ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনের পরিবেশ বিগত সরকারের আমলের চেয়ে ভালো: শফিকুল আলম সহিংসতার রাজনীতি বন্ধে তারেক রহমানকে দায়িত্ব নিতে হবে: আখতার ফেনীতে শিশু নাশিত হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি আগে একাত্তর নিয়ে মাফ চেয়ে এরপর ভোট চান : মির্জা ফখরুল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ ও পদ্মা ব্যারেজ করার প্রতিশ্রুতি একটি গ্রুপ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করছে : মির্জা আব্বাস পাকিস্তান শুধু চেঁচামেচি করছে, বিশ্বকাপ অবশ্যই খেলবে: হার্শা ভোগলে গণতন্ত্রের উত্তরণের প্রক্রিয়াকে যারাই বাধাগ্রস্ত করবে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে : সালাহউদ্দিন

‘ভিয়েনা সংলাপকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে আমেরিকা ও ব্রিটেন’

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্কিন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, তারা যেন তাদের নিজ নিজ দেশের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিবর্তে পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের কাজে মনোনিবেশ করেন।

সাঈদ খাতিবজাদে বৃহস্পতিবার রাতে নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ আহ্বান জানান।

তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাবের সাম্প্রতিক ইসরায়েল সফরের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “মার্কিন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পরমাণু সমঝোতার ঘোর শত্রু ইসরায়েলকে সন্তুষ্ট করতে ভিয়েনা আলোচনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক বিষয়।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, “আপনারা যে রক্তপিপাসু ইসরাইলকে সন্তুষ্ট করতে চান সে পরমাণু সমঝোতাকে ধ্বংস করার জন্য তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে।”

ইংরেজিতে লেখা টুইটার বার্তায় ব্লিঙ্কেন ও রাবকে উদ্দেশ করে খাতিবজাদে আরও বলেন, “নিজেদের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিবর্তে সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় পরমাণু সমঝোতাকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।”

সম্প্রতি মার্কিন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েল সফরে গিয়ে ইরানর পাশাপাশি পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তারা এমন সময় এ কাজ করেন যখন ব্রিটিশ সরকার সরাসরি এবং মার্কিন সরকার পরোক্ষভাবে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের সংলাপে অংশ নিচ্ছে।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতাকে আবার আগের অবস্থায় সক্রিয় করার জন্য অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বর্তমানে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সংলাপ চলছে।

‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে বের করে নেন। এরপর এক বছর পর্যন্ত ইরান এই সমঝোতা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল কিন্তু অন্য পক্ষগুলো সমঝোতা বাস্তবায়ন না করায় ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে ইরান সমঝোতার বেশকিছু ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত করে দেয়।

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার দেশকে এই সমঝোতায় ফিরিয়ে আনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি ইরানকে আগে তার প্রতিশ্রুতিতে পুরোপুরি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু ইরান বলেছে, আমেরিকা আগে এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে বলে তাকে আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এতে ফিরে আসতে হবে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার মতপার্থক্যের এই জায়গাটি নিয়ে মূলত ভিয়েনায় ধারাবাহিক সংলাপ চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ভিয়েনা সংলাপকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে আমেরিকা ও ব্রিটেন’

আপডেট সময় ১২:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্কিন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, তারা যেন তাদের নিজ নিজ দেশের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিবর্তে পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের কাজে মনোনিবেশ করেন।

সাঈদ খাতিবজাদে বৃহস্পতিবার রাতে নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ আহ্বান জানান।

তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাবের সাম্প্রতিক ইসরায়েল সফরের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “মার্কিন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পরমাণু সমঝোতার ঘোর শত্রু ইসরায়েলকে সন্তুষ্ট করতে ভিয়েনা আলোচনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক বিষয়।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, “আপনারা যে রক্তপিপাসু ইসরাইলকে সন্তুষ্ট করতে চান সে পরমাণু সমঝোতাকে ধ্বংস করার জন্য তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে।”

ইংরেজিতে লেখা টুইটার বার্তায় ব্লিঙ্কেন ও রাবকে উদ্দেশ করে খাতিবজাদে আরও বলেন, “নিজেদের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিবর্তে সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় পরমাণু সমঝোতাকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।”

সম্প্রতি মার্কিন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েল সফরে গিয়ে ইরানর পাশাপাশি পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তারা এমন সময় এ কাজ করেন যখন ব্রিটিশ সরকার সরাসরি এবং মার্কিন সরকার পরোক্ষভাবে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের সংলাপে অংশ নিচ্ছে।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতাকে আবার আগের অবস্থায় সক্রিয় করার জন্য অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বর্তমানে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সংলাপ চলছে।

‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে বের করে নেন। এরপর এক বছর পর্যন্ত ইরান এই সমঝোতা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল কিন্তু অন্য পক্ষগুলো সমঝোতা বাস্তবায়ন না করায় ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে ইরান সমঝোতার বেশকিছু ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত করে দেয়।

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার দেশকে এই সমঝোতায় ফিরিয়ে আনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি ইরানকে আগে তার প্রতিশ্রুতিতে পুরোপুরি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু ইরান বলেছে, আমেরিকা আগে এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে বলে তাকে আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এতে ফিরে আসতে হবে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার মতপার্থক্যের এই জায়গাটি নিয়ে মূলত ভিয়েনায় ধারাবাহিক সংলাপ চলছে।