ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সৌদি আরবের আওয়ামিয়া শহর এখন ধ্বংসস্তুপ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সংঘর্ষে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে সৌদি আরবের আওয়ামিয়া শহর। গত মে মাস থেকে নিরাপত্তা বাহিনী ও শিয়া গোষ্ঠীর মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় সাধারণ নাগরিকসহ বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং অনেকেই পঙ্গু হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামোসহ শহরটির বড় অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটি এখন জনমানবহীন নিশ্চুপ মরুভূমির ধ্বংসযজ্ঞ, দেখলে মনে হয় যেন ইরাক বা সিরিয়ার কোনো দৃশ্যে। শহরটিতে বর্তমানে বাইরের লোকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তেলসমৃদ্ধ শহর আওয়ামিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী শিয়া সম্প্রদায়ের। স্থানীয় শিয়া জনগোষ্ঠীর অভিযোগ, তারা সরকারের বৈষম্যের শিকার। মে মাসে প্রকল্প চালুর জন্য নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে হস্তক্ষেপ করে। শিয়া গোষ্ঠীগুলো আপত্তি জানারেও তাতে কর্ণপাত না করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ চালানো হয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরও সরকারি বাহিনী সেখানে গুলি চালায়।

সৌদি সরকার বলছে, বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে এখনো উত্তেজনা আছে। সহিংসতার জন্য সরকার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ প্রচার করে দাবি করে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সেখানে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। শিয়াদের ওপর দমন অভিযান পরিচালনার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে সৌদি বাহিনী। তাদের দাবি, অনেক বাড়ি ও দোকান যে ধ্বংস হয়ে গেছে, তার কারণ বন্দুকধারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ।

জানা যায়, চলতি বছরের মে মাস থেকে সরকারি বাহিনী আওয়ামিয়াতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করে। প্রায়ই তাদের বাড়িতে পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতে থাকে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠে যেত। ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করতে সেখানকার শিয়া পরিবারগুলোর বাড়ির সামনে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়তে থাকে। ফলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন স্থানীয়রা। পালিয়ে যাওয়া শিয়া পরিবারগুলোর একাংশ নিকটবর্তী শহরে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছে। দাম্মাম শহরে অনেক অ্যাপার্টামেন্টে অস্থায়ীভাবে থাকছে কাতিফের ঘর ছেড়ে আসা বাসিন্দারা।’

উল্লেখ্য ২০১১ সালে আরব বসন্তের কাল থেকেই সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় কাতিফ প্রদেশে সংঘাত চলছে। আওয়ামিয়া শহরেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সৌদি রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে যে শিয়া আন্দোলন শুরু হয়েছিল তার কেন্দ্রে ছিল এই শহর। এতে নেতৃত্ব দেয়া শিয়া নেতা নিমর আল নিমরের মৃত্যুদণ্ড গত বছর কার্যকর করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদে’র অভিযোগ আনা হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও আল-জাজিরা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সৌদি আরবের আওয়ামিয়া শহর এখন ধ্বংসস্তুপ

আপডেট সময় ১০:২১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সংঘর্ষে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে সৌদি আরবের আওয়ামিয়া শহর। গত মে মাস থেকে নিরাপত্তা বাহিনী ও শিয়া গোষ্ঠীর মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় সাধারণ নাগরিকসহ বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং অনেকেই পঙ্গু হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামোসহ শহরটির বড় অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটি এখন জনমানবহীন নিশ্চুপ মরুভূমির ধ্বংসযজ্ঞ, দেখলে মনে হয় যেন ইরাক বা সিরিয়ার কোনো দৃশ্যে। শহরটিতে বর্তমানে বাইরের লোকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তেলসমৃদ্ধ শহর আওয়ামিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী শিয়া সম্প্রদায়ের। স্থানীয় শিয়া জনগোষ্ঠীর অভিযোগ, তারা সরকারের বৈষম্যের শিকার। মে মাসে প্রকল্প চালুর জন্য নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে হস্তক্ষেপ করে। শিয়া গোষ্ঠীগুলো আপত্তি জানারেও তাতে কর্ণপাত না করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ চালানো হয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরও সরকারি বাহিনী সেখানে গুলি চালায়।

সৌদি সরকার বলছে, বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে এখনো উত্তেজনা আছে। সহিংসতার জন্য সরকার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ প্রচার করে দাবি করে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সেখানে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। শিয়াদের ওপর দমন অভিযান পরিচালনার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে সৌদি বাহিনী। তাদের দাবি, অনেক বাড়ি ও দোকান যে ধ্বংস হয়ে গেছে, তার কারণ বন্দুকধারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ।

জানা যায়, চলতি বছরের মে মাস থেকে সরকারি বাহিনী আওয়ামিয়াতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করে। প্রায়ই তাদের বাড়িতে পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতে থাকে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠে যেত। ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করতে সেখানকার শিয়া পরিবারগুলোর বাড়ির সামনে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়তে থাকে। ফলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন স্থানীয়রা। পালিয়ে যাওয়া শিয়া পরিবারগুলোর একাংশ নিকটবর্তী শহরে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছে। দাম্মাম শহরে অনেক অ্যাপার্টামেন্টে অস্থায়ীভাবে থাকছে কাতিফের ঘর ছেড়ে আসা বাসিন্দারা।’

উল্লেখ্য ২০১১ সালে আরব বসন্তের কাল থেকেই সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় কাতিফ প্রদেশে সংঘাত চলছে। আওয়ামিয়া শহরেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সৌদি রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে যে শিয়া আন্দোলন শুরু হয়েছিল তার কেন্দ্রে ছিল এই শহর। এতে নেতৃত্ব দেয়া শিয়া নেতা নিমর আল নিমরের মৃত্যুদণ্ড গত বছর কার্যকর করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদে’র অভিযোগ আনা হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও আল-জাজিরা