ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

বিপন্ন হয়ে পড়ছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এক সময় দেশের প্রায় সব বনেই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বিচরণ ছিল। দৃষ্টি নন্দন ও ভিন্নধর্মী দৈহিক গঠনের জন্য এরা ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে। কিন্তু আমাদের এই গর্বের প্রতীক জাতীয় প্রাণিটি এখন সুন্দরবনে অল্প সংখ্যায় টিকে আছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের মার্চে মাসের গণনা শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি।

বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, সুন্দরবনে ১৯৮২ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৫৩টি, ২০০৪ সালে ৪৪০টি। আর সর্বশেষ গণণায় বাঘের সংখ্যা এসে দাড়িয়েছে মাত্র ১০৬টি।

আর এর কারণ হিসেবে বলা হয়, বাঘের আশ্রয়স্থলে হস্তক্ষেপ, চোরা শিকারীদের উপদ্রব, খাদ্যের অভাব এবং খাদ্য শৃঙ্খলের প্রভাব, বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব, সর্বোপরি বাঘের প্রতি জীঘাংসা পরায়ণ মনোভাব এবং বনবিভাগের গুরুত্বহীনতায় অনিন্দ্যসুন্দর হিংস্র এই প্রাণিটি বিপন্ন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা জনিত বৈরী প্রভাব এই সমস্যাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। তাই বনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই প্রাণিটি এখন মহা বিপন্ন। দিন দিন কমে যাচ্ছে বাঘের এই সংখ্যা। তাই বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বাঘ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিতে প্রতি বছর ২৯শে জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস।

তবে গত ৩৭ বছরে চোরা শিকারী ও বনদস্যুদের হামলা, গ্রামবাসীর পিটুনি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সুন্দরবনের ৭০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে দুই শতাধিক মানুষ।
বাঘ বিধবাদের পুনর্বাসন কাজে নিয়োজিত সুন্দরবন উপকুলীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল জানান, সুন্দবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো বাঘ শিকারের পর হত্যা করে এর চামড়া, দাত, হাড়সহ বিভিন্ন অঙ্গ পাচার করা।

তিনি এ জন্য সুন্দরবনের চোরা শিকারী ও বনদস্যুদের দায়ী করে বলেন, একটি বাঘের চামড়াসহ তার বিভিন্ন অঙ্গ পাচার করে তারা তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পান। অথচ একজন জেলে অপহরণ করে তারা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পান।

তিনি সুন্দরবনে বাঘ কমে যাওয়ার বিষয়ে আরো বলেন, বাঘের সংখ্যা নির্ণয়ের পূর্বে যে সমস্ত জরিপ করা হয়েছে তা থেকে বর্তমান বাঘের যে সংখ্যা দেখানো তা নিয়ে একটু ভেবে দেখা উচিত। তিনি আগের ওই জরিপ সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শোয়েব খান জানান, ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ সার্ভের মাঠ পর্যায়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে, বাঘের সঠিক সংখ্যা নিরুপণ করা এখনও সম্ভব হয়নি বলে।

বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মদিনুল আহসান জানান, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ সার্ভের মাঠ পর্যায়ের কাজ চলতি বছরের মে মাসে শেষ হয়েছে। আট শতাধিক ক্যামেরায় তোলা ছবি পর্যালোচনা করে বাঘের ঘনত্ব নিরুপণের কাজ শেষ হলেও বাঘের সঠিক সংখ্যা নিরুপণ করা এখনও সম্ভব হয়নি। সমস্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাসের মধ্যে বাঘের সঠিক সংখ্যাটি জানানো যাবে বলে তিনি জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

বিপন্ন হয়ে পড়ছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার

আপডেট সময় ০৬:৫৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এক সময় দেশের প্রায় সব বনেই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বিচরণ ছিল। দৃষ্টি নন্দন ও ভিন্নধর্মী দৈহিক গঠনের জন্য এরা ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে। কিন্তু আমাদের এই গর্বের প্রতীক জাতীয় প্রাণিটি এখন সুন্দরবনে অল্প সংখ্যায় টিকে আছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের মার্চে মাসের গণনা শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি।

বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, সুন্দরবনে ১৯৮২ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৫৩টি, ২০০৪ সালে ৪৪০টি। আর সর্বশেষ গণণায় বাঘের সংখ্যা এসে দাড়িয়েছে মাত্র ১০৬টি।

আর এর কারণ হিসেবে বলা হয়, বাঘের আশ্রয়স্থলে হস্তক্ষেপ, চোরা শিকারীদের উপদ্রব, খাদ্যের অভাব এবং খাদ্য শৃঙ্খলের প্রভাব, বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব, সর্বোপরি বাঘের প্রতি জীঘাংসা পরায়ণ মনোভাব এবং বনবিভাগের গুরুত্বহীনতায় অনিন্দ্যসুন্দর হিংস্র এই প্রাণিটি বিপন্ন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা জনিত বৈরী প্রভাব এই সমস্যাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। তাই বনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই প্রাণিটি এখন মহা বিপন্ন। দিন দিন কমে যাচ্ছে বাঘের এই সংখ্যা। তাই বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বাঘ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিতে প্রতি বছর ২৯শে জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস।

তবে গত ৩৭ বছরে চোরা শিকারী ও বনদস্যুদের হামলা, গ্রামবাসীর পিটুনি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সুন্দরবনের ৭০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে দুই শতাধিক মানুষ।
বাঘ বিধবাদের পুনর্বাসন কাজে নিয়োজিত সুন্দরবন উপকুলীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল জানান, সুন্দবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো বাঘ শিকারের পর হত্যা করে এর চামড়া, দাত, হাড়সহ বিভিন্ন অঙ্গ পাচার করা।

তিনি এ জন্য সুন্দরবনের চোরা শিকারী ও বনদস্যুদের দায়ী করে বলেন, একটি বাঘের চামড়াসহ তার বিভিন্ন অঙ্গ পাচার করে তারা তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পান। অথচ একজন জেলে অপহরণ করে তারা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পান।

তিনি সুন্দরবনে বাঘ কমে যাওয়ার বিষয়ে আরো বলেন, বাঘের সংখ্যা নির্ণয়ের পূর্বে যে সমস্ত জরিপ করা হয়েছে তা থেকে বর্তমান বাঘের যে সংখ্যা দেখানো তা নিয়ে একটু ভেবে দেখা উচিত। তিনি আগের ওই জরিপ সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শোয়েব খান জানান, ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ সার্ভের মাঠ পর্যায়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে, বাঘের সঠিক সংখ্যা নিরুপণ করা এখনও সম্ভব হয়নি বলে।

বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মদিনুল আহসান জানান, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ সার্ভের মাঠ পর্যায়ের কাজ চলতি বছরের মে মাসে শেষ হয়েছে। আট শতাধিক ক্যামেরায় তোলা ছবি পর্যালোচনা করে বাঘের ঘনত্ব নিরুপণের কাজ শেষ হলেও বাঘের সঠিক সংখ্যা নিরুপণ করা এখনও সম্ভব হয়নি। সমস্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাসের মধ্যে বাঘের সঠিক সংখ্যাটি জানানো যাবে বলে তিনি জানান।