ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

এই হারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া সংকটজনক হয়ে উঠবে: জাতিসংঘ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা পুরুষদের দেখা মাত্রই গুলি ও নারীদের নির্বিচারে ধর্ষণ, গ্রামের পর গ্রাম অগ্নিসংযোগের মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭৩ হাজারে পৌঁছেছে বলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে এই হারে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসতে থাকলে তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া সংকটজনক হয়ে উঠবে। জটিল এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

এখনো অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার পথে রয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নারী। স্কুল, মাদ্রাসা, খোলাস্থানে তারা আশ্রয় নিচ্ছে। রেডক্রিসেন্ট বলছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডের তন্দু এলাকায় প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান দাঁড়িয়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির এক কর্তা সেলিম আহমেদ।

গার্ডিয়ানের এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে, আরাকান বা রাখাইনে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের শব্দ আসছে, গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়ছে। ধোঁয়ার কুন্ডলী বর্ষার ধুসর আকাশে কালো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। রোহিঙ্গা মুসলমানরা জীবন বাঁচাতে ছুটছেন বাংলাদেশে, মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি ঝুঁকি আরো বাড়ছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও রোহিঙ্গা মিলিশিয়াদের মধ্যে সংঘর্ষে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বলছেন, তাদের গ্রামগুলো ঘেরাও করে একের পর এক আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বৌদ্ধ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বেসামকির নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করছে। গত ৯দিন ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জনপ্রবাহ ছুটে আসছে বাংলাদেশে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান দাঁড়িয়ে আছে নোম্যানস ল্যান্ডে। যে ৪’শ রোহিঙ্গ বিদ্রোহীকে হত্যার কথা স্বীকার করছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তাদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার, হামলার কোনো তথ্য প্রমাণ কিংবা তাদের কোনো তৎপরতার বিস্তারিত কিছুই প্রকাশ করছে না মিয়ানমার সরকার।

এই রকম পরিস্থিতির মধ্যে দেখা যায় ঈদের জামায়াতে কিছু রোহিঙ্গা মুসলমান অংশ নিয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র ভিভিয়ান তান বিবিসি’কে বলছেন, গত শুক্রবার অন্তত ২০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্যে ঢুকে পড়ে। তারা বলছেন, প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে বাধ্য হচ্ছি আসতে। করিম নামে এক রোহিঙ্গা যুবক বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা আমাদের ঘর বাড়িতে আগুন দিচ্ছে, আমাদের আগুনে পুড়িয়ে মারছে। আমার গ্রামে ১১০ জন রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যা করার পর বাংলাদেশে পরিবার নিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। করিমের গ্রামের নাম কুন্নাপাড়া। উপকূলীয় শহর মংগদুর কাছেই গ্রামটি।

করিম জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সবকিছু ধ্বংস করছে। দোকানপাট ও বাড়িঘর যা কিছু সামনে পড়ছে সব কিছু। ৮দিনের শিশুকে নিয়ে আমার পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। সঙ্গে রয়েছেন আমার বৃদ্ধ মা যার বয়স ১০৫ বছর।

করিমের এসব কথার প্রমাণ মেলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উপগ্রহ থেকে তোলা রোহিঙ্গা গ্রামের ৭’শ বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ছবি থেকে। কক্সবাজারের ডেপুটি কমিশনার আলী হোসেইন জানান, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশকে এখন রীতিমত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

এই হারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া সংকটজনক হয়ে উঠবে: জাতিসংঘ

আপডেট সময় ১১:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা পুরুষদের দেখা মাত্রই গুলি ও নারীদের নির্বিচারে ধর্ষণ, গ্রামের পর গ্রাম অগ্নিসংযোগের মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭৩ হাজারে পৌঁছেছে বলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে এই হারে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসতে থাকলে তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া সংকটজনক হয়ে উঠবে। জটিল এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

এখনো অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার পথে রয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নারী। স্কুল, মাদ্রাসা, খোলাস্থানে তারা আশ্রয় নিচ্ছে। রেডক্রিসেন্ট বলছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডের তন্দু এলাকায় প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান দাঁড়িয়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির এক কর্তা সেলিম আহমেদ।

গার্ডিয়ানের এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে, আরাকান বা রাখাইনে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের শব্দ আসছে, গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়ছে। ধোঁয়ার কুন্ডলী বর্ষার ধুসর আকাশে কালো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। রোহিঙ্গা মুসলমানরা জীবন বাঁচাতে ছুটছেন বাংলাদেশে, মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি ঝুঁকি আরো বাড়ছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও রোহিঙ্গা মিলিশিয়াদের মধ্যে সংঘর্ষে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বলছেন, তাদের গ্রামগুলো ঘেরাও করে একের পর এক আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বৌদ্ধ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বেসামকির নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করছে। গত ৯দিন ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জনপ্রবাহ ছুটে আসছে বাংলাদেশে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান দাঁড়িয়ে আছে নোম্যানস ল্যান্ডে। যে ৪’শ রোহিঙ্গ বিদ্রোহীকে হত্যার কথা স্বীকার করছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তাদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার, হামলার কোনো তথ্য প্রমাণ কিংবা তাদের কোনো তৎপরতার বিস্তারিত কিছুই প্রকাশ করছে না মিয়ানমার সরকার।

এই রকম পরিস্থিতির মধ্যে দেখা যায় ঈদের জামায়াতে কিছু রোহিঙ্গা মুসলমান অংশ নিয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র ভিভিয়ান তান বিবিসি’কে বলছেন, গত শুক্রবার অন্তত ২০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্যে ঢুকে পড়ে। তারা বলছেন, প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে বাধ্য হচ্ছি আসতে। করিম নামে এক রোহিঙ্গা যুবক বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা আমাদের ঘর বাড়িতে আগুন দিচ্ছে, আমাদের আগুনে পুড়িয়ে মারছে। আমার গ্রামে ১১০ জন রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যা করার পর বাংলাদেশে পরিবার নিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। করিমের গ্রামের নাম কুন্নাপাড়া। উপকূলীয় শহর মংগদুর কাছেই গ্রামটি।

করিম জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সবকিছু ধ্বংস করছে। দোকানপাট ও বাড়িঘর যা কিছু সামনে পড়ছে সব কিছু। ৮দিনের শিশুকে নিয়ে আমার পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। সঙ্গে রয়েছেন আমার বৃদ্ধ মা যার বয়স ১০৫ বছর।

করিমের এসব কথার প্রমাণ মেলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উপগ্রহ থেকে তোলা রোহিঙ্গা গ্রামের ৭’শ বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ছবি থেকে। কক্সবাজারের ডেপুটি কমিশনার আলী হোসেইন জানান, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশকে এখন রীতিমত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।