ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থগিত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর আহ্বান মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি: বিরোধীদলীয় নেতা স্কুলছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আটক প্রান্তিক মানুষের নাগালে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: মির্জা ফখরুল চীনে ভারি বৃষ্টিতে ভূমিধসে নিহত বেড়ে ২৫, বেইজিংসহ একাধিক অঞ্চলে সতর্কতা হামাসের দুই কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের হাসিনাকে গুম-খুন নিয়ে প্রশ্ন না করে অনেক সাংবাদিক তৈলমর্দনে ব্যস্ত ছিলেন: কাদের গনি ঢাকায় ফের ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ, যুক্ত হতে পারে বেসরকারি খাত জনগণ আপনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, কীভাবে আসবেন আসেন: শেখ হাসিনাকে পরওয়ার নতুন আইন কর্মকর্তাদের সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের

বাংলাদেশ নয়, মিয়ানমারে নজর দিন: পররাষ্ট্র সচিব

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে শুধু বাংলাদেশই নয়, মিয়ানমারের দিকেও নজর দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘মিয়ানমারকে তোয়াজ করার নীতি অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।’

বৃহস্পতিবার ‘রোহিঙ্গা সমস্যার তূলনামূলক চিত্র’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি। বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র সচিব।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে মানবিক সহায়তা দিচ্ছে, একই রকম সহায়তা মিয়ানমারে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের রক্ষা এবং বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য দেওয়া উচিত।’

প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও অস্থিতিশীল হবে সতর্ক করেন তিনি। বলেন, ‘মানবিক সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু এটি সমস্যা সমাধানে সহায়ক নয়।’

ভূ-রাজনীতি, অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে আপাত দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রাধান্য দিচ্ছে জানিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক যে, মিয়ানমারকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা যেসব দেশের আছে, হয় তারা সেটি ব্যবহার করতে চাইছে না, অথবা তারা মিয়ানমারকে তোয়াজ করার নীতি অনুসরণ করছে। এটি অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। তোয়াজ করার নীতি মিয়ানমারকে আরও সাহসী করে তুলছে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, প্রত্যাবাসন ও স্থায়ী সমাধানের চেয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবিক সহায়তা দিতে বেশি আগ্রহী।’

প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ তৈরি, কিন্তু মিয়ানমারের অনাগ্রহে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে একটি আন্তর্জাতিক বেসামরিক নজরদারি দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য পররাষ্ট্র সচিব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সে দেশের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মিয়ানমারে নির্বাচনের পর আমরা আশা করি, নতুন করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থগিত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর আহ্বান মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশ নয়, মিয়ানমারে নজর দিন: পররাষ্ট্র সচিব

আপডেট সময় ১০:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে শুধু বাংলাদেশই নয়, মিয়ানমারের দিকেও নজর দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘মিয়ানমারকে তোয়াজ করার নীতি অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।’

বৃহস্পতিবার ‘রোহিঙ্গা সমস্যার তূলনামূলক চিত্র’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি। বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র সচিব।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে মানবিক সহায়তা দিচ্ছে, একই রকম সহায়তা মিয়ানমারে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের রক্ষা এবং বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য দেওয়া উচিত।’

প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও অস্থিতিশীল হবে সতর্ক করেন তিনি। বলেন, ‘মানবিক সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু এটি সমস্যা সমাধানে সহায়ক নয়।’

ভূ-রাজনীতি, অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে আপাত দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রাধান্য দিচ্ছে জানিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক যে, মিয়ানমারকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা যেসব দেশের আছে, হয় তারা সেটি ব্যবহার করতে চাইছে না, অথবা তারা মিয়ানমারকে তোয়াজ করার নীতি অনুসরণ করছে। এটি অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। তোয়াজ করার নীতি মিয়ানমারকে আরও সাহসী করে তুলছে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, প্রত্যাবাসন ও স্থায়ী সমাধানের চেয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবিক সহায়তা দিতে বেশি আগ্রহী।’

প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ তৈরি, কিন্তু মিয়ানমারের অনাগ্রহে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে একটি আন্তর্জাতিক বেসামরিক নজরদারি দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য পররাষ্ট্র সচিব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সে দেশের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মিয়ানমারে নির্বাচনের পর আমরা আশা করি, নতুন করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।’