ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রূপগঞ্জে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নতুন রাষ্ট্রপতি দিয়ে সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হবে: উমামা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় ছাত্রলীগ নেতা সুবিধা বঞ্চিত নারী ও শিশুদের নিয়ে ইফতার করলেন ডা. জুবাইদা রহমান ফিলিস্তিন ভূখণ্ড দখলে ইসরায়েলি আইনের তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার স্বচ্ছতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায়: আসাদুজ্জামান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর সাকিবকে খেলতে না দেওয়া দুর্নীতি হলে শাস্তি পেতে রাজি: আসিফ মাহমুদ পাকিস্তানের ‘ঘাড় মটকে’ দেয়ার হুঁশিয়ারি আফগানিস্তানের নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুল

টিভি সিরিয়াল দেখেই চাচাকে হত্যার কৌশল রপ্ত করেন ভাতিজা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সম্প্রতি চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় নিহত সিদ্দিকুর রহমানের (৩৫) মরদেহ। এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি সারোয়ার আলম (২৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতার হওয়া আসামি ইতোমধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এই নিয়ে বুধবার চাঁদপুরে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিহত সিদ্দিকুর রহমান হত্যার কারণ তুলে ধরা হয়।

পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর কুমার জানান, পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১০ নভেম্বর কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকার একটি বাড়িতে সারোয়ার আলম তার সহযোগীকে নিয়ে নিকটাত্মীয় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি সিদ্দিকুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ড্রামে করে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সড়কের পাশে ফেলে যায়। এই ঘটনার পর পেশায় ফ্রিজ মিস্ত্রি সারোয়ার আলম কৌশলে আত্মগোপন করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গত সোমবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় নিহত সিদ্দিকুর রহমানের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মুঠোফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সামগ্রীও উদ্ধার করে পিবিআই। পিবিআই’র এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার শিকার সিদ্দিকুর রহমান এবং আসামি সারোয়ার আলমের বাড়ি কুমিল্লা সদরের কাজীপাড়া এলাকায়। সম্পর্কে তারা ছিলেন চাচা ও ভাতিজা।

ভাতিজা সারোয়ার আলম তার চাচার কাছে নিজের বসতঘরে আসা যাওয়ার সড়কের জন্য ১০ ফুট জায়গা দাবি করেন। এতে চাচা সিদ্দিকুর রহমান তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এই নিয়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়। আর গত ৯ মাস আগে এমন আব্দার করে ব্যর্থ হয়ে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল দেখে দেখে চাচাকে হত্যার কৌশল রপ্ত করেন ভাতিজা সারোয়ার আলম।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ নভেম্বর কুমিল্লা বিশ্বরোডের পাশে পদুয়ার বাজারের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে কাবু করে সিদ্দিকুর রহমানকে। পরে ধারাল চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে শনাক্ত করতে না পারে- তার জন্য নিহতের দুই হাতের বুড়ো আঙুল থেঁতলে দেওয়া হয়। পরে নিহতের লাশ চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার রাজাপুর এলাকায় ফেলে গা ঢাকা দেয় সারোয়ার আলম ও তার আরেক সহযোগী।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর কুমার আরও জানান, চাচাকে কিভাবে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়-তা পুলিশ এবং আদালতের কাছে অকপটে স্বীকার করেছেন সারোয়ার আলম। আর এই ঘটনায় জড়িত অন্যজনকেও খোঁজা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে চাঁদপুরে পিবিআইয়ে কর্মরত অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ঘটনার দায় স্বীকার করে চাঁদপুরের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামি সারোয়ার আলমকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলা পিবিআই তদন্ত করলেও নিহতের মা লুৎফুন্নাহার শাহরাস্তি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

প্রসঙ্গত, নিহত সিদ্দিকুর রহমান প্রথম স্ত্রী রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাকে হত্যার পর পরিবারের ধারণা ছিল প্রথম স্ত্রী প্রতিশোধ নিতে স্বামীকে হত্যা করেছে। তবে পিবিআই হত্যায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেফতার করার পর নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের জট উম্মোচিত হল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রূপগঞ্জে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

টিভি সিরিয়াল দেখেই চাচাকে হত্যার কৌশল রপ্ত করেন ভাতিজা!

আপডেট সময় ১২:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সম্প্রতি চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় নিহত সিদ্দিকুর রহমানের (৩৫) মরদেহ। এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি সারোয়ার আলম (২৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতার হওয়া আসামি ইতোমধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এই নিয়ে বুধবার চাঁদপুরে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিহত সিদ্দিকুর রহমান হত্যার কারণ তুলে ধরা হয়।

পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর কুমার জানান, পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১০ নভেম্বর কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকার একটি বাড়িতে সারোয়ার আলম তার সহযোগীকে নিয়ে নিকটাত্মীয় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি সিদ্দিকুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ড্রামে করে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সড়কের পাশে ফেলে যায়। এই ঘটনার পর পেশায় ফ্রিজ মিস্ত্রি সারোয়ার আলম কৌশলে আত্মগোপন করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গত সোমবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় নিহত সিদ্দিকুর রহমানের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মুঠোফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সামগ্রীও উদ্ধার করে পিবিআই। পিবিআই’র এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার শিকার সিদ্দিকুর রহমান এবং আসামি সারোয়ার আলমের বাড়ি কুমিল্লা সদরের কাজীপাড়া এলাকায়। সম্পর্কে তারা ছিলেন চাচা ও ভাতিজা।

ভাতিজা সারোয়ার আলম তার চাচার কাছে নিজের বসতঘরে আসা যাওয়ার সড়কের জন্য ১০ ফুট জায়গা দাবি করেন। এতে চাচা সিদ্দিকুর রহমান তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এই নিয়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়। আর গত ৯ মাস আগে এমন আব্দার করে ব্যর্থ হয়ে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল দেখে দেখে চাচাকে হত্যার কৌশল রপ্ত করেন ভাতিজা সারোয়ার আলম।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ নভেম্বর কুমিল্লা বিশ্বরোডের পাশে পদুয়ার বাজারের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে কাবু করে সিদ্দিকুর রহমানকে। পরে ধারাল চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে শনাক্ত করতে না পারে- তার জন্য নিহতের দুই হাতের বুড়ো আঙুল থেঁতলে দেওয়া হয়। পরে নিহতের লাশ চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার রাজাপুর এলাকায় ফেলে গা ঢাকা দেয় সারোয়ার আলম ও তার আরেক সহযোগী।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর কুমার আরও জানান, চাচাকে কিভাবে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়-তা পুলিশ এবং আদালতের কাছে অকপটে স্বীকার করেছেন সারোয়ার আলম। আর এই ঘটনায় জড়িত অন্যজনকেও খোঁজা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে চাঁদপুরে পিবিআইয়ে কর্মরত অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ঘটনার দায় স্বীকার করে চাঁদপুরের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামি সারোয়ার আলমকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলা পিবিআই তদন্ত করলেও নিহতের মা লুৎফুন্নাহার শাহরাস্তি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

প্রসঙ্গত, নিহত সিদ্দিকুর রহমান প্রথম স্ত্রী রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাকে হত্যার পর পরিবারের ধারণা ছিল প্রথম স্ত্রী প্রতিশোধ নিতে স্বামীকে হত্যা করেছে। তবে পিবিআই হত্যায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেফতার করার পর নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের জট উম্মোচিত হল।