ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

অপরিণত সন্তান প্রসবের চেষ্টা, নার্সের মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অপরিণত সন্তান প্রসব করানোর চেষ্টায় ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সহকর্মী প্রসূতি এবং নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ‘মাতৃমৃত্যু মুক্ত কাপাসিয়া মডেল’ সাফল্যে জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

প্রসূতি সিনিয়র স্টাফ নার্স আসমা আক্তারের স্বামী তরগাঁও গ্রামের ধলাগড় ব্রিজ এলাকার বেলায়েতের পুত্র জাহিদুল ইসলাম। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী।

সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স আসমা আক্তার গর্ভবতী হওয়ায় গত রোববার দিনব্যাপী ওই হাসপাতালের ডাক্তার ও সহকর্মীরা বাচ্চা প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। জন্মের পর নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাতেই উত্তরার হাইকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে প্রসূতি মার যান।

বিগত সাত বছর আগে তার প্রথম সন্তানটি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হলেও সহকর্মীরা তা গুরুত্ব না দিয়ে পরপর দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা তাদের কৃতিত্ব জাহির করতে বলপ্রয়োগে বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করেন। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে প্রথমে তাকে গাজীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরে অবস্থা আরও খারাপ হলে উত্তরার হাইকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রসূতি পরিবারে সদস্যদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা স্বাভাবিক প্রসবের সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গাইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু প্রসূতির প্রথম সন্তান সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হয়েছে, তাই দ্বিতীয় সন্তানটি স্বাভাবিক নিয়মে প্রসব করানোর চেষ্টা করা ঠিক হয়নি। বলপ্রয়োগের ফলে প্রসূতির জরায়ু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ব্যাপারে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সালাম সরকার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, অপরিণত বয়সে বলপ্রয়োগে প্রসূতির বাচ্চা প্রসব করাতে গিয়ে সিনিয়র স্টাফ নার্স আসমা আক্তারের রক্তক্ষরণ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। জরায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরামর্শ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক তাকে ঢাকায় নিতে দেরি হয় এবং পরে সে মারা যায়।

উল্লেখ্য, মাতৃমৃত্যু শূন্যের কোঠায় এনে সারা দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং সম্প্রতি জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। ‘মাতৃমৃত্যু মুক্ত কাপাসিয়া মডেল’ প্রকল্পটি খোদ তার সহকর্মী নার্সের প্রসবকালীন অবহেলায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

অপরিণত সন্তান প্রসবের চেষ্টা, নার্সের মৃত্যু

আপডেট সময় ১১:৩৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অপরিণত সন্তান প্রসব করানোর চেষ্টায় ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সহকর্মী প্রসূতি এবং নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ‘মাতৃমৃত্যু মুক্ত কাপাসিয়া মডেল’ সাফল্যে জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

প্রসূতি সিনিয়র স্টাফ নার্স আসমা আক্তারের স্বামী তরগাঁও গ্রামের ধলাগড় ব্রিজ এলাকার বেলায়েতের পুত্র জাহিদুল ইসলাম। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী।

সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স আসমা আক্তার গর্ভবতী হওয়ায় গত রোববার দিনব্যাপী ওই হাসপাতালের ডাক্তার ও সহকর্মীরা বাচ্চা প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। জন্মের পর নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাতেই উত্তরার হাইকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে প্রসূতি মার যান।

বিগত সাত বছর আগে তার প্রথম সন্তানটি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হলেও সহকর্মীরা তা গুরুত্ব না দিয়ে পরপর দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা তাদের কৃতিত্ব জাহির করতে বলপ্রয়োগে বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করেন। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে প্রথমে তাকে গাজীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরে অবস্থা আরও খারাপ হলে উত্তরার হাইকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রসূতি পরিবারে সদস্যদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা স্বাভাবিক প্রসবের সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গাইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু প্রসূতির প্রথম সন্তান সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হয়েছে, তাই দ্বিতীয় সন্তানটি স্বাভাবিক নিয়মে প্রসব করানোর চেষ্টা করা ঠিক হয়নি। বলপ্রয়োগের ফলে প্রসূতির জরায়ু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ব্যাপারে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সালাম সরকার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, অপরিণত বয়সে বলপ্রয়োগে প্রসূতির বাচ্চা প্রসব করাতে গিয়ে সিনিয়র স্টাফ নার্স আসমা আক্তারের রক্তক্ষরণ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। জরায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরামর্শ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক তাকে ঢাকায় নিতে দেরি হয় এবং পরে সে মারা যায়।

উল্লেখ্য, মাতৃমৃত্যু শূন্যের কোঠায় এনে সারা দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং সম্প্রতি জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। ‘মাতৃমৃত্যু মুক্ত কাপাসিয়া মডেল’ প্রকল্পটি খোদ তার সহকর্মী নার্সের প্রসবকালীন অবহেলায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।