ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ইমরান খানের সমালোচনায় যা বললেন হামিদ মির

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ইমরান খান সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি এখন তা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মির।

বুধবার যুক্তরাজ্যের দৈনিক গার্ডিয়ানের মতামত কলামে এভাবেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমালোচনা করেন তিনি।

সম্প্রতি সেনাবাহিনীর সমালোচনা করার কয়েক দিন পর পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মিরের সঞ্চালিত একটি টেলিভিশন টক শো বাতিল করা হয়েছে।

ক্ষুব্ধ হামিদ মির লিখেছেন, এক সময় ইমরান খান আর আমি দুজনই পাকিস্তানের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে লড়ছিলাম। ২০০৭ সালে যখন সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ জরুরি অবস্থা জারি করেন, তখন আমার টেলিভিশনে উপস্থিত হওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। তখন যে কজন রাজনীতিক তার প্রতিবাদ করেছিলেন, তার মধ্যে ইমরান খানও একজন।

সে সময়ের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘তখন আমি টক শোকে একেবারে ইসলামাবাদের সড়কে নিয়ে গিয়েছিলাম। মানুষ সরাসরি এসে দেখত লাইভ শো। তখন ইমরান খান নিয়মিতই আমার টক শোতে আসতেন। তিনি তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘যখন আমি প্রধানমন্ত্রী হব, সাংবাদিকরা সত্যিকারের স্বাধীনতা পাবে’।’

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে নিজ বাড়িতে পাকিস্তানি সাংবাদিক আসাদ আলী তুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক আয়োজনে দেশটির সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সমালোচনা করেছিলেন হামিদ মির।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এজেন্টরা ওই নির্যাতন চালিয়েছিল বলে সাংবাদিক আসাদ আলীর অভিযোগ।

নিজের টক শোতে ওই ঘটনার সমালোচনা করে হামিদ মির বলেন, ‘আমাদের আঘাত করতে তোমরা যদি আমাদের বাড়ি ভেঙে ঢুকে পড়ো, ভালো কথা, আমরা তোমাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবো না কারণ তোমাদের ট্যাংক আর বন্দুক আছে, কিন্তু আমরা বিষয়গুলো প্রকাশ করে দিতে পারি, তোমাদের বাড়ির ভিতরের বিষয়গুলো।’

এ বিষয়ে তিনি লিখেন, বক্তব্যে হামলাকারীদের আমি হুশিয়ার করেছিলাম। বলেছিলাম, যদি এভাবে বাড়িতে ঢুকে আমাদের পেটানো হয়, আমরা শান্ত হয়ে বসে থাকব না। আমি কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থার নামও নিইনি। এটাই আজ পাকিস্তানের বাস্তব ট্রাজেডি। এই দেশটি এখন সম্পূর্ণ অচেনা লোকরা চালাচ্ছে। তারা কারা, সেটা প্রত্যেকেই জানে, কিন্তু তাদের নাম নেওয়ার সাহস কারও নেই। ছায়ার মধ্যে থেকে তারা এখন জবাবদিহিতার ঊর্ধে।

গত এক বছরে পাকিস্তানে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ১৪৮টি ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন হামিদ মির।

ইমরান খানের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, ১৪ বছর আগে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা কি তার মনে আছে। তিনি কি এখন সাংবাদিকদের পক্ষে দাঁড়াতে চান আগের মতো। নাকি তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার শত্রুদের পক্ষেই অবস্থান নেবেন?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ইমরান খানের সমালোচনায় যা বললেন হামিদ মির

আপডেট সময় ১২:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুন ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ইমরান খান সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি এখন তা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মির।

বুধবার যুক্তরাজ্যের দৈনিক গার্ডিয়ানের মতামত কলামে এভাবেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমালোচনা করেন তিনি।

সম্প্রতি সেনাবাহিনীর সমালোচনা করার কয়েক দিন পর পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মিরের সঞ্চালিত একটি টেলিভিশন টক শো বাতিল করা হয়েছে।

ক্ষুব্ধ হামিদ মির লিখেছেন, এক সময় ইমরান খান আর আমি দুজনই পাকিস্তানের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে লড়ছিলাম। ২০০৭ সালে যখন সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ জরুরি অবস্থা জারি করেন, তখন আমার টেলিভিশনে উপস্থিত হওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। তখন যে কজন রাজনীতিক তার প্রতিবাদ করেছিলেন, তার মধ্যে ইমরান খানও একজন।

সে সময়ের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘তখন আমি টক শোকে একেবারে ইসলামাবাদের সড়কে নিয়ে গিয়েছিলাম। মানুষ সরাসরি এসে দেখত লাইভ শো। তখন ইমরান খান নিয়মিতই আমার টক শোতে আসতেন। তিনি তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘যখন আমি প্রধানমন্ত্রী হব, সাংবাদিকরা সত্যিকারের স্বাধীনতা পাবে’।’

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে নিজ বাড়িতে পাকিস্তানি সাংবাদিক আসাদ আলী তুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক আয়োজনে দেশটির সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সমালোচনা করেছিলেন হামিদ মির।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এজেন্টরা ওই নির্যাতন চালিয়েছিল বলে সাংবাদিক আসাদ আলীর অভিযোগ।

নিজের টক শোতে ওই ঘটনার সমালোচনা করে হামিদ মির বলেন, ‘আমাদের আঘাত করতে তোমরা যদি আমাদের বাড়ি ভেঙে ঢুকে পড়ো, ভালো কথা, আমরা তোমাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবো না কারণ তোমাদের ট্যাংক আর বন্দুক আছে, কিন্তু আমরা বিষয়গুলো প্রকাশ করে দিতে পারি, তোমাদের বাড়ির ভিতরের বিষয়গুলো।’

এ বিষয়ে তিনি লিখেন, বক্তব্যে হামলাকারীদের আমি হুশিয়ার করেছিলাম। বলেছিলাম, যদি এভাবে বাড়িতে ঢুকে আমাদের পেটানো হয়, আমরা শান্ত হয়ে বসে থাকব না। আমি কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থার নামও নিইনি। এটাই আজ পাকিস্তানের বাস্তব ট্রাজেডি। এই দেশটি এখন সম্পূর্ণ অচেনা লোকরা চালাচ্ছে। তারা কারা, সেটা প্রত্যেকেই জানে, কিন্তু তাদের নাম নেওয়ার সাহস কারও নেই। ছায়ার মধ্যে থেকে তারা এখন জবাবদিহিতার ঊর্ধে।

গত এক বছরে পাকিস্তানে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ১৪৮টি ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন হামিদ মির।

ইমরান খানের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, ১৪ বছর আগে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা কি তার মনে আছে। তিনি কি এখন সাংবাদিকদের পক্ষে দাঁড়াতে চান আগের মতো। নাকি তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার শত্রুদের পক্ষেই অবস্থান নেবেন?