ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপে ব্যর্থতা : পাকিস্তান দলের প্রত্যেককে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, হটলাইন চালু করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র কারচুপির অভিযোগ,ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির আরও ৪ প্রার্থী বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দায়িত্ব নিল আমিরাত মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ ফাইটার জেট, দাবি ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না ইরান : লারিজানি

সদ্যজাত মেয়ের নাম ‘শেখ হাসিনা’ রাখলেন রোহিঙ্গা নারী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই মিলেছে ২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নারী খাদিজার। শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্রেই সন্তান প্রসব করেন তিনি। খাদিজা তার মেয়ের নাম রেখেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে।

২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার অভিযোগে ‘শুদ্ধি অভিযান’র নামে নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এখন পর্যন্ত চার লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

নিজ মাতৃভূমিতে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন হতে দেখার পর অন্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন খাদিজা। সে সময় তিনি আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন। বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে সন্তান প্রসবের সময় পাশে ছিলেন মা আলুম বাহার।

নীল রঙের স্কার্ফ আর কালো বোরকা পরা খাদিজা বলেন, ‘রাখাইন রাজ্য পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হয়েছে। আমার বাড়িটাও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে এসেছি। বাঁচার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে গেছি শুধুমাত্র গর্ভের সন্তানকে বাঁচানোর জন্য।’

তিনি আরও বলেন, নিজ দেশে স্বামীকে হারিয়েছি। আমার দেশের সরকার আমাকে আশ্রয় দেয়নি, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার মেয়ের নাম ‘শেখ হাসিনা’ রেখেছি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৭-১৮ হাজার গর্ভবতী রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দেখভাল এবং সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

খাদিজার মা আলুম বাহার বলেন, অনেক কষ্টে বাংলাদেশে এসেছি। আমার মেয়ে গর্ভবতী ছিল। এখানে এসে সে কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছে। আমরা তার নাম রেখেছি ‘শেখ হাসিনা’। সে আমাদের বেঁচে থাকার আশা। তাকে পেয়ে সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।

আলুম বাহারও তার স্বামী নুরুদ্দিনকে চোখের সামনে খুন হতে দেখেছেন। এখন ‘শেখ হাসিনা’র জন্যই তাদের বেঁচে থাকার লড়াই।

‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমানুভূতির কারণেই রাখাইন ছেড়ে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয় পেয়েছে, এখনও বেঁচে আছে। এমনকি খাদিজার মেয়ে পৃথিবীর আলো-বাতাস পাচ্ছে শেখ হাসিনার কারণেই’- বলেন আলুম বাহার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সদ্যজাত মেয়ের নাম ‘শেখ হাসিনা’ রাখলেন রোহিঙ্গা নারী

আপডেট সময় ০৩:০১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই মিলেছে ২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নারী খাদিজার। শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্রেই সন্তান প্রসব করেন তিনি। খাদিজা তার মেয়ের নাম রেখেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে।

২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার অভিযোগে ‘শুদ্ধি অভিযান’র নামে নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এখন পর্যন্ত চার লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

নিজ মাতৃভূমিতে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন হতে দেখার পর অন্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন খাদিজা। সে সময় তিনি আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন। বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে সন্তান প্রসবের সময় পাশে ছিলেন মা আলুম বাহার।

নীল রঙের স্কার্ফ আর কালো বোরকা পরা খাদিজা বলেন, ‘রাখাইন রাজ্য পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হয়েছে। আমার বাড়িটাও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে এসেছি। বাঁচার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে গেছি শুধুমাত্র গর্ভের সন্তানকে বাঁচানোর জন্য।’

তিনি আরও বলেন, নিজ দেশে স্বামীকে হারিয়েছি। আমার দেশের সরকার আমাকে আশ্রয় দেয়নি, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার মেয়ের নাম ‘শেখ হাসিনা’ রেখেছি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৭-১৮ হাজার গর্ভবতী রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দেখভাল এবং সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

খাদিজার মা আলুম বাহার বলেন, অনেক কষ্টে বাংলাদেশে এসেছি। আমার মেয়ে গর্ভবতী ছিল। এখানে এসে সে কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছে। আমরা তার নাম রেখেছি ‘শেখ হাসিনা’। সে আমাদের বেঁচে থাকার আশা। তাকে পেয়ে সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।

আলুম বাহারও তার স্বামী নুরুদ্দিনকে চোখের সামনে খুন হতে দেখেছেন। এখন ‘শেখ হাসিনা’র জন্যই তাদের বেঁচে থাকার লড়াই।

‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমানুভূতির কারণেই রাখাইন ছেড়ে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয় পেয়েছে, এখনও বেঁচে আছে। এমনকি খাদিজার মেয়ে পৃথিবীর আলো-বাতাস পাচ্ছে শেখ হাসিনার কারণেই’- বলেন আলুম বাহার।