ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ভাসানচরে সরালেও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারেই ফিরতে হবে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকেই অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ সরকার। একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হলেও তাদেরকে অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরতে হবে।

অস্থায়ীভাবে আশ্রয়প্রাপ্ত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়াটাই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে ১৬শ’র বেশি রোহিঙ্গাকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়ার দিনে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের প্রথম দল শুক্রবার ভাসানচরে পৌঁছেছে। যারা স্বেচ্ছায় সেখানে যেতে চেয়েছেন তাদেরই পাঠানো হয়েছে। ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পাঠানো হবে। সেখানে নেয়ার আগে তাদের কমিউনিটি নেতারা জায়গাটি পরিদর্শন করেন। এনজিও ও গণমাধ্যমের কর্মীরাও ভাসানচর পরিদর্শন করেছেন। ওই জায়গাটি এখন পুরোপুরি সুরক্ষিত। রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাসানচরে বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ২২টি এনজিও সহায়তা দেবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের অবশ্যই ফিরতে হবে। আমরা সবাইকে বাংলাদেশ সরকারের প্রকৃত প্রচেষ্টাকে দুর্বল বা ভুল ব্যাখ্যা না করার জন্য সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাচ্ছি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরার লক্ষ্যে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে।

মন্ত্রণালয় জানায়, ভাসানচরে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখানে মিঠাপানি, সুন্দর হ্রদ, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, কৃষিজমি, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, দুটি হাসপাতাল, চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, টেলিযোগাযোগ পরিষেবা, বিনোদন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও খেলার মাঠ রয়েছে। মহিলা পুলিশ সদস্যসহ পুলিশ মোতায়েন করে দ্বীপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া এলাকাটি পুরোপুরি সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

আবাসন প্রকল্পটি কংক্রিট দিয়ে নির্মিত। ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করতে সক্ষম। ঘূর্ণিঝড় আম্পান ভাসানচরে আঘাত করলেও আবাসন কাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। ভাসানচরে রয়েছে ১৪৪০টি ঘর এবং ১২০টি আশ্রয় কেন্দ্র। দ্বীপটি নৌপথ দিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য আধুনিক সব সুবিধার পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ভাসানচরে সরালেও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারেই ফিরতে হবে

আপডেট সময় ১১:৩৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকেই অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ সরকার। একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হলেও তাদেরকে অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরতে হবে।

অস্থায়ীভাবে আশ্রয়প্রাপ্ত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়াটাই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে ১৬শ’র বেশি রোহিঙ্গাকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়ার দিনে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের প্রথম দল শুক্রবার ভাসানচরে পৌঁছেছে। যারা স্বেচ্ছায় সেখানে যেতে চেয়েছেন তাদেরই পাঠানো হয়েছে। ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পাঠানো হবে। সেখানে নেয়ার আগে তাদের কমিউনিটি নেতারা জায়গাটি পরিদর্শন করেন। এনজিও ও গণমাধ্যমের কর্মীরাও ভাসানচর পরিদর্শন করেছেন। ওই জায়গাটি এখন পুরোপুরি সুরক্ষিত। রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাসানচরে বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ২২টি এনজিও সহায়তা দেবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের অবশ্যই ফিরতে হবে। আমরা সবাইকে বাংলাদেশ সরকারের প্রকৃত প্রচেষ্টাকে দুর্বল বা ভুল ব্যাখ্যা না করার জন্য সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাচ্ছি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরার লক্ষ্যে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে।

মন্ত্রণালয় জানায়, ভাসানচরে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখানে মিঠাপানি, সুন্দর হ্রদ, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, কৃষিজমি, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, দুটি হাসপাতাল, চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, টেলিযোগাযোগ পরিষেবা, বিনোদন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও খেলার মাঠ রয়েছে। মহিলা পুলিশ সদস্যসহ পুলিশ মোতায়েন করে দ্বীপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া এলাকাটি পুরোপুরি সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

আবাসন প্রকল্পটি কংক্রিট দিয়ে নির্মিত। ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করতে সক্ষম। ঘূর্ণিঝড় আম্পান ভাসানচরে আঘাত করলেও আবাসন কাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। ভাসানচরে রয়েছে ১৪৪০টি ঘর এবং ১২০টি আশ্রয় কেন্দ্র। দ্বীপটি নৌপথ দিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য আধুনিক সব সুবিধার পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করছে।