ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পে স্কেল বাস্তবায়ন পে কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে :অর্থ উপদেষ্টা প্লট দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনা টিউলিপসহ ১৮ জনের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীর হাতে আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধেই আইনসভার উচ্চকক্ষ : আলী রীয়াজ ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন, কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি জনগণই স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক

মা ও মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, গ্রেফতার মূলহোতা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর এলাকার সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা মা ও স্কুলে পড়ুয়া মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। পুলিশ বলছে, গ্রেফতার ওই ব্যক্তি ঘটনার মূলহোতা।

ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে নির্যাতনের শিকার মমতাজ বেগম কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। শুক্রবার দুপুরে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবুজ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সবুজ (৫০) উপজেলার সিরাজপুর এলাকার মৃত মুক্তার আলীর ছেলে। ভুক্তভোগীরা হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার সিরাজপুর এলাকার ৩০ বছর বয়সী বিধবা নারী ও তার ১৬ বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়া মেয়ে।

ওই ঘটনায় বিধবা নারী বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসাসিরা হলেন, ড্রাইভার আব্দুল গফুর, মনির, রিপন, শিল্পি, মুক্তা, শহীদ, কুলছুম ও নয়ন সিকদার। এদিকে সবুজ এজাহার ভুক্ত আসামি না হলেও কালিয়াকৈর থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে ওই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও ইন্ধনদাতা হিসেবে সবুজকে মামলায় আসামি করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম ও কালিয়াকৈর থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ওই ঘটনার মূলহোতা সবুজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় গত ৫ বছর আগে ভুক্তভোগীর স্বামী আব্দুর রশিদ ফুসফুস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর ওই নারী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বনের জমিতে বসবাস করে আসছেন। এছাড়া তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করে তার মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। অভাব-অনটনের মধ্যে তাদের সংসার চলছে। কিন্তু তাদের সংসারে হানা দেয় একটি প্রতারক চক্র। ওই চক্রের ফাঁদে পড়ে স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক প্রায় ৩ লাখ টাকা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে বাধ্য হয়ে স্থানীয় গফুর ড্রাইভার ও মনির হোসেনের পরিবারসহ বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিতে হয়েছে।

এ বিষয় নিয়ে চলতি মাসের ১ তারিখ সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম সিকদার মধ্যস্থতা করে সুদের টাকা পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় বেঁধে দেন। কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময় শেষ না হতেই গফুর ড্রাইভার, তার স্ত্রী কুলসুম বেগম, ছেলে রিপন হোসেন এবং মনির হোসেন ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগম, মেয়ে মুক্তা আক্তার, ছেলে শহিদ হোসেন, স্থানীয় নয়ন হোসেন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়ি ঘেরাও করে।

এ সময় তারা সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা মমতাজ বেগমকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে থাকে। মাকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে এগিয়ে গেলে তাকেও একই গাছে বেঁধে রাখে। এ করুণ দৃশ্যটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে ভুক্তভোগীর ছোট বোনকেও গাছের সঙ্গে বাঁধার চেষ্টা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়ালের নতুন কোচ আরবেলোয়া

মা ও মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, গ্রেফতার মূলহোতা

আপডেট সময় ১১:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর এলাকার সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা মা ও স্কুলে পড়ুয়া মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। পুলিশ বলছে, গ্রেফতার ওই ব্যক্তি ঘটনার মূলহোতা।

ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে নির্যাতনের শিকার মমতাজ বেগম কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। শুক্রবার দুপুরে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবুজ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সবুজ (৫০) উপজেলার সিরাজপুর এলাকার মৃত মুক্তার আলীর ছেলে। ভুক্তভোগীরা হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার সিরাজপুর এলাকার ৩০ বছর বয়সী বিধবা নারী ও তার ১৬ বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়া মেয়ে।

ওই ঘটনায় বিধবা নারী বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসাসিরা হলেন, ড্রাইভার আব্দুল গফুর, মনির, রিপন, শিল্পি, মুক্তা, শহীদ, কুলছুম ও নয়ন সিকদার। এদিকে সবুজ এজাহার ভুক্ত আসামি না হলেও কালিয়াকৈর থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে ওই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও ইন্ধনদাতা হিসেবে সবুজকে মামলায় আসামি করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম ও কালিয়াকৈর থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ওই ঘটনার মূলহোতা সবুজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় গত ৫ বছর আগে ভুক্তভোগীর স্বামী আব্দুর রশিদ ফুসফুস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর ওই নারী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বনের জমিতে বসবাস করে আসছেন। এছাড়া তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করে তার মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। অভাব-অনটনের মধ্যে তাদের সংসার চলছে। কিন্তু তাদের সংসারে হানা দেয় একটি প্রতারক চক্র। ওই চক্রের ফাঁদে পড়ে স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক প্রায় ৩ লাখ টাকা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে বাধ্য হয়ে স্থানীয় গফুর ড্রাইভার ও মনির হোসেনের পরিবারসহ বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিতে হয়েছে।

এ বিষয় নিয়ে চলতি মাসের ১ তারিখ সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম সিকদার মধ্যস্থতা করে সুদের টাকা পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় বেঁধে দেন। কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময় শেষ না হতেই গফুর ড্রাইভার, তার স্ত্রী কুলসুম বেগম, ছেলে রিপন হোসেন এবং মনির হোসেন ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগম, মেয়ে মুক্তা আক্তার, ছেলে শহিদ হোসেন, স্থানীয় নয়ন হোসেন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়ি ঘেরাও করে।

এ সময় তারা সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা মমতাজ বেগমকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে থাকে। মাকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে এগিয়ে গেলে তাকেও একই গাছে বেঁধে রাখে। এ করুণ দৃশ্যটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে ভুক্তভোগীর ছোট বোনকেও গাছের সঙ্গে বাঁধার চেষ্টা করেন।