ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিশ্ববাসীর কাছে এক রোহিঙ্গা মুসলিমের বার্তা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলমান সহিংসতার মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডং শহর থেকে ১০ দিনে বাংলাদেশে এসেছেন ৩৩ বছর বয়সী রোহিঙ্গা মুসলিম মোহাম্মদ সোয়ে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজারের উখিয়ার উনচি প্রাঙ্ক শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে বসে আলজাজিরার প্রতিবেদককে পালিয়ে আসার আগের গল্প ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতার কাহিনী শুনিয়েছেন তিনি। পাঠকের জন্য তাঁর বক্তব্যের হুবহু ভাষান্তর করে দেওয়া হলো।

‘অন্য সব রোহিঙ্গার মতো আমিও বুথিডং পৌর এলাকার একজন কৃষক ছিলাম। আমাদের কাজের কিংবা শিক্ষার অধিকার নেই। তাই পুলিশ, সেনাবাহিনী কিংবা অন্য স্মার্ট দপ্তরে কাজের সুযোগ নেই আমাদের। আমাদের ক্ষেতে-খামারে কাজ করতে হয় কিংবা বাঁশ সংগ্রহের জন্য যেতে হয় বনে।

এটা অনেকটা দিন এনে দিনে খেয়ে বেঁচে থাকা। কোনো স্বাধীনতা ছাড়াই আমরা বেঁচেছিলাম। এভাবেই চলছিল আমাদের প্রতিটি দিন।

দুই সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধ লোকজন আমাদের গ্রামে এসে আমাদের দিকে গুলি ছুড়তে থাকে এবং একের পর এক আমাদের ঘরগুলো আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিতে থাকে। আমার ভাইয়ের মুখের দিকে গুলি লাগে এবং সেখানেই সে মারা যায়। বাকিদের সেখান থেকে পালাতে হয়েছে। নতুবা আমাদেরও মরতে হবে।

আমরা তখনো জানি না, কোথায় যাচ্ছি। টানা ১০ দিন হেঁটে অবশেষে আমরা অবশেষে বাংলাদেশে এসে পৌঁছালাম।

আমার মা ৮০ বছরের বৃদ্ধ, ভুগছেন প্যারালাইসিস ও শ্বাসকষ্টে। তাই পুরো পথে তাঁকে বহন করে নিয়ে আসতে হয়েছে আমাকে। আমরা নৌকায় করে তিনটা নদী পাড়ি দিয়েছি। বাকিটা হেঁটে এসেছি।

কখনো কখনো আমাদের সেনাবাহিনীর পাশ দিয়ে আসতে হয়েছে। তারা আমাদের দিকে গুলি ছুড়তে শুরু করত। আবার কখনো কখনো আমাদের বনে শুয়ে থাকতে হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বন্য পশু ছিল।

বুঝতেই পারছেন, বহু বিপদে আমাদের পড়তে হয়েছে। তবে কঠিন সংকল্প থেকে আমরা সামনের দিকে এগিয়েছি এবং সীমান্ত পাড়ি দিতে পেরেছি। এটা ভেবে অনেকটা স্বস্তি বোধ করছি যে, আমি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে। বাড়িতে ফিরলে যেকোনো মুহূর্তে আমাদের মৃত্যু হতে পারে। এখানে আমাদের জীবন নিরাপদ।

তবে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক এলাকা। আমরা এ দেশের কোনো কিছুই চিনি না। আমরা অশিক্ষিত এবং আমরা জানি না, এখানে কী করতে হবে। তাই মিয়ানমারে শান্তি ফিরে এলে আমরা নিজের পরিচিত জায়গা বাড়িতে ফিরে যেতে চাইব।

আমরা জানি রোহিঙ্গা সংকটের এই চিত্র সারা বিশ্ব দেখছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকারকে কেউ চাপ দিচ্ছে না। নিশ্চিতভাবেই তারা আসলে কোনো সমাধান চায় না। চাইলে আমরা এরই মধ্যে এটা দেখতাম। কেন সারা বিশ্বের দেশগুলো তাদের (মিয়ানমার সরকার) চাপ দিচ্ছে না।

বিশ্বের প্রতি আমার বার্তা হলো, সব মানুষই সমান, ধর্ম আমাদের আলাদা করে না। বৌদ্ধদের যেমন রক্ত-মাংস আছে, আমাদেরও তা-ই আছে। তাই তারা যদি মিয়ানমারে শান্তিতে ও অবাধে বসবাস করতে পারে, আমরা কেন পারব না। আমরা সবাই মানুষ, সবাই সমান হয়েই জন্ম নিই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিশ্ববাসীর কাছে এক রোহিঙ্গা মুসলিমের বার্তা

আপডেট সময় ১২:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলমান সহিংসতার মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডং শহর থেকে ১০ দিনে বাংলাদেশে এসেছেন ৩৩ বছর বয়সী রোহিঙ্গা মুসলিম মোহাম্মদ সোয়ে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজারের উখিয়ার উনচি প্রাঙ্ক শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে বসে আলজাজিরার প্রতিবেদককে পালিয়ে আসার আগের গল্প ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতার কাহিনী শুনিয়েছেন তিনি। পাঠকের জন্য তাঁর বক্তব্যের হুবহু ভাষান্তর করে দেওয়া হলো।

‘অন্য সব রোহিঙ্গার মতো আমিও বুথিডং পৌর এলাকার একজন কৃষক ছিলাম। আমাদের কাজের কিংবা শিক্ষার অধিকার নেই। তাই পুলিশ, সেনাবাহিনী কিংবা অন্য স্মার্ট দপ্তরে কাজের সুযোগ নেই আমাদের। আমাদের ক্ষেতে-খামারে কাজ করতে হয় কিংবা বাঁশ সংগ্রহের জন্য যেতে হয় বনে।

এটা অনেকটা দিন এনে দিনে খেয়ে বেঁচে থাকা। কোনো স্বাধীনতা ছাড়াই আমরা বেঁচেছিলাম। এভাবেই চলছিল আমাদের প্রতিটি দিন।

দুই সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধ লোকজন আমাদের গ্রামে এসে আমাদের দিকে গুলি ছুড়তে থাকে এবং একের পর এক আমাদের ঘরগুলো আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিতে থাকে। আমার ভাইয়ের মুখের দিকে গুলি লাগে এবং সেখানেই সে মারা যায়। বাকিদের সেখান থেকে পালাতে হয়েছে। নতুবা আমাদেরও মরতে হবে।

আমরা তখনো জানি না, কোথায় যাচ্ছি। টানা ১০ দিন হেঁটে অবশেষে আমরা অবশেষে বাংলাদেশে এসে পৌঁছালাম।

আমার মা ৮০ বছরের বৃদ্ধ, ভুগছেন প্যারালাইসিস ও শ্বাসকষ্টে। তাই পুরো পথে তাঁকে বহন করে নিয়ে আসতে হয়েছে আমাকে। আমরা নৌকায় করে তিনটা নদী পাড়ি দিয়েছি। বাকিটা হেঁটে এসেছি।

কখনো কখনো আমাদের সেনাবাহিনীর পাশ দিয়ে আসতে হয়েছে। তারা আমাদের দিকে গুলি ছুড়তে শুরু করত। আবার কখনো কখনো আমাদের বনে শুয়ে থাকতে হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বন্য পশু ছিল।

বুঝতেই পারছেন, বহু বিপদে আমাদের পড়তে হয়েছে। তবে কঠিন সংকল্প থেকে আমরা সামনের দিকে এগিয়েছি এবং সীমান্ত পাড়ি দিতে পেরেছি। এটা ভেবে অনেকটা স্বস্তি বোধ করছি যে, আমি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে। বাড়িতে ফিরলে যেকোনো মুহূর্তে আমাদের মৃত্যু হতে পারে। এখানে আমাদের জীবন নিরাপদ।

তবে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক এলাকা। আমরা এ দেশের কোনো কিছুই চিনি না। আমরা অশিক্ষিত এবং আমরা জানি না, এখানে কী করতে হবে। তাই মিয়ানমারে শান্তি ফিরে এলে আমরা নিজের পরিচিত জায়গা বাড়িতে ফিরে যেতে চাইব।

আমরা জানি রোহিঙ্গা সংকটের এই চিত্র সারা বিশ্ব দেখছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকারকে কেউ চাপ দিচ্ছে না। নিশ্চিতভাবেই তারা আসলে কোনো সমাধান চায় না। চাইলে আমরা এরই মধ্যে এটা দেখতাম। কেন সারা বিশ্বের দেশগুলো তাদের (মিয়ানমার সরকার) চাপ দিচ্ছে না।

বিশ্বের প্রতি আমার বার্তা হলো, সব মানুষই সমান, ধর্ম আমাদের আলাদা করে না। বৌদ্ধদের যেমন রক্ত-মাংস আছে, আমাদেরও তা-ই আছে। তাই তারা যদি মিয়ানমারে শান্তিতে ও অবাধে বসবাস করতে পারে, আমরা কেন পারব না। আমরা সবাই মানুষ, সবাই সমান হয়েই জন্ম নিই।’