ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখে কক্সবাজার থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা মুসলিম নাগরিকদের দেখতে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় আসেন রিজেপ তায়িপ এরদোয়ানের স্ত্রী।

দুপুরে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যান এমিনে। সেখান থেকে ফিরে সন্ধ্যায় তিনি যান গণভবনে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে। দুজনের সাক্ষাত শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও এটা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর দায়িত্ব নিতে হবে।”

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মানবিক আচরণের কথাও তুরস্কের ফার্স্ট লেডিকে জানান শেখ হাসিনা। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশকে প্রশংসা করেন ইউরোপের মুসলিম দেশটির ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান। রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানে তুরস্ক আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানান তিনি।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার পর সেখানে নতুন করে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। জাতিসংঘের হিসাবে, দেড় লক্ষাধিক মানুষ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মারছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এরপরই বাংলাদেশ সফরে এলেন তার স্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের ফার্স্ট লেডির সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশের তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওজটার্ক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:২০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখে কক্সবাজার থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা মুসলিম নাগরিকদের দেখতে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় আসেন রিজেপ তায়িপ এরদোয়ানের স্ত্রী।

দুপুরে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যান এমিনে। সেখান থেকে ফিরে সন্ধ্যায় তিনি যান গণভবনে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে। দুজনের সাক্ষাত শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও এটা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর দায়িত্ব নিতে হবে।”

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মানবিক আচরণের কথাও তুরস্কের ফার্স্ট লেডিকে জানান শেখ হাসিনা। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশকে প্রশংসা করেন ইউরোপের মুসলিম দেশটির ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান। রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানে তুরস্ক আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানান তিনি।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার পর সেখানে নতুন করে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। জাতিসংঘের হিসাবে, দেড় লক্ষাধিক মানুষ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মারছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এরপরই বাংলাদেশ সফরে এলেন তার স্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের ফার্স্ট লেডির সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশের তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওজটার্ক।