ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থায় এগোচ্ছে সরকার সার্ক কার্যকর করতে বাংলাদেশ-নেপাল একমত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতার রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড:বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ৬.৫ টনের শক্তিশালী চুম্বকের সফল পরীক্ষা, বিশাল ‘সূর্য’ বানাচ্ছে চীন ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শঙ্কায় ফ্রান্স নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কি মির্জা ফখরুলের জুতা টানার যোগ্যতা রাখে: রাশেদ খাঁন ইসিকে স্বাধীনভাবে চোখ কান খুলে দায়িত্ব পালন করতে বলেছি: গোলাম পরওয়ার মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী হত্যায় গাড়িচালকের মৃত্যুদণ্ড ‘ইরান ভেনেজুয়েলা নয়’, তেহরান-কারাকাস ঐতিহাসিক সম্পর্কে ফাটল

ফেসবুকে কাদের মির্জা-বাদলের পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।

বুধবার রাতে কাদের মির্জা তার নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসের পরই পাল্টা স্ট্যাটাস দেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান বাদল।

বুধবার রাত ১২টা ২৫ মিনিটে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে কোম্পানীগঞ্জ থানার মূলফটকের সামনে তাশিক মির্জাকে মারধরকারীদের গ্রেফতার করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে কাদের মির্জা লিখেছেন, ‘আমার ছেলে তাশিক মির্জাকে ওসি (তদন্ত) রবিউলের উপস্থিতিতে থানার সামনে সন্ত্রাসীরা পাইপগান দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। বাদল, রাহাত, আকরাম উদ্দিন সবুজ, রুমেল, রিমন, কচি ও মঞ্জুর নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী এ হামলা চালায়।

ওই দিনের একটি ভিডিওতে দেখা যায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসককে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলছে— মির্জার ছেলেসহ তার কোনো লোককে চিকিৎসা দেবেন না। সন্ত্রাসীরা চিকিৎসকদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

পরে আমরা অন্য স্থান থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।

অন্যদিকে ওসি রনি ওই সময় আমার অফিসে এসে নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন; যেন কেউ বাইরে না যেতে পারে। আমার ছেলেকে মারধরের ভিডিও এরই মধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়নি।

আমার ছেলেকে যারা রক্তাক্ত করেছে, তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য আমি দায়ী থাকব না।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে রাতে যোগাযোগ করা হলে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেদিন মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে তারা। ভিডিও ভাইরাল হলেও এখনও সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় তারা কোম্পানীগঞ্জকে অশান্ত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে মিছিল করছে। আমি যত জায়গায় বিচার দিয়েছি, সবাই বলে চুপ থাকেন, অপেক্ষা করেন। আপনাদের বলা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।

অপরদিকে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল তার স্ট্যাটাস স্কিন শট নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন।

বাদল ওই স্ট্যাটাসে লিখেন— আ কা মির্জার এই পোস্ট থেকে আমি নিশ্চিত হলাম সে এখন এক্সজিট (Exit) চাচ্ছে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। এ ছাড়া অবশ্যই আর কোনো উপায়ও নেই। একটা অঘটন সে ঘটাবে, আর জেলে যাবে এবং সেখান থেকে মুক্তি নিয়ে সে আমেরিকায় তার দ্বিতীয় আবাসস্থল সেখানে চলে যাবে।

নতুবা তার সঙ্গে থাকা যাদের দিয়ে সে যত অপকর্ম করেছে, তারা তো তাকে যেতে দেবে না; তাই আমি বলব— তোমরা দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আত্মসমার্পণ কর। নতুবা গণরোষের শিকার হতে পার।

প্রসঙ্গত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। ওই পৌরসভায় দ্বিতীয় মেয়াদে গত ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলে আলোচনায় আসেন তিনি।

স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে দলীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের ঘটনায় এক মাসে দুটি সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ৩১ মার্চ দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন কাদের মির্জা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থায় এগোচ্ছে সরকার

ফেসবুকে কাদের মির্জা-বাদলের পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস

আপডেট সময় ০১:২৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।

বুধবার রাতে কাদের মির্জা তার নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসের পরই পাল্টা স্ট্যাটাস দেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান বাদল।

বুধবার রাত ১২টা ২৫ মিনিটে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে কোম্পানীগঞ্জ থানার মূলফটকের সামনে তাশিক মির্জাকে মারধরকারীদের গ্রেফতার করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে কাদের মির্জা লিখেছেন, ‘আমার ছেলে তাশিক মির্জাকে ওসি (তদন্ত) রবিউলের উপস্থিতিতে থানার সামনে সন্ত্রাসীরা পাইপগান দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। বাদল, রাহাত, আকরাম উদ্দিন সবুজ, রুমেল, রিমন, কচি ও মঞ্জুর নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী এ হামলা চালায়।

ওই দিনের একটি ভিডিওতে দেখা যায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসককে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলছে— মির্জার ছেলেসহ তার কোনো লোককে চিকিৎসা দেবেন না। সন্ত্রাসীরা চিকিৎসকদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

পরে আমরা অন্য স্থান থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।

অন্যদিকে ওসি রনি ওই সময় আমার অফিসে এসে নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন; যেন কেউ বাইরে না যেতে পারে। আমার ছেলেকে মারধরের ভিডিও এরই মধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়নি।

আমার ছেলেকে যারা রক্তাক্ত করেছে, তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য আমি দায়ী থাকব না।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে রাতে যোগাযোগ করা হলে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেদিন মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে তারা। ভিডিও ভাইরাল হলেও এখনও সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় তারা কোম্পানীগঞ্জকে অশান্ত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে মিছিল করছে। আমি যত জায়গায় বিচার দিয়েছি, সবাই বলে চুপ থাকেন, অপেক্ষা করেন। আপনাদের বলা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।

অপরদিকে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল তার স্ট্যাটাস স্কিন শট নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন।

বাদল ওই স্ট্যাটাসে লিখেন— আ কা মির্জার এই পোস্ট থেকে আমি নিশ্চিত হলাম সে এখন এক্সজিট (Exit) চাচ্ছে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। এ ছাড়া অবশ্যই আর কোনো উপায়ও নেই। একটা অঘটন সে ঘটাবে, আর জেলে যাবে এবং সেখান থেকে মুক্তি নিয়ে সে আমেরিকায় তার দ্বিতীয় আবাসস্থল সেখানে চলে যাবে।

নতুবা তার সঙ্গে থাকা যাদের দিয়ে সে যত অপকর্ম করেছে, তারা তো তাকে যেতে দেবে না; তাই আমি বলব— তোমরা দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আত্মসমার্পণ কর। নতুবা গণরোষের শিকার হতে পার।

প্রসঙ্গত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। ওই পৌরসভায় দ্বিতীয় মেয়াদে গত ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলে আলোচনায় আসেন তিনি।

স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে দলীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের ঘটনায় এক মাসে দুটি সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ৩১ মার্চ দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন কাদের মির্জা।