ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মিশরে গিয়ে হত্যার শিকার ইতালির গবেষক, ৫ বছর পর রহস্য উদঘাটন

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

পাঁচ বছর আগে মিশরে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন ইতালির এক গবেষক। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার কোনও কূলকিনারা পাচ্ছিল না দেশটির সরকার। তবে দীর্ঘ তদন্তের পর এর রহস্য উদঘাটন হয়েছে গত সপ্তাহে। জানা গেছে, মিশরীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাকে হত্যা করেছে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিলিও রিজেনি নামে ওই ইতালীয় গবেষক ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে গবেষণার কাজে মিশরে যান। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ছিলেন।

মিশরে কয়েক দশক ধরে ক্ষমতা থাকা হোসনি মোবারককে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রাখা বিক্ষোভকারী দলগুলো নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

কিন্তু কয়েক মাস পর রাজধানী কায়রোর এক মহাসড়কের পাশে লাশ পাওয়া যায় ২৮ বছর বয়সী ওই তরুণের। তার শরীরে ছিল সিগারেট দিয়ে পোড়া দাগ, দাঁত ভাঙা এবং হাড়ে আঘাত।

এ ঘটনার পাঁচ বছর পর গত সপ্তাহে মিশরের চার নিরাপত্তা কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে ইতালির প্রসিকিউটর। দীর্ঘ তদন্তের পর বেরিয়ে আসে, অভিযুক্তরা রিজেনিকে অপহরণ করে এবং গোপন ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে গিয়ে নিপীড়ন চালিয়ে তাকে হত্যা করে।

মিশরে নিরাপত্তা বাহিনীর গোপন ডিটেনশন সেন্টার ব্যবহারের অভিযোগের এ প্রথম কোনও পূর্ণ তদন্ত চালানো হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এর আগে হাজার হাজার মিশরীয় ভুক্তভোগী হয়েছিল ডিটেনশন সেন্টারে।

পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগ আনা মিশরে এখন বিরল ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবদেল ফাতাহ আল সিসি সরকার অভিযুক্তদের সহজেই দায়মুক্তির ঘটনা ঘটছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিমত।

বেসরকারি সংস্থা ইজিপশিয়ান কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের পরিচালক মোহাম্মদ লুতফি বলেন, ‘রিজেনিকে হত্যা করতে তারা নতুন কিছু উদ্ভাবন করেনি। অনেক মিশরীয়র বিরুদ্ধে যে অস্ত্র ও অনুশীলন তারা ব্যবহার করে, তার ক্ষেত্রেও সেটি ঘটেছে। এখন বেরিয়ে আসবে সেই যন্ত্র ও অনুশীলন মানুষকে গুম ও নির্যাতনের জন্য কীভাবে কাজ করে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মিশরে গিয়ে হত্যার শিকার ইতালির গবেষক, ৫ বছর পর রহস্য উদঘাটন

আপডেট সময় ০৫:০০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

পাঁচ বছর আগে মিশরে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন ইতালির এক গবেষক। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার কোনও কূলকিনারা পাচ্ছিল না দেশটির সরকার। তবে দীর্ঘ তদন্তের পর এর রহস্য উদঘাটন হয়েছে গত সপ্তাহে। জানা গেছে, মিশরীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাকে হত্যা করেছে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিলিও রিজেনি নামে ওই ইতালীয় গবেষক ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে গবেষণার কাজে মিশরে যান। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ছিলেন।

মিশরে কয়েক দশক ধরে ক্ষমতা থাকা হোসনি মোবারককে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রাখা বিক্ষোভকারী দলগুলো নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

কিন্তু কয়েক মাস পর রাজধানী কায়রোর এক মহাসড়কের পাশে লাশ পাওয়া যায় ২৮ বছর বয়সী ওই তরুণের। তার শরীরে ছিল সিগারেট দিয়ে পোড়া দাগ, দাঁত ভাঙা এবং হাড়ে আঘাত।

এ ঘটনার পাঁচ বছর পর গত সপ্তাহে মিশরের চার নিরাপত্তা কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে ইতালির প্রসিকিউটর। দীর্ঘ তদন্তের পর বেরিয়ে আসে, অভিযুক্তরা রিজেনিকে অপহরণ করে এবং গোপন ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে গিয়ে নিপীড়ন চালিয়ে তাকে হত্যা করে।

মিশরে নিরাপত্তা বাহিনীর গোপন ডিটেনশন সেন্টার ব্যবহারের অভিযোগের এ প্রথম কোনও পূর্ণ তদন্ত চালানো হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এর আগে হাজার হাজার মিশরীয় ভুক্তভোগী হয়েছিল ডিটেনশন সেন্টারে।

পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগ আনা মিশরে এখন বিরল ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবদেল ফাতাহ আল সিসি সরকার অভিযুক্তদের সহজেই দায়মুক্তির ঘটনা ঘটছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিমত।

বেসরকারি সংস্থা ইজিপশিয়ান কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের পরিচালক মোহাম্মদ লুতফি বলেন, ‘রিজেনিকে হত্যা করতে তারা নতুন কিছু উদ্ভাবন করেনি। অনেক মিশরীয়র বিরুদ্ধে যে অস্ত্র ও অনুশীলন তারা ব্যবহার করে, তার ক্ষেত্রেও সেটি ঘটেছে। এখন বেরিয়ে আসবে সেই যন্ত্র ও অনুশীলন মানুষকে গুম ও নির্যাতনের জন্য কীভাবে কাজ করে।’