আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) উত্তেজনা কমাতে একমত হয়েছে ভারত এবং চীন। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, গত শুক্রবার কোর কমান্ডার স্তরের অষ্টম দফার বৈঠকে প্যাংগং হ্রদ লাগোয়া অঞ্চলে ‘মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা পেছানো’ (ডিসএনগেজমেন্ট) এবং ‘সেনা সংখ্যা কমানো’ (ডিএসক্যালেশন) সংক্রান্ত তিনটি পদক্ষেপের বিষয়ে ‘ইতিবাচক আলোচনা’ হয়েছে। খবর আনন্দবাজারের।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল-মে মাসের আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে একমত হয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্যাংগং এলাকায় ডিসএনগেজমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু সিদ্ধান্তও নেন তারা। পূর্ব লাদাখের ওই এলাকায় দুই বাহিনী এখন ট্যাংক ও সাঁজোয়া গাড়িসহ (ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকল) নানা ভারী সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সেগুলো পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ের পদক্ষেপের মূল বিষয় প্যাংগং হ্রদের উত্তর তীরে ডিএসক্যালেশন প্রক্রিয়া। একটি সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থার দাবি, সেখান থেকে প্রতিদিন ৩০ শতাংশ করে সেনা সংখ্যা কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয়পক্ষ। আলোচনায় স্থির হয়েছে, ভারতীয় ফৌজ তাদের ধন সিংহ থাপা পোস্ট লাগোয়া উঁচু অবস্থানে থাকবে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ফিঙ্গার এরিয়া-৮-এর কিছুটা পূর্বে সরে যাবে।
প্রসঙ্গত, প্যাংগং হ্রদের উত্তরে ফিঙ্গার-৫ থেকে ফিঙ্গার-৮ পর্যন্ত এলাকায় ভারতীয় সেনা যাতে আগের মতো টহল দিতে পারে, সেই দাবি শুক্রবারের বৈঠকে। এপ্রিল পর্যন্ত ওই পথে টহল দিত ভারতীয় সেনা। কিন্তু এরপর চীনা সেনা হ্রদের তীর বরাবর ফিঙ্গার-৫ পেরিয়ে এগিয়ে আসে।
তৃতীয় পর্যায়ে ‘সংঘাতের নয়া ক্ষেত্র’, প্যাগংয়ের দক্ষিণ তীরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেনা পেছানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে ওই খবরে দাবি করা হয়।
বৈঠকে তিন দফা ডিসএনগেজমেন্ট এবং ডিএসক্যালেশন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য যৌথভাবে চালকহীন বিমান ব্যবহারের বিষয়ে দুই তরফই সম্মতি দিয়েছে। তবে গালওয়ান পর্বের কথা মাথায় রেখে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির বিষয়ে তাড়াহুড়া করতে চাইছে না নয়াদিল্লি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 










