ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্কুলপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে পাকিস্তানে যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০ ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্প কে, প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের সংসদে ক্ষোভ ঝাড়লেন হাসনাত আব্দুল্লাহ উন্নয়নমূলক কাজে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে: ডেপুটি স্পিকার দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব সংস্কৃতিচর্চায় শিক্ষার্থীদের উগ্র চিন্তার প্রতি আকর্ষণ কমে যায় : ববি হাজ্জাজ সংকট না থাকলে রাস্তায় তেলের জন্য ৩ কিমি লম্বা লাইন কেন, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

রূপার ছোট বোনের চাকরি সরকারি অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগসে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার জাকিয়া সুলতানা রূপার ছোট বোন মাশরুফা আক্তার পপিকে সরকারি ওষুধ কম্পানি অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগসে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

আজ শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নিহতের বাড়িতে গিয়ে মা, ভাই ও বোনসহ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন তিনি। এ সময় নিহতের ছোট বোনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকে বায়োডাটা গ্রহণ করেন এবং নগদ এক লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

একই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন নগদ ৫০ হাজার, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ২৫ হাজার ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হক ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। এর আগেও সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ নিহতের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

রূপার বাড়ির চারদিকে বন্যার পানি থাকায় তৎসংলগ্ন একটি বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিহতের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং পাশের একটি ফাঁকা স্থানে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত শোক ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থী রূপাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যারা জড়িত পুলিশ ইতিমধ্যে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে এবং তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। এ অবস্থায় আসামিরা যাতে দ্রুত শাস্তি পায়, সে বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভামঞ্চ থেকে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আইনমন্ত্রীও সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, “এর আগে শাহজাদপুরে সাংবাদিক খুনের ঘটনায় তার স্ত্রীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে, রূপার বোনকেও চাকরি দেওয়া হবে। আপনারা মনে রাখবেন, বর্তমান সরকার সকল বিপদ-আপদে মানুষের পাশে আছে এবং আগামীতেও থাকবে।”

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, তাড়াশ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হক, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কর্মকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। বক্তারা সবাই বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে করে গত ২৫ আগস্ট রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বাসের চালক, সুপারভাইজার ও তিন হেলপার মিলে রূপাকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের রাস্তার পাশে লাশ ফেলে যায়। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় ওই তার লাশ পাওয়ার পর হত্যার আলামত থাকায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে মধুপুর থানা পুলিশ। কিন্তু পরিচয় জানতে না পারায় ময়নাতদন্ত শেষে পরের দিন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করা হয়।

গণমাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে মধুপুর থানায় গিয়ে ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করে তার পরিবার। পরে রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এরপর গ্রেপ্তার ছোঁয়া পরিবহনের চালক ময়মনসিংহের হাবিবুর রহমান, সুপারভাইজার সফর আলী এবং চালকের তিন সহকারী শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে তারা টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে রয়েছে।

এ অবস্থায় প্রশাসনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুনরায় রূপার লাশ উত্তোলনের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাতে পাবিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ রূপা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জেলহক প্রামানিকের মেয়ে। ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজে পড়ালেখা করার পাশাপাশি তিনি ময়মনসিংহ জেলা সদরে একটি কম্পানির প্রোমোশনাল ডিভিশনে কাজ করছিলেন তিনি। বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ময়মনসিংহে ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন ওই তরুণী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

স্কুলপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ

রূপার ছোট বোনের চাকরি সরকারি অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগসে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:১২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার জাকিয়া সুলতানা রূপার ছোট বোন মাশরুফা আক্তার পপিকে সরকারি ওষুধ কম্পানি অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগসে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

আজ শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নিহতের বাড়িতে গিয়ে মা, ভাই ও বোনসহ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন তিনি। এ সময় নিহতের ছোট বোনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকে বায়োডাটা গ্রহণ করেন এবং নগদ এক লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

একই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন নগদ ৫০ হাজার, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ২৫ হাজার ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হক ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। এর আগেও সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ নিহতের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

রূপার বাড়ির চারদিকে বন্যার পানি থাকায় তৎসংলগ্ন একটি বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিহতের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং পাশের একটি ফাঁকা স্থানে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত শোক ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থী রূপাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যারা জড়িত পুলিশ ইতিমধ্যে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে এবং তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। এ অবস্থায় আসামিরা যাতে দ্রুত শাস্তি পায়, সে বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভামঞ্চ থেকে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আইনমন্ত্রীও সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, “এর আগে শাহজাদপুরে সাংবাদিক খুনের ঘটনায় তার স্ত্রীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে, রূপার বোনকেও চাকরি দেওয়া হবে। আপনারা মনে রাখবেন, বর্তমান সরকার সকল বিপদ-আপদে মানুষের পাশে আছে এবং আগামীতেও থাকবে।”

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, তাড়াশ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হক, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কর্মকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। বক্তারা সবাই বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে করে গত ২৫ আগস্ট রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বাসের চালক, সুপারভাইজার ও তিন হেলপার মিলে রূপাকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের রাস্তার পাশে লাশ ফেলে যায়। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় ওই তার লাশ পাওয়ার পর হত্যার আলামত থাকায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে মধুপুর থানা পুলিশ। কিন্তু পরিচয় জানতে না পারায় ময়নাতদন্ত শেষে পরের দিন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করা হয়।

গণমাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে মধুপুর থানায় গিয়ে ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করে তার পরিবার। পরে রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এরপর গ্রেপ্তার ছোঁয়া পরিবহনের চালক ময়মনসিংহের হাবিবুর রহমান, সুপারভাইজার সফর আলী এবং চালকের তিন সহকারী শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে তারা টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে রয়েছে।

এ অবস্থায় প্রশাসনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুনরায় রূপার লাশ উত্তোলনের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাতে পাবিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ রূপা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জেলহক প্রামানিকের মেয়ে। ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজে পড়ালেখা করার পাশাপাশি তিনি ময়মনসিংহ জেলা সদরে একটি কম্পানির প্রোমোশনাল ডিভিশনে কাজ করছিলেন তিনি। বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ময়মনসিংহে ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন ওই তরুণী।