ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আমিরাতের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ইরান-কাতারের সন্দেহ?

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

মঙ্গলগ্রহে অনুসন্ধানী রকেট পাঠানোর দুই সপ্তাহের মধ্যে শনিবার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম চুল্লিটি চালু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

আমিরাত বলছে, দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চারটি চুল্লিই চালু হওয়ার পর এখান থেকে ৫.৬ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে যা দিয়ে দেশের ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হবে। বিবিসি জানিয়েছে, ২০১২ সালে ২০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর থেকেই এর যৌক্তিকতা, ঝুঁকি এবং উদ্দেশ্য নিয়ে উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে তো বটেই, আন্তর্জাতিক মহলেও সন্দেহ-বিতর্ক চলছে।

বিশেষ করে কাতার এবং ইরানের গভীর সন্দেহ যে, আমিরাতের মূল লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি। কারণ এই দেশটি দিনদিন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাতে যুক্ত হচ্ছে যার প্রমাণ লিবিয়া এবং ইয়েমেন।

গত বছর কাতার জাতিসংঘ আণবিক সংস্থার (আইএইএ) কাছে লিখিত আপত্তিপত্রে বারাকা পারমাণবিক স্থাপনাকে ‘আঞ্চলিক শান্তি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি’ বলে বর্ণনা করে।

কাতার বলেছে, যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হলে তেজস্ক্রিয় উপাদান ১৩ ঘণ্টার মধ্যে তাদের রাজধানীতে চলে আসবে।

শনিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার পর এখনো কাতার বা ইরানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া শোনা যায়নি। কিন্তু তারা যে ক্ষোভে ফুঁসছে তা নিয়ে কারো সন্দেহ নেই।

আমিরাত অবশ্য জোর দিয়ে বলে যাচ্ছে, উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কারণ নেই, তারা শুধুই তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায়। আইএইএর সঙ্গে বোঝাপড়ার ভেতর দিয়ে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখানে তারা নিজেরা ইউরেনিয়াম শোধন করবে না। শোধন করা জ্বালানি আসবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

আইএইএতে আমিরাতের প্রতিনিধি হামাদ আল কারবি জাপানের দৈনিক নিকেইকে শনিবার বলেন, ইউরেনিয়াম শোধনের পরিকল্পনা আমাদেও নেই। আমিরাতের কোনো সামরিক অভিলাষও নেই।

আল-জাজিরার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক স্থাপনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩টি হামলা হয়েছে যে সংখ্যা বিশ্বের অন্য যে কোনো অঞ্চলের তুলনায় বেশি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আমিরাতের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ইরান-কাতারের সন্দেহ?

আপডেট সময় ১২:৪৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

মঙ্গলগ্রহে অনুসন্ধানী রকেট পাঠানোর দুই সপ্তাহের মধ্যে শনিবার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম চুল্লিটি চালু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

আমিরাত বলছে, দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চারটি চুল্লিই চালু হওয়ার পর এখান থেকে ৫.৬ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে যা দিয়ে দেশের ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হবে। বিবিসি জানিয়েছে, ২০১২ সালে ২০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর থেকেই এর যৌক্তিকতা, ঝুঁকি এবং উদ্দেশ্য নিয়ে উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে তো বটেই, আন্তর্জাতিক মহলেও সন্দেহ-বিতর্ক চলছে।

বিশেষ করে কাতার এবং ইরানের গভীর সন্দেহ যে, আমিরাতের মূল লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি। কারণ এই দেশটি দিনদিন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাতে যুক্ত হচ্ছে যার প্রমাণ লিবিয়া এবং ইয়েমেন।

গত বছর কাতার জাতিসংঘ আণবিক সংস্থার (আইএইএ) কাছে লিখিত আপত্তিপত্রে বারাকা পারমাণবিক স্থাপনাকে ‘আঞ্চলিক শান্তি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি’ বলে বর্ণনা করে।

কাতার বলেছে, যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হলে তেজস্ক্রিয় উপাদান ১৩ ঘণ্টার মধ্যে তাদের রাজধানীতে চলে আসবে।

শনিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার পর এখনো কাতার বা ইরানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া শোনা যায়নি। কিন্তু তারা যে ক্ষোভে ফুঁসছে তা নিয়ে কারো সন্দেহ নেই।

আমিরাত অবশ্য জোর দিয়ে বলে যাচ্ছে, উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কারণ নেই, তারা শুধুই তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায়। আইএইএর সঙ্গে বোঝাপড়ার ভেতর দিয়ে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখানে তারা নিজেরা ইউরেনিয়াম শোধন করবে না। শোধন করা জ্বালানি আসবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

আইএইএতে আমিরাতের প্রতিনিধি হামাদ আল কারবি জাপানের দৈনিক নিকেইকে শনিবার বলেন, ইউরেনিয়াম শোধনের পরিকল্পনা আমাদেও নেই। আমিরাতের কোনো সামরিক অভিলাষও নেই।

আল-জাজিরার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক স্থাপনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩টি হামলা হয়েছে যে সংখ্যা বিশ্বের অন্য যে কোনো অঞ্চলের তুলনায় বেশি।