ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর সতর্কতা বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী পূর্বাচলে হবে ৪ থানা ও ৬ তদন্ত কেন্দ্র : আইজিপি এবছর ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে ইরান-ওমান শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো বিসিবির বর্তমান কমিটিতে ক্রিকেট গতিশীল হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নাইজেরিয়ায় স্কুলে হামলায় ৩ জন নিহত, শিক্ষার্থীসহ নিখোঁজ ৩৭

সুদের টাকা আদায় করতে মা-মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা নারী ও তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় এ ঘটনায় ঘটেছে। পরে বিকেলে ভুক্তভোগীরা কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী নারী হলেন কালিয়াকৈর উপজেলার সিরাজপুর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩০) ও তার মেয়ে মাহবুবা আক্তার ঝুমা (১৬)।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছর আগে মমতাজ বেগমের স্বামী আব্দুর রশিদ ফুসফুস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর মমতাজ বেগম পোশাক কারখানায় কাজ করে মেয়ে ঝুমাকে লেখাপড়া করিয়ে আসছেন। কিন্তু নানা অভাব-অনটনের কারণে কয়েকজনের কাছ থেকে তাকে সুদে টাকা নিতে হয়েছে।
তবে দুই মাস কাটতে না কাটতেই পাওনাদাররা সুদের টাকা আদায় করতে জোর দিতে থাকেন। পরে চলতি মাসের ১ তারিখ সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম সিকদারের সমঝোতায় সুদের টাকা পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় বেধে দেওয়া হয় ওই নারীকে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষ না হতেই পাওনাদার গফুর ডাইভার, তার স্ত্রী কুলসুম বেগম ও ছেলে রিপন হোসেন এবং মনির হোসেন ও তার স্ত্রী শিল্পীসহ কয়েকজন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিধবা মমতাজ বেগমের বাড়ি ঘেরাও করেন।

এসময় তারা সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা মমতাজ বেগমকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে থাকেন। মাকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে মেয়ে ঝুমা এগিয়ে গেলে তাকেও একই গাছে বেঁধে রাখা হয়। মা-মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রায় ঘণ্টাখানেক নির্যাতন চালালেও কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিধবা মা ও মেয়েকে উদ্ধার করলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এরপর বিকেলে মমতাজ বেগম বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈরে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী বিধবা মমতাজ বেগম বলেন, একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা হারিয়েছি। ওই টাকা যোগাড় করতে গফুর ডাইভার ও মনির হোসেনের পরিবারসহ কয়েকজনের কাছ থেকে সুদ করতে হয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম আমাকে আগামী এক মাসের সময় দিয়েছেন। আমি ওই টাকা ফেরত দেব। কিন্তু ওই সময় শেষ হওয়ার আগেই তারা বাড়ি ঘেরাও করে আমাকে ও আমার মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেধে নির্যাতন চালিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গফুর ডাইভার জানান, আমাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি মিথ্যা। তবে আমি মারি নাই, আমি জানিও না। অপর অভিযুক্ত মনির হোসেনের মোবাইলে ফোনে কল দিলে রিসিভ করেন তার মেয়ে মুক্তা। তিনি বলেন, উল্টো মমতাজ বেগমরাই আমাদের মারধর করেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম সিকদার জানান, ঘটনা শুনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি মা-মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে তাদের মারধর করছে। পরে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করেছি। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক।

ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামাল উদ্দিন জানান, মা-মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়ে ৯৯৯-এ ফোন আসে। পরে স্থানীয় মেম্বরকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

সুদের টাকা আদায় করতে মা-মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট সময় ০৯:১৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা নারী ও তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় এ ঘটনায় ঘটেছে। পরে বিকেলে ভুক্তভোগীরা কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী নারী হলেন কালিয়াকৈর উপজেলার সিরাজপুর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩০) ও তার মেয়ে মাহবুবা আক্তার ঝুমা (১৬)।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছর আগে মমতাজ বেগমের স্বামী আব্দুর রশিদ ফুসফুস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর মমতাজ বেগম পোশাক কারখানায় কাজ করে মেয়ে ঝুমাকে লেখাপড়া করিয়ে আসছেন। কিন্তু নানা অভাব-অনটনের কারণে কয়েকজনের কাছ থেকে তাকে সুদে টাকা নিতে হয়েছে।
তবে দুই মাস কাটতে না কাটতেই পাওনাদাররা সুদের টাকা আদায় করতে জোর দিতে থাকেন। পরে চলতি মাসের ১ তারিখ সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম সিকদারের সমঝোতায় সুদের টাকা পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় বেধে দেওয়া হয় ওই নারীকে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষ না হতেই পাওনাদার গফুর ডাইভার, তার স্ত্রী কুলসুম বেগম ও ছেলে রিপন হোসেন এবং মনির হোসেন ও তার স্ত্রী শিল্পীসহ কয়েকজন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিধবা মমতাজ বেগমের বাড়ি ঘেরাও করেন।

এসময় তারা সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা মমতাজ বেগমকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে থাকেন। মাকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে মেয়ে ঝুমা এগিয়ে গেলে তাকেও একই গাছে বেঁধে রাখা হয়। মা-মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রায় ঘণ্টাখানেক নির্যাতন চালালেও কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিধবা মা ও মেয়েকে উদ্ধার করলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এরপর বিকেলে মমতাজ বেগম বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈরে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী বিধবা মমতাজ বেগম বলেন, একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা হারিয়েছি। ওই টাকা যোগাড় করতে গফুর ডাইভার ও মনির হোসেনের পরিবারসহ কয়েকজনের কাছ থেকে সুদ করতে হয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম আমাকে আগামী এক মাসের সময় দিয়েছেন। আমি ওই টাকা ফেরত দেব। কিন্তু ওই সময় শেষ হওয়ার আগেই তারা বাড়ি ঘেরাও করে আমাকে ও আমার মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেধে নির্যাতন চালিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গফুর ডাইভার জানান, আমাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি মিথ্যা। তবে আমি মারি নাই, আমি জানিও না। অপর অভিযুক্ত মনির হোসেনের মোবাইলে ফোনে কল দিলে রিসিভ করেন তার মেয়ে মুক্তা। তিনি বলেন, উল্টো মমতাজ বেগমরাই আমাদের মারধর করেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম সিকদার জানান, ঘটনা শুনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি মা-মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে তাদের মারধর করছে। পরে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করেছি। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক।

ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামাল উদ্দিন জানান, মা-মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়ে ৯৯৯-এ ফোন আসে। পরে স্থানীয় মেম্বরকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।