ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিক পেটানো ৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত খাগড়াছড়িতে পৃথক গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের দুই সদস্য নিহত নিষিদ্ধ সংগঠনকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না, প্রতিহত করা হবে: নবীউল্লাহ নবী একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা, এমপিদের ভূমিকা গলাবাজি: জামায়াত এমপি ‘সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে’:স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের গুণী মানুষদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান মঈন খানের মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের জন্য ইসরাইল দায়ী: গালিবাফ চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারালেন আইনজীবী

‘ক্রিকেট নয়, মন দাও মাধ্যমিক পরীক্ষায়’ : শচীন টেন্ডুলকার

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সাবেক প্রধান রাজসিংহ দুঙ্গারপুর পৃথিবী ছেড়ে গেছেন সেই ২০০৯ সালে। শচীন টেন্ডুলকার তখনই তাঁর নামে ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) প্রধান ফটকের নামকরণ করার প্রস্তাব করেছিলেন। কিংবদন্তি এই ক্রিকেট সংস্কারকের মৃত্যুর আট বছর পর শচীনের প্রস্তাবটা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

সিসিআই ভবনের প্রবেশদ্বারের নামকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেন্ডুলকার। দুঙ্গারপুরের স্মৃতির প্রতি জানিয়েছেন শ্রদ্ধা। ভারতীয় ক্রিকেটে এই সংগঠকের অবদান স্মরণ করছেন অবনত মস্তকেই, ‘রাজ ভাই আমাদের গুরু ছিলেন। সিসিআইএর প্রাণ ছিলেন তিনি। তাঁর নামে গেটের নামকরণ করাটাই তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সেরা উপায়। কারণ, এই দরজা দিয়েই সব ক্রিকেটার মাঠে প্রবেশ করে।’

ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে শচীনকে নানাভাবে সাহায্য করতেন দুঙ্গারপুর। স্পনসর জোগাড় করে দিয়েছেন, এমনকি বিদেশ সফরের সময়ও সাহায্য করেছেন। আজ এত বছর পরেও সেগুলো ভোলেননি টেন্ডুলকার। সেই অবদান যে ভুলে যাওয়ার মতো নয়।

১৯৮৯ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল টেন্ডুলকারের। তবে টেন্ডুলকারের অভিষেক হতে পারত সে বছরের গোড়ার দিকেই। আগের মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে দুর্দান্ত খেলা টেন্ডুলকার অপেক্ষায় ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ডাক পাওয়ার। কিন্তু দুঙ্গারপুরের কারণেই নাকি সেটি হয়নি। স্নেহপ্রবণ দুঙ্গারপুর চেয়েছিলেন টেন্ডুলকার যেন তাঁর মাধ্যমিক পরীক্ষাটা মনোযোগের সঙ্গেই দিক, ‘রঞ্জি সেমিফাইনালে দিল্লির বিপক্ষে খেলার সময় রাজ ভাই ওয়াংখেড়েতে আসেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, “আমি তোমাকে একটা কথা বলে রাখছি, তুমি ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাচ্ছ না। এই ম্যাচে মন দাও। ফাইনালে যদি খেলতে পারো তো সেখানে রান কোরো। তারপর সোজা এসএসসিতে মনোযোগ দেবে।”’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে না যেতে পারলেও আন্তর্জাতিক অভিষেকটা যে লিটল মাস্টারের জন্য ‘সময়ের ব্যাপার’ ছিল, সেটি বুঝতে পেরেছিলেন ঝানু এই সংগঠক। সে সময় তিনি টেন্ডুলকারকে বলেছিলেন, ‘এভাবে খেলতে থাকলে তুমি শিগগিরই সুযোগ পাবে।’

ভারতীয় ক্রিকেটে দুঙ্গারপুরের অবদান অসামান্য। ১৬ বছরের শচীনকে তিনি নামিয়েছিলেন ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসদের বিপক্ষে। ১৯৯০ সালে কপিল দেব, কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত, রবি শাস্ত্রীদের বাদ দিয়ে ভারতীয় দলের অধিনায়ক বানিয়েছিলেন মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে। সে সময় আজহারকে অধিনায়কত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেই বিখ্যাত উক্তিটি করে, ‘মিয়াঁ, কাপ্তান বানোগে? ভারতীয় ক্রিকেট আজ যে জায়গায়, সেখানে দুঙ্গারপুরের অবদান অস্বীকার করার যে কোনো উপায়ই নেই। একজন সত্যিকারের সংগঠককে যথাযথ সম্মানই দিয়েছে বিসিসিআই।

সূত্র: স্পোর্টসকিডা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী

‘ক্রিকেট নয়, মন দাও মাধ্যমিক পরীক্ষায়’ : শচীন টেন্ডুলকার

আপডেট সময় ০১:৪২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সাবেক প্রধান রাজসিংহ দুঙ্গারপুর পৃথিবী ছেড়ে গেছেন সেই ২০০৯ সালে। শচীন টেন্ডুলকার তখনই তাঁর নামে ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) প্রধান ফটকের নামকরণ করার প্রস্তাব করেছিলেন। কিংবদন্তি এই ক্রিকেট সংস্কারকের মৃত্যুর আট বছর পর শচীনের প্রস্তাবটা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

সিসিআই ভবনের প্রবেশদ্বারের নামকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেন্ডুলকার। দুঙ্গারপুরের স্মৃতির প্রতি জানিয়েছেন শ্রদ্ধা। ভারতীয় ক্রিকেটে এই সংগঠকের অবদান স্মরণ করছেন অবনত মস্তকেই, ‘রাজ ভাই আমাদের গুরু ছিলেন। সিসিআইএর প্রাণ ছিলেন তিনি। তাঁর নামে গেটের নামকরণ করাটাই তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সেরা উপায়। কারণ, এই দরজা দিয়েই সব ক্রিকেটার মাঠে প্রবেশ করে।’

ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে শচীনকে নানাভাবে সাহায্য করতেন দুঙ্গারপুর। স্পনসর জোগাড় করে দিয়েছেন, এমনকি বিদেশ সফরের সময়ও সাহায্য করেছেন। আজ এত বছর পরেও সেগুলো ভোলেননি টেন্ডুলকার। সেই অবদান যে ভুলে যাওয়ার মতো নয়।

১৯৮৯ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল টেন্ডুলকারের। তবে টেন্ডুলকারের অভিষেক হতে পারত সে বছরের গোড়ার দিকেই। আগের মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে দুর্দান্ত খেলা টেন্ডুলকার অপেক্ষায় ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ডাক পাওয়ার। কিন্তু দুঙ্গারপুরের কারণেই নাকি সেটি হয়নি। স্নেহপ্রবণ দুঙ্গারপুর চেয়েছিলেন টেন্ডুলকার যেন তাঁর মাধ্যমিক পরীক্ষাটা মনোযোগের সঙ্গেই দিক, ‘রঞ্জি সেমিফাইনালে দিল্লির বিপক্ষে খেলার সময় রাজ ভাই ওয়াংখেড়েতে আসেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, “আমি তোমাকে একটা কথা বলে রাখছি, তুমি ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাচ্ছ না। এই ম্যাচে মন দাও। ফাইনালে যদি খেলতে পারো তো সেখানে রান কোরো। তারপর সোজা এসএসসিতে মনোযোগ দেবে।”’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে না যেতে পারলেও আন্তর্জাতিক অভিষেকটা যে লিটল মাস্টারের জন্য ‘সময়ের ব্যাপার’ ছিল, সেটি বুঝতে পেরেছিলেন ঝানু এই সংগঠক। সে সময় তিনি টেন্ডুলকারকে বলেছিলেন, ‘এভাবে খেলতে থাকলে তুমি শিগগিরই সুযোগ পাবে।’

ভারতীয় ক্রিকেটে দুঙ্গারপুরের অবদান অসামান্য। ১৬ বছরের শচীনকে তিনি নামিয়েছিলেন ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসদের বিপক্ষে। ১৯৯০ সালে কপিল দেব, কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত, রবি শাস্ত্রীদের বাদ দিয়ে ভারতীয় দলের অধিনায়ক বানিয়েছিলেন মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে। সে সময় আজহারকে অধিনায়কত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেই বিখ্যাত উক্তিটি করে, ‘মিয়াঁ, কাপ্তান বানোগে? ভারতীয় ক্রিকেট আজ যে জায়গায়, সেখানে দুঙ্গারপুরের অবদান অস্বীকার করার যে কোনো উপায়ই নেই। একজন সত্যিকারের সংগঠককে যথাযথ সম্মানই দিয়েছে বিসিসিআই।

সূত্র: স্পোর্টসকিডা।