ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দিনাজপুরের রাজবাড়ীতে মহাধুমধামে ব্যাঙের বিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যাঙের বিয়ে দিলেই অনাবৃষ্টি কেটে যাবে এ বিশ্বাসে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিধি মেনে এই বিয়ের আয়োজন করেন। হিন্দুরীতি অনুসারে বিয়ের জন্য ছায়ামন্ডপ, পুস্পমাল্য, গায়ে হলুদ, আশীর্বাদের ধান-দূর্বা, খাওয়ার আয়োজন সব ধরনের ব্যবস্থাই ছিল বিয়েতে। চারদিকে উলুধ্বনি। আশীর্বাদ ও অতিথি আপ্যায়ন। সিঁদুর দান ও পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণের সাথে সাথে সাত পাকে বাঁধা বর-কনে। তবে মানুষের বিয়ের মতো সব আয়োজন থাকলেও বর ও কনে ছিল ব্যাঙ।

রবিবার দিবাগত রাতে অভিনব এই ব্যাঙের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দিনাজপুর শহরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ীর হিরাবাগানের রক্ষাকালী মন্দিরে। বর্ষাকালেও বৃষ্টি না হওয়ায় স্থানীয়দের বিশ্বাস, ব্যাঙের বিয়ে দিলে বৃষ্টি হয়। তাই গত কয়েক বছর ধরেই এ ধরনের আয়োজন হয়ে আসছেন তারা। বিয়েতে শত শত মানুষ এ অনুষ্ঠানে আসে। তারা নেচে গেয়ে ব্যাঙের বিয়ে দেন।

আয়োজকরা জানায়, শ্রাবন মাসের ১০ দিন হলেও বৃষ্টি নেই। জমিতে পানি নেই। আমন চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। আবার যে জমিতে চারা রোপণ হয়েছে, সে জমিগুলোতে পানির অভাবে ফেটে যাওয়ার উপক্রম। অনেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে ক্ষেতে পানি দিচ্ছেন।

এ কারণে যাতে বৃষ্টি আসে সে জন্য ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করা হয়। তাই বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন চলে ৭ দিন আগে থেকে। রাজবাড়িতে বসবাসকারী পরিবারের শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ, চাল, মরিচ, পিয়াজ, রসুন, আদা, তেল, ইত্যাদি সংগ্রহ করে। এ সময় ব্যাঙের বিয়ে খেতে সবাইকে আসার দাওয়াত দেয়া হয়।

রবিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় ব্যাঙের বিয়ে। কলার গাছ ও ফুল দিয়ে সাজানো মাড়োয়ায় প্রথম সন্ধ্যা থেকেই মানুষ আসতে শুরু করে। বাজানো হয় মাইক। রঙ মেখে,কাদা মেখে শুরু হয় নাচ-গান। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বরের মা সুলেখা সরকার বরকে নিয়ে ও কনের মা চন্দনা সরকার কনেকে নিয়ে হাজির হয় মাড়োয়ায়।

এ সময় পাশেই চলছিল রান্না-বান্নার কাজ। রাজবাড়ির মানুষ বর-কনেকে দেখে টাকাসহ বিভিন্ন প্রকার উপহার দিয়ে খিচুড়ি খেয়ে যায়। ১০১ টাকা প্রতীকী পণে বর-কনে ব্যাঙ এর বিয়ে পড়ান রাজবাড়ি চত্বরে হিরাবাগান রক্ষাকালী মন্দিরের পুরোহিত তপন কুমার গোস্বামী।

এ সময় মন্দিরের পুরোহিত তপন কুমার গোস্বামী বলেন, অনাবৃষ্টি ও খরা থেকে মুক্তি পেতে শিশুরা এই ব্যাঙের বিয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা পরে উৎসবে রূপ নেয়। বড়রাও যোগ দেন। আমাদের বিশ্বাস, এই ব্যাঙের বিয়ের মধ্য দিয়ে অনাবৃষ্টি ও খরা কেটে যাবে। বিশ্ববাসীর মুক্তি মিলবে মহামারি করোনা থেকে।

বর-কনের মা জানান, খরা থেকে মুক্তি এবং বৃষ্টির আশায় তাদের এই আয়োজন। আর এই রীতি শতবর্ষ আগে থেকেই চলে আসছে। তাদের মতে, রামায়ণে বর্ণিত বৃষ্টির দেবতাকে খুশি করার জন্য সেই সময়ে ব্যাঙের বিয়ের প্রচলন ছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে

আপডেট সময় ০৯:৫২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দিনাজপুরের রাজবাড়ীতে মহাধুমধামে ব্যাঙের বিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যাঙের বিয়ে দিলেই অনাবৃষ্টি কেটে যাবে এ বিশ্বাসে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিধি মেনে এই বিয়ের আয়োজন করেন। হিন্দুরীতি অনুসারে বিয়ের জন্য ছায়ামন্ডপ, পুস্পমাল্য, গায়ে হলুদ, আশীর্বাদের ধান-দূর্বা, খাওয়ার আয়োজন সব ধরনের ব্যবস্থাই ছিল বিয়েতে। চারদিকে উলুধ্বনি। আশীর্বাদ ও অতিথি আপ্যায়ন। সিঁদুর দান ও পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণের সাথে সাথে সাত পাকে বাঁধা বর-কনে। তবে মানুষের বিয়ের মতো সব আয়োজন থাকলেও বর ও কনে ছিল ব্যাঙ।

রবিবার দিবাগত রাতে অভিনব এই ব্যাঙের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দিনাজপুর শহরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ীর হিরাবাগানের রক্ষাকালী মন্দিরে। বর্ষাকালেও বৃষ্টি না হওয়ায় স্থানীয়দের বিশ্বাস, ব্যাঙের বিয়ে দিলে বৃষ্টি হয়। তাই গত কয়েক বছর ধরেই এ ধরনের আয়োজন হয়ে আসছেন তারা। বিয়েতে শত শত মানুষ এ অনুষ্ঠানে আসে। তারা নেচে গেয়ে ব্যাঙের বিয়ে দেন।

আয়োজকরা জানায়, শ্রাবন মাসের ১০ দিন হলেও বৃষ্টি নেই। জমিতে পানি নেই। আমন চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। আবার যে জমিতে চারা রোপণ হয়েছে, সে জমিগুলোতে পানির অভাবে ফেটে যাওয়ার উপক্রম। অনেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে ক্ষেতে পানি দিচ্ছেন।

এ কারণে যাতে বৃষ্টি আসে সে জন্য ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করা হয়। তাই বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন চলে ৭ দিন আগে থেকে। রাজবাড়িতে বসবাসকারী পরিবারের শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ, চাল, মরিচ, পিয়াজ, রসুন, আদা, তেল, ইত্যাদি সংগ্রহ করে। এ সময় ব্যাঙের বিয়ে খেতে সবাইকে আসার দাওয়াত দেয়া হয়।

রবিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় ব্যাঙের বিয়ে। কলার গাছ ও ফুল দিয়ে সাজানো মাড়োয়ায় প্রথম সন্ধ্যা থেকেই মানুষ আসতে শুরু করে। বাজানো হয় মাইক। রঙ মেখে,কাদা মেখে শুরু হয় নাচ-গান। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বরের মা সুলেখা সরকার বরকে নিয়ে ও কনের মা চন্দনা সরকার কনেকে নিয়ে হাজির হয় মাড়োয়ায়।

এ সময় পাশেই চলছিল রান্না-বান্নার কাজ। রাজবাড়ির মানুষ বর-কনেকে দেখে টাকাসহ বিভিন্ন প্রকার উপহার দিয়ে খিচুড়ি খেয়ে যায়। ১০১ টাকা প্রতীকী পণে বর-কনে ব্যাঙ এর বিয়ে পড়ান রাজবাড়ি চত্বরে হিরাবাগান রক্ষাকালী মন্দিরের পুরোহিত তপন কুমার গোস্বামী।

এ সময় মন্দিরের পুরোহিত তপন কুমার গোস্বামী বলেন, অনাবৃষ্টি ও খরা থেকে মুক্তি পেতে শিশুরা এই ব্যাঙের বিয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা পরে উৎসবে রূপ নেয়। বড়রাও যোগ দেন। আমাদের বিশ্বাস, এই ব্যাঙের বিয়ের মধ্য দিয়ে অনাবৃষ্টি ও খরা কেটে যাবে। বিশ্ববাসীর মুক্তি মিলবে মহামারি করোনা থেকে।

বর-কনের মা জানান, খরা থেকে মুক্তি এবং বৃষ্টির আশায় তাদের এই আয়োজন। আর এই রীতি শতবর্ষ আগে থেকেই চলে আসছে। তাদের মতে, রামায়ণে বর্ণিত বৃষ্টির দেবতাকে খুশি করার জন্য সেই সময়ে ব্যাঙের বিয়ের প্রচলন ছিল।