ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

এবার তালেবানের সঙ্গে কথা বলল ফ্রান্স প্রশাসন

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গিয়ে কথা বলেছিলেন, এবার ফরাসি প্রতিনিধি কথা বললেন তালেবানের সঙ্গে। তালেবানের সঙ্গে কথা বলেছে ফরাসি প্রশাসন-এ কথা নিজেই গণমাধ্যমকে বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ।

রবিবার তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে ফরাসি নাগরিকদের উদ্ধার করা নিয়ে তালেবানের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তবে প্রশাসক হিসেবে তালেবানকে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো ফ্রান্স কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও স্পষ্ট করেছেন মাঁক্রো।

এদিকে, সোমবার একাধিক পশ্চিমা দেশের ভার্চুয়াল বৈঠকে বসার কথা। সেখানে তালেবান নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। রবিবার রাতে আমেরিকাসহ একাধিক দেশ জানিয়েছে, তালেবান পালাতে চাওয়া আফগান নাগরিকদের দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
সাংবাদিকদের মাক্রোঁ জানান, ফরাসি নাগরিকদের উদ্ধারের বিষয়ে তালেবানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছে ফরাসি প্রশাসন। তালেবানরা উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে। এখনো পর্যন্ত কয়েক হাজার ফরাসিকে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মাক্রোঁর বক্তব্য, এর ফলে তালেবানের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্ক তৈরি হলো, এমন মনে করার কারণ নেই। ফ্রান্স তালেবানকে স্বীকৃতি দিবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনটি বিষয় ফ্রান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এক, মানবাধিকার। বিশেষ করে নারীদের অধিকার। দুই, যে আফগান নাগরিকরা বিদেশে চলে যেতে চাইছেন, তাদের যেতে দিতে হবে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এবং তিন, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি তৈরি করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। এই শর্তগুলি পূরণ করলে স্বীকৃতির বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করবে ফ্রান্স।

রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে আমেরিকাসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ জানিয়েছে, তালেবানের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। তালেবান দেশে থাকতে না চাওয়া আফগান নাগরিকদের বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ, কেউ কাবুল বিমানবন্দর হয়ে বিদেশে যেতে চাইলে তাকে আটকানো হবে না। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে না। দেশের নাগরিকদের দেশেই থাকার নির্দেশ দিয়েছিল তালেবান। বলা হয়েছিল, যারা বিদেশি শক্তির সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছিল। বহু নাগরিক ভয়ে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন না। শেষপর্যন্ত তাদের বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিল তালেবান।

তারা জানিয়েছে, বিদেশে যাওয়ার বৈধ কাগজ থাকলে বিমানবন্দরের রাস্তায় তাদের আটকানো হবে না। তবে আপাতত ওই নাগরিকদের হাতে আর মাত্র একদিন সময় আছে। ৩১ অগাস্ট মার্কিন সেনাদের আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা। তারপরও উদ্ধারকাজ চলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ একাধিক দেশ সোমবার আফগানিস্তান নিয়ে বৈঠকে বসছে। জরুরি বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। আফগানিস্তান নিয়ে সমস্ত দেশের অবস্থান যাতে একইরকম হয়, তা নিয়ে আলোচনা হবে বৈঠকে। বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন সংবাদমাধ্যমকে বৈঠক নিয়ে জানাতে পারেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

এবার তালেবানের সঙ্গে কথা বলল ফ্রান্স প্রশাসন

আপডেট সময় ০৬:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অগাস্ট ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গিয়ে কথা বলেছিলেন, এবার ফরাসি প্রতিনিধি কথা বললেন তালেবানের সঙ্গে। তালেবানের সঙ্গে কথা বলেছে ফরাসি প্রশাসন-এ কথা নিজেই গণমাধ্যমকে বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ।

রবিবার তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে ফরাসি নাগরিকদের উদ্ধার করা নিয়ে তালেবানের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তবে প্রশাসক হিসেবে তালেবানকে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো ফ্রান্স কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও স্পষ্ট করেছেন মাঁক্রো।

এদিকে, সোমবার একাধিক পশ্চিমা দেশের ভার্চুয়াল বৈঠকে বসার কথা। সেখানে তালেবান নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। রবিবার রাতে আমেরিকাসহ একাধিক দেশ জানিয়েছে, তালেবান পালাতে চাওয়া আফগান নাগরিকদের দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
সাংবাদিকদের মাক্রোঁ জানান, ফরাসি নাগরিকদের উদ্ধারের বিষয়ে তালেবানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছে ফরাসি প্রশাসন। তালেবানরা উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে। এখনো পর্যন্ত কয়েক হাজার ফরাসিকে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মাক্রোঁর বক্তব্য, এর ফলে তালেবানের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্ক তৈরি হলো, এমন মনে করার কারণ নেই। ফ্রান্স তালেবানকে স্বীকৃতি দিবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনটি বিষয় ফ্রান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এক, মানবাধিকার। বিশেষ করে নারীদের অধিকার। দুই, যে আফগান নাগরিকরা বিদেশে চলে যেতে চাইছেন, তাদের যেতে দিতে হবে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এবং তিন, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি তৈরি করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। এই শর্তগুলি পূরণ করলে স্বীকৃতির বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করবে ফ্রান্স।

রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে আমেরিকাসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ জানিয়েছে, তালেবানের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। তালেবান দেশে থাকতে না চাওয়া আফগান নাগরিকদের বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ, কেউ কাবুল বিমানবন্দর হয়ে বিদেশে যেতে চাইলে তাকে আটকানো হবে না। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে না। দেশের নাগরিকদের দেশেই থাকার নির্দেশ দিয়েছিল তালেবান। বলা হয়েছিল, যারা বিদেশি শক্তির সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছিল। বহু নাগরিক ভয়ে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন না। শেষপর্যন্ত তাদের বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিল তালেবান।

তারা জানিয়েছে, বিদেশে যাওয়ার বৈধ কাগজ থাকলে বিমানবন্দরের রাস্তায় তাদের আটকানো হবে না। তবে আপাতত ওই নাগরিকদের হাতে আর মাত্র একদিন সময় আছে। ৩১ অগাস্ট মার্কিন সেনাদের আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা। তারপরও উদ্ধারকাজ চলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ একাধিক দেশ সোমবার আফগানিস্তান নিয়ে বৈঠকে বসছে। জরুরি বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। আফগানিস্তান নিয়ে সমস্ত দেশের অবস্থান যাতে একইরকম হয়, তা নিয়ে আলোচনা হবে বৈঠকে। বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন সংবাদমাধ্যমকে বৈঠক নিয়ে জানাতে পারেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।