতালেব নামেই তাঁর খ্যাতি। তবে একটা দুর্ভাগ্যের শিকার তিনি হয়েছেন। সব যোগ্যতা থাকার পরেও ক্যারিয়ারের সেরা সময়টাতে জাতীয় দলের এক নম্বর গোলরক্ষক হয়ে খেলতে পারেননি। অথচ ১৯৭৩ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের স্কোয়াডে নিয়মিতই ছিলেন তিনি। এক নম্বর হতে না পারার কারণ, দেশের ফুটবলের অবিসংবাদিত সেরা গোলরক্ষক শহীদুর রহমান শান্টু যে তখন দুর্দান্ত ফর্মে। জাতীয় ফুটবল দলের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে শান্টুকে স্থানচ্যুত করা যে একপ্রকার অন্যায়ই তখন। ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলের এক নম্বর গোলরক্ষক হলেন বটে, কিন্তু তত দিনে সেরা সময়টা পেরিয়ে এসেছেন। উত্থান হচ্ছে নতুন প্রজন্মের। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খুব বাজে একটা গোল খাওয়ায় স্থান হারান তরুণ মহসিনের কাছে। জাতীয় দলেই এরপর আর খেলা হয়নি মোতালেবের।

গোলরক্ষক হয়েও মোতালেব বল নিয়ে সামনে উঠে পড়তেন। দলের হয়ে নিয়মিত পেনাল্টি ও ফ্রি কিক নিতেন। ১৯৮২ সালে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনীর হয়ে বিজেএমসির বিপক্ষে টাইব্রেকার থেকে একটি গোল করেছিলেন তিনি। ‘স্ট্রাইকার’ হিসেবে বিদেশের মাটিতেই সবচেয়ে দারুণ উদাহরণ গড়েছিলেন মোতালেব। ১৯৮৫ সালে কলম্বোতে এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপের ভ্যালেন্সিয়া ক্লাবের বিপক্ষে আবাহনীর হয়ে একটি গোল আছে তাঁর। সে ম্যাচে প্রথমার্ধে গোলরক্ষক হিসেবেই খেলেছেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনী-অধিনায়ক ইমতিয়াজ সুলতান জনি আহত হয় মাঠ ত্যাগ করলে বদলি গোলকিপার কার্জন চৌধুরীকে গোলে দাঁড় করিয়ে মোতালেবই তাঁর জায়গায় খেলেছিলেন। সে ম্যাচে গোল করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন। আবাহনী জিতেছিল ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে।

সে ম্যাচে নাকি আবাহনীর মূল স্ট্রাইকার শেখ মোহাম্মদ আসলাম রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘মোতালেব ভাই, আপনি আর গোল কইরেন না। নইলে আমি তো সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারব না।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঠিক আগে দিয়ে মালয়েশিয়ায় মারদেকা কাপ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কুয়ালালামপুর রওনা হওয়ার আগে গণভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল গোটা দল। বঙ্গবন্ধু সেদিন মোতালেবকে বলেছিলেন, ‘বাবা, দেশের পতাকার সম্মান তোমার হাতে।’

বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা মোতালেব রেখেছিলেন। সে টুর্নামেন্টে সিঙ্গাপুরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। নওশেরুজ্জামানের গোলে জিতলেও মোতালেব সিঙ্গাপুরের একটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে জয়ের রাস্তা পরিষ্কার করেছিলেন। বিদেশের মাটিতে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম জয়।

খেলা ছাড়ার পর কোচ হয়েছিলেন। গোলরক্ষক কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আবাহনী ও জাতীয় দলে। ব্রাজিলে একটি কোচিং কোর্সও করেছিলেন। ৬৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই চলে যেতে হলো দেশের ফুটবলের এই বর্ণাঢ্য চরিত্রকে।