ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের একটা বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না: শফিকুর রহমান ‘একটি দল দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে’ বিএনপি সরকার কোনো সময় হারিয়ে যায় না: তথ্যমন্ত্রী সাবেক ডিসি সারওয়ারকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে চিঠি অতীতের সরকার ভোট চুরি করত, এই সরকার ফল চুরি করেছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : ডিএনসিসি প্রশাসক দেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত নাম থেকে বাবার পদবি মুছে ফেললেন নেতানিয়াহুর ছেলে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

দেশে করোনার ২য় পর্যায়ের ধাক্কা আসতে পারে : ডা. বেনজির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে দ্বিতীয় পর্যায়ের ধাক্কা লাগতে পারে বলে গণমাধ্যমে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ। দীর্ঘ সময় ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বাংলাদেশে নিম্নমুখী না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি একথা বলেন।

ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, যেসব দেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, তারা যে কাজগুলো সঠিকভাবে করেছে আমরা সেই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে না পারার কারণেই আমাদের দেশে করোনাভাইরাস দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও নিম্নগামী হচ্ছে না। এক্ষেত্রে চীনের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। চীন খুব কম সময়ে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করছে। চীন থেকেই করোনা ভাইরাসের শুরু হয়। চীনের আগে কোনো দেশেতো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়নি।

‘করোনাভাইরাস সম্পর্কে চীনের কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। তারপরেও তারা তো খুব কম সময়েই করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে। দেড়শ কোটি লোকের বাসস্থান চীনে, তারা করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেললো। চীন কী করেছে- ট্রেসিং, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন এবং লকডাউন। পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম অস্ট্রেলিয়া সঠিকভাবে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে। এই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে না পারার কারণেই আমরা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।

করোনাভাইরাস বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে হয়তো করোনাভাইরাসের সেকেন্ডারি একটা ওয়েব আসতে পারে। আমাদের দেশের চিত্রটা হয়তো যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ভারতের মতো হতে পারে। কিছুদিন করোনাভাইরাস দম ধরে থেকে আবারো ঊর্ধ্বগতিতে যেতে পারে। আমরা একদিকে ট্রেসিং করতে পারছি না, আক্রান্ত ব্যক্তিদের ট্রেসিং করে আইসোলেটেড করা, কোয়ারেন্টিন করা, তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছিল তাদের আইডেন্টিফাই করা, এগুলোর কোনটাই সঠিক ভাবে হচ্ছে না।

‘করোনাভাইরাসের মতো একটা জীবাণু, সেটাতো আর বসে থাকবে না। লোকজনের মাস্ক পরা কমে যাচ্ছে, অফিস আদালত খুলে যাচ্ছে, পরিবহনও চলছে। তাহলে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে করোনাভাইরাস যদি নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে, সংক্রমণের ক্ষমতা কমিয়ে না ফেলে, তাহলে বাংলাদেশ সেকেন্ডারি একটা ওয়েবের দিকে যাবে। ’

বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য করণীয় জানতে চাইলে আইইডিসিআরের সাবেক এ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কিছুটা আক্ষেপ করে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য করণীয় বিষয় আমরাতো বহুবার বলেছি। আমরাতো বলেই যাচ্ছি, কিন্তু যারা প্রয়োগ করার কথা তারাতো কানে তুলো দিয়ে বসে আছে। এখন সব থেকে জরুরি হলো করোনাভাইরাসের হট স্পটগুলোতে অনুসন্ধান চালানো, কারা ওইসব স্পটের লোকজনের সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের ট্রেস করা। এখন জরুরিভিত্তিতে এন্টিজেন কিট দিয়ে দ্রুত করোনাভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা করা। বাড়িতে বসেই যেন ১৫ মিনিটের মধ্যেই করোনা আক্রান্তদের শনাক্ত করা যায়।

‘এরপর আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আইসোলেটেড করার ব্যবস্থা করা। ঠিক একইভাবে যারা করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের কোয়ারেন্টিন করা। মানুষের চলাচল সীমিত করা। ঠিক যেমনটা আমরা পূর্ব রাজাবাজার ও ওয়ারীতে করেছি। এগুলোর কোনোটাই তো এখন হচ্ছে না। আমরা শুধু বলেই যাচ্ছি। কিন্তু করার কেউ নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের একটা বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না: শফিকুর রহমান

দেশে করোনার ২য় পর্যায়ের ধাক্কা আসতে পারে : ডা. বেনজির

আপডেট সময় ১২:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে দ্বিতীয় পর্যায়ের ধাক্কা লাগতে পারে বলে গণমাধ্যমে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ। দীর্ঘ সময় ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বাংলাদেশে নিম্নমুখী না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি একথা বলেন।

ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, যেসব দেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, তারা যে কাজগুলো সঠিকভাবে করেছে আমরা সেই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে না পারার কারণেই আমাদের দেশে করোনাভাইরাস দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও নিম্নগামী হচ্ছে না। এক্ষেত্রে চীনের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। চীন খুব কম সময়ে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করছে। চীন থেকেই করোনা ভাইরাসের শুরু হয়। চীনের আগে কোনো দেশেতো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়নি।

‘করোনাভাইরাস সম্পর্কে চীনের কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। তারপরেও তারা তো খুব কম সময়েই করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে। দেড়শ কোটি লোকের বাসস্থান চীনে, তারা করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেললো। চীন কী করেছে- ট্রেসিং, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন এবং লকডাউন। পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম অস্ট্রেলিয়া সঠিকভাবে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে। এই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে না পারার কারণেই আমরা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।

করোনাভাইরাস বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে হয়তো করোনাভাইরাসের সেকেন্ডারি একটা ওয়েব আসতে পারে। আমাদের দেশের চিত্রটা হয়তো যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ভারতের মতো হতে পারে। কিছুদিন করোনাভাইরাস দম ধরে থেকে আবারো ঊর্ধ্বগতিতে যেতে পারে। আমরা একদিকে ট্রেসিং করতে পারছি না, আক্রান্ত ব্যক্তিদের ট্রেসিং করে আইসোলেটেড করা, কোয়ারেন্টিন করা, তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছিল তাদের আইডেন্টিফাই করা, এগুলোর কোনটাই সঠিক ভাবে হচ্ছে না।

‘করোনাভাইরাসের মতো একটা জীবাণু, সেটাতো আর বসে থাকবে না। লোকজনের মাস্ক পরা কমে যাচ্ছে, অফিস আদালত খুলে যাচ্ছে, পরিবহনও চলছে। তাহলে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে করোনাভাইরাস যদি নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে, সংক্রমণের ক্ষমতা কমিয়ে না ফেলে, তাহলে বাংলাদেশ সেকেন্ডারি একটা ওয়েবের দিকে যাবে। ’

বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য করণীয় জানতে চাইলে আইইডিসিআরের সাবেক এ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কিছুটা আক্ষেপ করে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য করণীয় বিষয় আমরাতো বহুবার বলেছি। আমরাতো বলেই যাচ্ছি, কিন্তু যারা প্রয়োগ করার কথা তারাতো কানে তুলো দিয়ে বসে আছে। এখন সব থেকে জরুরি হলো করোনাভাইরাসের হট স্পটগুলোতে অনুসন্ধান চালানো, কারা ওইসব স্পটের লোকজনের সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের ট্রেস করা। এখন জরুরিভিত্তিতে এন্টিজেন কিট দিয়ে দ্রুত করোনাভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা করা। বাড়িতে বসেই যেন ১৫ মিনিটের মধ্যেই করোনা আক্রান্তদের শনাক্ত করা যায়।

‘এরপর আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আইসোলেটেড করার ব্যবস্থা করা। ঠিক একইভাবে যারা করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের কোয়ারেন্টিন করা। মানুষের চলাচল সীমিত করা। ঠিক যেমনটা আমরা পূর্ব রাজাবাজার ও ওয়ারীতে করেছি। এগুলোর কোনোটাই তো এখন হচ্ছে না। আমরা শুধু বলেই যাচ্ছি। কিন্তু করার কেউ নেই।