ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যে কারণে কৃষকদের ২ লিটার মূত্র দেওয়ার নির্দেশ কিমের

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

তীব্র খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে উত্তর কোরিয়ায়। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নিজে এই কথা স্বীকার করেছেন। দেশটিতে বর্তমানে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত আছে, তাতে আর মাত্র ২ মাস চলবে বলে এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

দেশটির খাদ্য সংকট পরিস্থিতি এতোটাই উদ্বেগজনক যে, উত্তর কোরিয়ার কৃষকদের প্রতিদিন নিজেদের জমিতে ২ লিটার করে মূত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কিম প্রশাসন। খাদ্য সংকট মোকাবেলায় জমির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য এই নির্দেশ দেওয়া হয় বলে রেডিও ফ্রি এশিয়া নামে এক বেতার মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জমিতে মূত্র দিলে দেশটিতে সার উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো যাবে। সারের উৎপাদন বাড়ালেই ফসল উৎপাদন বাড়বে। এর ফলে ফলনও বাড়বে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাজধানী পিয়ং ইয়ংয়ে গত কয়েক মাস ধরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে। পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় নয়, এমন জিনিসপত্রের দামও বাড়তে শুরু করেছে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন জায়গায়। সেখানকার খাদ্য পরিস্থিতি এতোটাই সংকটজনক যে সেখানে এক প্যাকেট কফি ১০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ছোট এক প্যাকেট চা পাতা বিক্রি হচ্ছে ৭০ মার্কিন ডলারে। এক কেজি কলার দাম হয়েছে ৪৫ মার্কিন ডলারে।

উত্তর কোরিয়ায় জনসংখ্যার অনুপাতে ৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার অনেক খাদ্যই বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। খাদ্য সরবরাহের ব্যাপারে চীনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু পরমাণু প্রকল্পের কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় উত্তর কোরিয়াকে এখন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এছাড়া করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এই পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিম প্রশাসন। তাই সব মিলিয়ে চাইলেও বাইরে থেকে খাদ্য কিংবা সার আমদানি করতে পারছে না দেশটি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

যে কারণে কৃষকদের ২ লিটার মূত্র দেওয়ার নির্দেশ কিমের

আপডেট সময় ১১:৩৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

তীব্র খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে উত্তর কোরিয়ায়। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নিজে এই কথা স্বীকার করেছেন। দেশটিতে বর্তমানে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত আছে, তাতে আর মাত্র ২ মাস চলবে বলে এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

দেশটির খাদ্য সংকট পরিস্থিতি এতোটাই উদ্বেগজনক যে, উত্তর কোরিয়ার কৃষকদের প্রতিদিন নিজেদের জমিতে ২ লিটার করে মূত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কিম প্রশাসন। খাদ্য সংকট মোকাবেলায় জমির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য এই নির্দেশ দেওয়া হয় বলে রেডিও ফ্রি এশিয়া নামে এক বেতার মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জমিতে মূত্র দিলে দেশটিতে সার উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো যাবে। সারের উৎপাদন বাড়ালেই ফসল উৎপাদন বাড়বে। এর ফলে ফলনও বাড়বে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাজধানী পিয়ং ইয়ংয়ে গত কয়েক মাস ধরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে। পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় নয়, এমন জিনিসপত্রের দামও বাড়তে শুরু করেছে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন জায়গায়। সেখানকার খাদ্য পরিস্থিতি এতোটাই সংকটজনক যে সেখানে এক প্যাকেট কফি ১০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ছোট এক প্যাকেট চা পাতা বিক্রি হচ্ছে ৭০ মার্কিন ডলারে। এক কেজি কলার দাম হয়েছে ৪৫ মার্কিন ডলারে।

উত্তর কোরিয়ায় জনসংখ্যার অনুপাতে ৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার অনেক খাদ্যই বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। খাদ্য সরবরাহের ব্যাপারে চীনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু পরমাণু প্রকল্পের কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় উত্তর কোরিয়াকে এখন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এছাড়া করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এই পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিম প্রশাসন। তাই সব মিলিয়ে চাইলেও বাইরে থেকে খাদ্য কিংবা সার আমদানি করতে পারছে না দেশটি।