ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ফের হরতাল ডাকলেন সেতুমন্ত্রীর ভাই কাদের মির্জা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দলীয় এক নেতার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে হরতাল ডেকে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই। তবে তখন বড়ভাইয়ের নির্দেশে হরতাল প্রত্যাহার করলেও আবারো নিজ এলাকায় অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছেন দেশজুড়ে আলোচিত সদ্যবিজয়ী এই মেয়র।

সোমবার সন্ধ্যায় বসুরহাট রূপালী চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি রবিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অর্ধদিবস হরতাল ডাকেন আবদুল কাদের মির্জা। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছেন না। ওবায়দুল কাদের আমাদেরকে রক্তচক্ষু দেখাচ্ছেন। আমি কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না।’

হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে কাদের মির্জা বলেন, ‘হরতালের দিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জের কোথাও পাখিও উড়তে পারবে না। এরপর ঢাকাভিত্তিক কর্মসূচি হবে, প্রেস ব্রিফিং হবে, নোয়াখালীর অনেক নেতাকর্মী, মেয়র সেখানে উপস্থিত থাকবেন।’

এ সময় তিনি নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

বড়ভাই ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে কাদের মির্জা বলেন, ‘নোয়াখালীতে টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য, প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে লুটপাট করছে। কেউ কি দেখার নেই? ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনি কী হতে চান? আপনি আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি, আপনার এলাকার ত্যাগী কর্মীরা আজকে ঘরে শুতে পারে না। তাদের গুলি খেতে হয়। তারা হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে কাতরাচ্ছে। আপনি সেখানে বসে কী করছেন? চুপ করে সেখানে বসে থেকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কী করবেন আপনি-আমাকে জেলে দেবেন? সেটার অভ্যাস আমার আছে। বরং আপনার থেকে বেশি জেল খেটেছি আমি। মেরে ফেলবেন? আপনার সাথে কবরের জায়গাও দেখিয়ে দিয়েছি।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনি আমাদের নেতা, আমার রাজনৈতিক আদর্শ। আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আগামী শনিবারের পর থেকে আর এই শ্রদ্ধাও থাকবে না। স্পষ্ট ভাষায় বলবো- কী দেখাতে চান, কী বুঝাতে চান। দুশ্চরিত্রদের আপনি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এদের পতন হওয়া পর্যন্ত আমার আন্দোলন চলবে।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, চরপার্বতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তানভীর প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে রবিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অর্ধদিবস হরতালের ঘোষণা দিয়েছিলেন কাদের মির্জা। তবে শনিবার সকালে ডাকা এই কর্মসূচি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে প্রত্যাহার করেন তিনি। জানান ঘোষিত ওই হরতাল ওবায়দুল কাদেরের আশ্বাসে প্রত্যাহার করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ফের হরতাল ডাকলেন সেতুমন্ত্রীর ভাই কাদের মির্জা

আপডেট সময় ১১:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দলীয় এক নেতার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে হরতাল ডেকে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই। তবে তখন বড়ভাইয়ের নির্দেশে হরতাল প্রত্যাহার করলেও আবারো নিজ এলাকায় অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছেন দেশজুড়ে আলোচিত সদ্যবিজয়ী এই মেয়র।

সোমবার সন্ধ্যায় বসুরহাট রূপালী চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি রবিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অর্ধদিবস হরতাল ডাকেন আবদুল কাদের মির্জা। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছেন না। ওবায়দুল কাদের আমাদেরকে রক্তচক্ষু দেখাচ্ছেন। আমি কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না।’

হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে কাদের মির্জা বলেন, ‘হরতালের দিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জের কোথাও পাখিও উড়তে পারবে না। এরপর ঢাকাভিত্তিক কর্মসূচি হবে, প্রেস ব্রিফিং হবে, নোয়াখালীর অনেক নেতাকর্মী, মেয়র সেখানে উপস্থিত থাকবেন।’

এ সময় তিনি নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

বড়ভাই ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে কাদের মির্জা বলেন, ‘নোয়াখালীতে টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য, প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে লুটপাট করছে। কেউ কি দেখার নেই? ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনি কী হতে চান? আপনি আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি, আপনার এলাকার ত্যাগী কর্মীরা আজকে ঘরে শুতে পারে না। তাদের গুলি খেতে হয়। তারা হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে কাতরাচ্ছে। আপনি সেখানে বসে কী করছেন? চুপ করে সেখানে বসে থেকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কী করবেন আপনি-আমাকে জেলে দেবেন? সেটার অভ্যাস আমার আছে। বরং আপনার থেকে বেশি জেল খেটেছি আমি। মেরে ফেলবেন? আপনার সাথে কবরের জায়গাও দেখিয়ে দিয়েছি।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনি আমাদের নেতা, আমার রাজনৈতিক আদর্শ। আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আগামী শনিবারের পর থেকে আর এই শ্রদ্ধাও থাকবে না। স্পষ্ট ভাষায় বলবো- কী দেখাতে চান, কী বুঝাতে চান। দুশ্চরিত্রদের আপনি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এদের পতন হওয়া পর্যন্ত আমার আন্দোলন চলবে।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, চরপার্বতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তানভীর প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে রবিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অর্ধদিবস হরতালের ঘোষণা দিয়েছিলেন কাদের মির্জা। তবে শনিবার সকালে ডাকা এই কর্মসূচি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে প্রত্যাহার করেন তিনি। জানান ঘোষিত ওই হরতাল ওবায়দুল কাদেরের আশ্বাসে প্রত্যাহার করেছেন।